রেশন ব্যবস্থায় বড় রদবদল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষত ‘অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা’ (AAY)-র ক্ষেত্রে নিয়মে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে।
2
15
কেন্দ্রের এই নয়া পদক্ষেপে এ রাজ্যের পাশাপাশি গোটা দেশের কয়েক কোটি সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
3
15
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, অন্ত্যোদয় যোজনায় একটি পরিবারে সদস্য সংখ্যা যাই হোক না কেন, মাসে মোটের উপর ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য দেওয়া হয়। কিন্তু নয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিবারের প্রতিটি সদস্য পিছু মাসে ৭ কেজি করে রেশন মিলবে।
4
15
এক্ষেত্রে একটি শর্তও রাখা হয়েছে- কোনও পরিবারই মাসে সর্বাধিক ৩৫ কেজির বেশি খাদ্যশস্য পাবে না।
5
15
পুরনো নিয়মে একটি পরিবারে ৭-৮ জন সদস্য থাকলেও তাঁরা ওই ৩৫ কেজি রেশনই পেতেন। ফলে মাথাপিছু বরাদ্দ গিয়ে দাঁড়াত মাত্র ৪-৫ কেজিতে।
6
15
নতুন নিয়মে ৫ সদস্যের একটি পরিবার মাথাপিছু ৭ কেজি হিসেবে সহজেই ৩৫ কেজি রেশন পেয়ে যাবে। ছোট পরিবারগুলিও মাথাপিছু হিসেবে সম্পূর্ণ সুবিধাই পাবে।
7
15
তবে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ বা তার বেশি হলে ৩৫ কেজির ঊর্ধ্বসীমার কারণে তাঁদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
8
15
বর্তমানে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় থাকা সাধারণ উপভোক্তারা মাথাপিছু ৫ কেজি করে রেশন পান।
9
15
নতুন নিয়মে অন্ত্যোদয় উপভোক্তারা পাবেন ৭ কেজি করে। অর্থাৎ, সমাজের প্রান্তিক ও দরিদ্রতম মানুষরা আরও বেশি খাদ্য সুরক্ষা পাবেন।
10
15
সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, বিনামূল্যে চাল ও গম দেওয়ার যে ব্যবস্থা বর্তমানে চালু রয়েছে, তা নতুন নিয়মেও পুরোপুরি বহাল থাকবে। পরিবর্তন হচ্ছে কেবল বরাদ্দের পরিমাণ ও বণ্টন পদ্ধতিতে।
11
15
কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক জানিয়েছে, এই নতুন নীতির নেপথ্যে রয়েছে ‘হিউম্যান লাইফ সাইকেল অ্যাপ্রোচ’। অর্থাৎ, শিশু থেকে বৃদ্ধ- জীবনের প্রতিটি ধাপে মানুষের প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই বিলের মূল লক্ষ্য।
12
15
মন্ত্রক স্বীকার করে নিয়েছে যে, এতদিন পরিবারের আকার অনুযায়ী রেশন বণ্টনে বৈষম্য তৈরি হচ্ছিল। প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ মানুষের কাছে যাতে রেশনের সুবিধা পৌঁছয়, সেই লক্ষ্যেই এই নতুন সংস্কার।
13
15
সামগ্রিক ভাবে এটি দেশের দরিদ্র পরিবারগুলির পুষ্টি সুরক্ষায় একটি বড় মাইলফলক হতে পারে।
14
15
ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তনগুলি নিয়ে ‘জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা বিল ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রকাশ করেছে কেন্দ্র।
15
15
আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত এই খসড়ার ওপর সাধারণ মানুষের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে। ফলে সরকারি নীতি নির্ধারণে সরাসরি অংশ নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থাকছে দেশের নাগরিকদের কাছেও।