শিবরাত্রির পবিত্র সকালেই আতঙ্কের ছায়া নেমে এল টালিগঞ্জে। টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো-র লাগোয়া এক বহুতল আবাসনের পাঁচতলায় হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা ভবন, শুরু হয় হুড়োহুড়ি। আর সেই আবাসনেই থাকেন টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখ—পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র, অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত, অভিনেত্রী-সাংসদ নুসরত জাহান এবং অভিনেত্রী-রাজনীতিক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জানা গিয়েছে, বাতাসের দাপটে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় সিঁড়ি, করিডর—ফলে লিফটও বন্ধ হয়ে যায়। ছ’তলার ফ্ল্যাটে থাকা যশ-নুসরতের পরিবারসহ বহু আবাসিক দ্রুত নীচে নেমে আসেন। অন্যদিকে, আঠারো তলায় থাকা পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র তাঁর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে আপৎকালীন সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামেন।
আজকাল ডট ইন-কে শুভ্রজিৎ বললেন, “এইমুহূর্তে পরিস্থিতি একেবারে নিয়ন্ত্রণে। কেউ আহত হননি। সবাই নিরাপদে আছেন। আগুন লাগার মিনিট পনেরোর মধ্যে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন চলে আসে। ঘন্টাখানেক লেগেছিল আগুন নেভতে। একটা কথা বলা দরকার, আমাদের আবাসনে তো রক্ষনাবেক্ষণ কর্মীদের একটা দল সর্বক্ষণ থাকেন, তাঁরাও কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন আগুন নেভাতে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে আগুন এতটা ছড়িয়ে যায় ও কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা তাঁদের সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়।” তা কীভাবে লাগল আগুন? শুভ্রজিৎ বললেন, “যেটুকু শুনেছি, সেটুকুই বলতে পারি ,তবে আমি নিশ্চিত নই যে এটাই কারণ। যাই হোক, যা শুনছি তা হল পাঁচতলার ওই পরিবার শিবরাত্রির জন্য পুজো-আরতি করছিল। এরপর তাঁরা আরতির আগুন না নিভিয়েই নাকি আবাসন চত্বরের মন্দিরে পুজো দিতে যান। আর সেই আরতির আগুন থেকেই কোনওভাবে ছড়িয়ে পড়ে আগুন!”
&t=313s
আগুন নেভানোর পর বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও আতঙ্কের খানিক রেশ পাওয়া গেল যশের গলার স্বরে। আজকাল ডট ইন-কে অভিনেতা-প্রযোজক বললেন, “ আমরা সবাই ঠিক আছি। বাচ্চারাও একদম ঠিক আছে। প্রপার্টি ড্যামেজ ছাড়া আর কিছু হয়নি। কোনও মানুষ যে আহত হননি, এটাই সবথেকে বড় ব্যাপার। হ্যাঁ, আমাদের ফ্ল্যাটটি যেহেতু একেবারে ওই ফ্ল্যাটটির উপরের তলেই, ফলে বুঝতেই পারছেন আতঙ্কটা...। যাই হোক, সিঁড়ি দিয়ে তাড়াতাড়ি কোনওরকমে নেমে নীচে চলে গিয়েছিলাম সবাই। বহু আবাসিকরা-ই নীচে নেমে এসেছিলেন। এখন সব ঠিক আছে, সেটাই বাঁচোয়া।”
আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে যশও বললেন, “শুনলাম শিবরাত্রির পুজো করছিলেন ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। ঠাকুরঘরে আরতির আগুনের পাশ কর্পূরও ছিল। সব মিলিয়েই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আর সেই সময়ে তাঁরা সবাই যেহেতু আবাসনের মন্দিরে গিয়েছিলেন, ফলে প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোরও কেউ ছিলেন না দুর্ঘটনাস্থলে।”
















