বলিউডে নাকি একটা চেনা ছক আছে— একই রকমের চুল কাটুন, একই কায়দায় সংলাপ বলুন, পেশিসর্বস্ব চেহারা বানিয়ে পর্দায় শুধু ‘নায়ক’ সেজে মারপিট করুন, ব্যস! আর তার উপর যদি মাথায় বড় 'গডফাদার'-এর হাত থাকে, তাহলে তার 'তারকা' হওয়া কেউ আটকাতে পারবে না। খোদ বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খান নাকি এই টোটকা দিয়েই কেরিয়ার গড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন অভিনেতা রণদীপ হুডাকে। কিন্তু রণদীপ যে অন্য ধাতুতে গড়া! সলমনের সেই ‘সোনার ডিম পাড়া’ উপদেশ স্রেফ হেসে উড়িয়ে দিলেন ‘সর্বজিৎ’ ছবি খ্যাত এই অভিনেতা। সাফ জানিয়ে দিলেন, রোজ রোজ একঘেয়ে চরিত্র করার চেয়ে তিনি বরং গিরগিটির মতো রঙ বদলাতেই বেশি ভালবাসেন।
সম্প্রতি দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলিউডের ভেতরের এই হাঁড়িটি হাটে ভেঙেছেন রণদীপ। সলমন খান এবং তাঁর নিজের বাবা— দু’জনেই নাকি তাঁকে পর্দায় একটা নির্দিষ্ট ইমেজ তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
স্মৃতির সরণি বেয়ে রণদীপ বলেন, “সলমনের মূল উপদেশটাই ছিল, এমন কোনও চরিত্রে অভিনয় করো না যেখানে তোমাকে দেখতে নায়কের মতো লাগবে না। উপদেশটা কিন্তু খারাপ নয়। এমনকি আমার বাবাও একই কথা বলেন। সলমন আমাকে বলেছিল— 'তোমার উচিত সবসময় একই রকম লুক রাখা এবং একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা। এতে তোমার একটা চেনা ইমেজ তৈরি হবে এবং তুমি স্টার হতে পারবে।’”
সলমন খানের মতো তারকার এই ‘হিট টোটকা’ পেয়ে যেকোনো উঠতি অভিনেতার মাথা ঘুরে যাওয়ার কথা। কিন্তু রণদীপ হুডা হেঁটেছেন উল্টো রাস্তায়। কেন তিনি ভাইজানের কথা শুনলেন না? রণদীপের সোজাসাপটা জবাব, তিনি অভিনয়ের খিদে মেটাতে এসেছেন, শুধু জিম করতে বা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ডায়লগ বলতে আসেননি!
অভিনেতার কথায়, “আমি ওই উপদেশটা মানিনি কারণ আমার সবসময় মনে হয়েছে বারবার একই জিনিস করাটা ভীষণ বোরিং। আর ওটা আমি অন্তত কোনওদিন করতে চাইনি। স্টার হওয়া বা একটা চেনা ইমেজ থাকাটা খুব ভাল জিনিস, আমি সেটাকে খারাপ বলছি না। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে আপনি নিজেকে ফ্রেশ রাখবেন কীভাবে? তাহলে কি আপনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই অভিনয় করা শুরু করবেন? জিমটাই কি একমাত্র জায়গা হয়ে দাঁড়াবে যেখানে আপনি অনুশীলন করবেন?”
রণদীপ হুডা বলিউডের সেই বিরল অভিনেতাদের একজন, যাঁকে চট করে নকল করা যায় না। আর এটাকে তিনি নিজের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন। রণদীপ জানান, তিনি প্রতিটা চরিত্রের জন্য নিজের গলার আওয়াজ, কথা বলার ছন্দ এবং ডায়লগ ডেলিভারি সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন। ‘কিক’ ছবির সেই খ্যাপাটে পুলিশ অফিসার হিমাংশু কিংবা ‘সুলতান’ ছবির সেই খিটখিটে কড়া কোচ— সলমন খানের সঙ্গে দুই ছবিতেই স্ক্রিন শেয়ার করলেও প্রতিবারই রণদীপ নিজেকে ভেঙেছেন সম্পূর্ণ নতুনভাবে।
ভবিষ্যতে সলমনের মতো ‘কমার্শিয়াল হিরো’র চরিত্রে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে রণদীপ এখনই দরজা বন্ধ করছেন না। তবে এটুকু স্পষ্ট, ছকে বাঁধা স্টারডমের চেয়ে অভিনয়ের সূক্ষ্ম কারুকার্যই রণদীপের আসল ‘কিক’!














