পর্দায় তাঁর চাউনি দেখলে বাঘা বাঘা অপরাধীর হাত-পা কাঁপে। কপালে চিন্তার ভাঁজ, আর চোখে সেই চেনা গম্ভীর, থমথমে চাউনি—এটাই তো আদি-অকৃত্তিম অক্ষয় খান্না! অফ-স্ক্রিনেও বলিউডের অন্যতম সেরা গম্ভীর অভিনেতা হিসেবেই তাঁকে চেনে আসমুদ্রহিমাচল। কিন্তু সেই অক্ষয় খান্নার ঠোঁটে যদি হঠাৎ এক চিলতে হাসি দেখা যায়? বিশ্বাস করুন, তা দেখে খোদ সহ-অভিনেত্রীই ভিরমি খেয়েছেন! গুলিয়ে ফেলেছেন চিরাচরিত অক্ষয়ের চেনা মুখ।
আসন্ন কোর্টরুম ড্রামা ‘ইক্কা’-র ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে ঠিক এই মজাদার হাঁড়িটিই হাটে ভাঙলেন টলিউড অভিনেত্রী তিলোত্তমা সোম। খাস নেটফ্লিক্সের এই মেগা প্রজেক্টে অক্ষয়ের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করছেন তিনি। কিন্তু শুটিংয়ের দিনগুলোর কথা মনে করে তিলোত্তমা হেসে কুটিপাটি।
ঠিক কী ঘটেছিল? তিলোত্তমার কথায়, “সেদিন প্যাক-আপের পর আমি মেক-আপ ভ্যানের দিকে পা বাড়িয়েছি। হঠাৎ দেখি দূর থেকে একটা লোক বেশ চওড়া হাসি হেসে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। বলিউডে সাধারণত চেনা লোকজন ছাড়া কেউ এভাবে হাসে না। আমিও ভদ্রতার খাতিরে একটা আলগা হাসি ফেরত দিয়ে নিজের মনে হাঁটতে লাগলাম। হঠাৎ লোকটা পিছন থেকে ডেকে উঠল— ‘তিলোত্তমা!’ ঘুরে তাকাতেই তো আমার চক্ষু চড়কগাছ! এ তো খোদ অক্ষয় খান্না! আসলে অফ-স্ক্রিনে অক্ষয়কে কেউ কখনও চট করে হাসতে দেখে না, তাই হাসিমুখের অক্ষয় খন্নাকে চিনতেই পারেনি!”
তবে তিলোত্তমা এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মানুষ হিসেবে অক্ষয় ভীষণ মিষ্টি এবং মাটির কাছাকাছি। চেনা ছকের বাইরে গিয়ে তাঁর এই অন-সেট রসায়ন যে ছবি তৈরিতে দারুণ সাহায্য করেছে, তা বলাই বাহুল্য। শুধু এই মজাদার গল্পই নয়, ‘ইক্কা’ ছবিটিকে ঘিরে এই মুহূর্তে সিনেপাড়ার পারদ চড়চড় করে বাড়ছে। কেন এই ছবি দর্শকদের দেখতেই হবে? নির্মাতাদের মতে, তার তিনটে মোক্ষম কারণ রয়েছে।
‘বর্ডার’-এর সেই ম্যাজিক: দীর্ঘ প্রায় তিন দশক (২৯ বছর) পর পর্দায় ফিরছে সানি দেওল আর অক্ষয় খান্নার সেই আইনি-অ্যাকশন ডুয়েট। ১৯৯৭ সালের ব্লকবাস্টার 'বর্ডার' ছবির পর এই প্রথম দুজনকে একসঙ্গে ফ্রেম শেয়ার করতে দেখা যাবে।
আইনের চোখে সর্ষে ফুল: ছবির গল্প মূলত আবর্তিত হয়েছে সানি দেওল (অর্জুন মেহরা) এবং অক্ষয় খান্নার (শৌর্যমান) চরিত্র দুটিকে কেন্দ্র করে। এক সময়ের কড়া সরকারি আইনজীবী সানি দেওল, পরিস্থিতির ফেরে নিজের পুরনো শত্রু অক্ষয়ের খুনের মামলার ডিফেন্স লয়ার হতে বাধ্য হন।
এবং তিলোত্তমা: ছবিতে তিলোত্তমার চরিত্রের নাম ‘মধুরা বন্দোপাধ্যায়’। তিনি একজন সৎ, জেদি এবং আপসহীন সরকারি আইনজীবী, যিনি নিজের গুরুর (সানি দেওল) বিপক্ষেই কোর্টে সওয়াল করতে নামবেন। ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান থ্রি’ বা ‘দিল্লি ক্রাইম’ খ্যাত তিলোত্তমার সেই চেনা বলিষ্ঠ অভিনয় যে এই ছবিতে আলাদা মাত্রা যোগ করবে, তা ট্রেলার থেকেই পরিষ্কার।
সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রার পরিচালনায় এবং অ্যালকেমি ফিল্মসের প্রযোজনায় এই ছবিতে আছেন দিয়া মির্জা, সাঞ্জিদা শেখ ও আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর-ও। পর্দার সেই চেনা রাগী অক্ষয় খন্নার সঙ্গে ‘মধুরা’ তিলোত্তমার এই আইনি টক্কর কতটা জমে ক্ষীর হয়, তা দেখতে আগামী ১০ই জুলাই চোখ রাখতে হবে নেটফ্লিক্সের পর্দায়।














