আমির খান ও অরিজিৎ সিং। এই দুই নাম একসঙ্গে এলেই কৌতূহল তুঙ্গে ওঠা স্বাভাবিক। 'দঙ্গল' ছবির গান থেকেই দু’জনের সম্পর্ক যে শুধু পেশাদার স্তরে আটকে নেই, তা বলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে বরাবরই চর্চার বিষয়। অরিজিতের কণ্ঠের বড় ভক্ত ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। পাশাপাশি সামাজিক কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকার মানসিকতা, এই মিলগুলোও তাঁদের এক সুতোয় বেঁধেছে।তাই প্রশ্ন উঠছেই, হঠাৎ কী এমন ঘটল যে মুম্বই ছেড়ে সুদূর মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে, অরিজিতের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে হাজির হলেন আমির খান?

আমিরের এই ঝটিকা সফরের খবর সামনে আসতেই শুরু হয় জল্পনার ঝড়। কেউ বললেন, প্লেব্যাক দুনিয়া থেকে অনেকটাই আড়ালে থাকা অরিজিতের ‘বনবাস’ ভাঙাতেই নাকি হাজির হয়েছেন আমির। আবার কারও দাবি, আমিরের আসন্ন কোনও ছবির জন্য অরিজিতের কণ্ঠ একান্ত প্রয়োজন, সেই অনুরোধ করতেই নাকি গায়ককে সরাসরি ধরতে জিয়াগঞ্জে পৌঁছেছেন বলি সুপারস্টার।

কিন্তু আজকাল ডট ইন জানতে পেরেছে, এই দুই জল্পনার কোনওটিই ঠিক নয়।

অরিজিতের এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বহুদিন আগেই আমিরের একটি বিশেষ প্রজেক্টের সঙ্গে অরিজিতের নাম জড়িয়ে ছিল। তবে সেই প্রজেক্টের সঙ্গে বলিউডের সরাসরি কোনও যোগ নেই। যদিও গানের সম্পর্ক যে থাকছেই, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তা হলে কি সমাজসেবামূলক কোনও যৌথ উদ্যোগ? সেই সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত মিলছে সূত্রের বক্তব্যে।

সূত্র আরও জানাচ্ছে, সোমবার সকালেই অত্যন্ত গোপনে কলকাতা থেকে সড়কপথে জিয়াগঞ্জে পৌঁছেছেন আমির খান। রাত কাটাবেন অরিজিতের বাড়িতেই, একেবারে সাধারণভাবেই। কোনও হইচই নয়, কোনও তারকাসুলভ আয়োজনও নয়। এই মুহূর্তে দুই শিল্পীর জমাটি আড্ডা চলছে। আড্ডার ফাঁকে নাকি খোলা গলায় গানও ধরেছেন অরিজিৎ। সেখানেই একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, সেখানেই রাত কাটানো এবং সবটাই নিখাদ ঘরোয়া আবহে।

সবচেয়ে চোখে পড়ার বিষয় আমির খানের উপস্থিতি সত্ত্বেও কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। কেন এমন সিদ্ধান্ত? অরিজিৎ ঘনিষ্ঠ সূত্রের সোজাসাপ্টা জবাব,“জিয়াগঞ্জের মানুষের উপর অরিজিতের অগাধ ভরসা। কোনও রকম অশান্তির আশঙ্কাই করছেন না জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র।”

">

জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালেই জিয়াগঞ্জ ছাড়বেন আমির খান। কিন্তু তার আগে এই নীরব সফর, এই গোপন আড্ডা, সব মিলিয়ে বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ার বাইরে দাঁড়িয়ে এক অন্যরকম অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে আমির-অরিজিৎ জুটি। এই সাক্ষাৎ কি শুধুই বন্ধুত্বের না কি তার আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনও সমাজমনস্ক পরিকল্পনা? সেই উত্তর আপাতত সময়ের হাতেই।