চেক বাউন্স মামলায় স্বস্তি না পেয়ে বৃহস্পতিবার দিল্লির তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন অভিনেতা রাজপাল যাদব। দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর আত্মসমর্পণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন খারিজ করার পরই এই পদক্ষেপ করেন তিনি। সূত্রের খবর, হাজতে যাওয়ার আগে অভিনেতা বলেন, “স্যর, আমি কী করব? আমার কাছে কোনও টাকা নেই, আর এখন কোনও পথও খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা সকলেই এখানে একা। কেউ কারও প্রকৃত বন্ধু নয়। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে আমাকে নিজেকেই বেরিয়ে আসতে হবে।”
রাজপালের আইনি সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১০ সালে। সেই বছর তিনি দিল্লিভিত্তিক সংস্থা মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তাঁর পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা ’ বানানোর জন্য। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ায় ঋণ শোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এরপর শুরু হয় আইনি লড়াই। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রী রাধাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
অভিযোগকারী সংস্থাকে দেওয়া সাতটি চেক একের পর এক বাউন্স হওয়ার পর অভিনেতাকে ছ’মাসের সাধারণ কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। এই রায় ২০১৯ সালের শুরুর দিকে সেশনস কোর্টেও বহাল থাকে।
এরপর রাজপাল দিল্লি হাই কোর্টে রিভিশন পিটিশন দাখিল করলেও তাঁর সমস্যা কাটেনি। ২০২৪ সালের জুন মাসে হাই কোর্ট সাময়িকভাবে তাঁর সাজা স্থগিত করে এবং বকেয়া টাকা মেটাতে ‘সৎ ও আন্তরিক উদ্যোগ’ দেখানোর নির্দেশ দেয়। সেই সময়ে তাঁর মোট দেনার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকায়। তবে এরপর একের পর এক সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে রাজপাল দু’টি ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ৭৫ লক্ষ টাকা জমা দিলেও আদালত জানায়, মূল দেনার বড় অংশ এখনও পরিশোধ হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ৪০ লক্ষ টাকা এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বাকি টাকা মেটানোর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তাও পূরণ করা হয়নি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয়। বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা নির্দেশ দেন, অভিনেতাকে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, খ্যাতি থাকলেও কাউকে অনির্দিষ্টকাল ছাড় দেওয়া যায় না।
৪ ফেব্রুয়ারি এক সপ্তাহ সময় চেয়ে করা শেষ মুহূর্তের মার্সি আবেদনও খারিজ করে দেওয়া হয়। বিচারপতি মন্তব্য করেন, রাজপাল অতীতে প্রায় ২০ বার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পালন করেননি এবং আদালতের নির্দেশের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখাননি।
৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে শেষবার হাজির হয়ে রাজপালের আইনজীবী নতুন করে ২৫ লাখ টাকার একটি চেক ও ঋণ পরিশোধের নতুন পরিকল্পনা পেশ করেন। তবে আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাহার করে না। বিচারপতি বলেন, সহানুভূতি ও শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। এবং চলচ্চিত্র জগতের কারও জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করা যায় না।
এরপর সেদিন বিকেল ৪টে নাগাদ রাজপাল তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন এবং ছ’মাসের সাজা ভোগ শুরু করেন। আদালতে আগে যে টাকা জমা পড়েছিল, তা রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে অভিযোগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
