বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনের প্রতিবেশী নির্মিত জেসরানি সম্প্রতি একটি ভিডিও শেয়ার করে জানিয়েছেন, অবশেষে তিনি তাঁর প্রিয় অভিনেতার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। কয়েক দিন আগে নির্মিত ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে মুম্বইয়ে অমিতাভের বাড়ির বাইরে প্রতি রবিবার ভক্তদের সঙ্গে তাঁর দেখা করার মুহূর্তগুলি তুলে ধরা হয়।
সেই ভিডিওয় নির্মিত অমিতাভের ব্যবহার, নম্রতা এবং ভক্তদের প্রতি ভালবাসার কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, একদিন যেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিনেতার টিমের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
সরাসরি অমিতাভের উদ্দেশ্যে একটি আবেগঘন বার্তা দেন নির্মিত তিনি বলেন,“অমিতাভ বচ্চন স্যার, আমি আপনার প্রতিবেশী। শুধু এটুকু বলতে চাই, আমরা ভীষণ কৃতজ্ঞ। হৃদয়ের গভীর থেকে আপনাকে ধন্যবাদ। প্রতি রবিবার ভক্তদের শুভেচ্ছা জানানোর পর আপনি আমাদের দিকেও তাকিয়ে হাত নাড়েন, আমাদের উপস্থিতি স্বীকার করেন। আপনার এই বিনয় আর উষ্ণতা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। স্যর, যদি একদিন আপনার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাই, আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ থাকব।”
সোমবার নির্মিত আরেকটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায় তিনি জুহুতে অমিতাভের বাড়ির বাইরে তাঁর সঙ্গে ছবি তুলছেন। ভিডিওয় তাঁর দেওয়া অটোগ্রাফও দেখা যায়। আবেগে ভেসে নির্মিত জানান, তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না যে সত্যিই তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে। এই মুহূর্ত তিনি কোনওদিন ভুলবেন না।
নিজেদের সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নির্মিত বলেন, বিকেল পাঁচটায় তাঁকে ‘জলসা’-য় ডাকা হয়েছিল। সেখানে পৌঁছে তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। অমিতাভ এসে প্রথমে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানান। নির্মিত যখন তাঁর পায়ে হাত দিতে যান, তখন অভিনেতা তাঁকে তা করতে বারণ করেন। তিনি হাসিমুখে ছবি তুলতেও রাজি হন। নির্মিতের কথায়, অমিতাভ খুবই বিনয়ী এবং মাটির কাছাকাছি একজন মানুষ।
উল্লেখ্য, প্রতি রবিবার জুহুতে নিজের বাড়ির বাইরে এসে অমিতাভ ভক্তদের সঙ্গে দেখা করেন। এই প্রথাটি যেন তাঁর ভক্তদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
অমিতাভকে শেষ দেখা গিয়েছিল রজনীকান্তের সঙ্গে ‘ভেট্টাইয়ান’ ছবিতে। খুব শীঘ্রই তাঁকে দেখা যাবে ‘কাল্কি ২৮৯৮ এডি’-র সিক্যুয়েল এবং আদালতভিত্তিক ছবি ‘সেকশন ৮৪’-তে।
সম্প্রতি ‘কউন বনেগা ক্রোড়পতি’র সিজন ১৭ শেষ করলেন অমিতাভ। আবেগ সামলাতে না পেরে তিনি বলেন, “কখনও কখনও এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যেগুলো এত গভীরভাবে অনুভব করা হয় যে শেষ প্রান্তে পৌঁছনোর সময় মনে হয়, এই তো সবে শুরু হয়েছিল। অথচ এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাচ্ছে। সবকিছু যেন গতকালের ঘটনা। আজ এই খেলাটার শেষ দিনের শুরু করতে গিয়ে সেই অনুভূতিগুলোই ফিরে আসছে। আপনাদের সঙ্গে আমি আমার জীবনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সময় কাটিয়েছি, এবং এটা আমার কাছে এক বিশাল সৌভাগ্যের বিষয়।”
