ভোটকেন্দ্র না ফ্যামিলি ড্রামার সেট বোঝা দায়! কী ঘটেছে? গত ২৩ এপ্রিল ছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা। সেদিনই ঘটল এই অদ্ভুত ঘটনা। পলাতক স্ত্রীকে ধরতে এই কাণ্ড ঘটালেন এক ব্যক্তি।
ঘটনাস্থল নক্সাল বাড়ির মাটিগাড়ার ফাঁসিদেওয়া তারাবাড়ির ২৫/২৩৮ নম্বর বুথ। গত বৃহস্পতিবার এক ব্যক্তি এই বুথের বাইরে প্রায় ঘণ্টা পাঁচেক অপেক্ষা করেন। কারণ একটাই তাঁর আশা ছিল, তাঁর পলাতক স্ত্রী এদিন এখানে ভোট দিতে আসবেন। তাঁকে ধরতেই তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সেই ব্যক্তির অনুমান সত্যি করে তাঁর স্ত্রী সেখানে আসেন। এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, এই মহিলা বছর দু'য়েক আগে এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন স্বামী সংসার ছেড়ে। তাঁকে ধরতেই ভোটকেন্দ্রের বাইরে, কারও সঙ্গে কথা না বলে প্রায় ঘণ্টা পাঁচেক কাটান সেই ব্যক্তি। এক চুলও নড়েন না। দুপুর দু'টো নাগাদ সেই মহিলা তাঁর স্বামীর অনুমানকে সত্যি করে ভোট দিতে আসেন। তাঁর হাতে ছিল ভোটার স্লিপ এবং ভোটার কার্ড। স্ত্রীকে দেখেই সেই ব্যক্তি অতর্কিতে আক্রমণ করেন। ছিনিয়ে নিতে চান তাঁর স্ত্রীর ভোটার কার্ড। চুলের মুঠি টেনে, পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেন। তাঁদের এই হাতাহাতির ঘটনা দেখে ছুটে আসেন সেখানে কর্মরত সিএপিএফ জওয়ানরা। তাঁরা কোনও মতে সেই ব্যক্তির হাত থেকে মহিলাকে বাঁচান। কিন্তু তাতে কি আর তাঁকে থামানো যায়? তিনি চেঁচাতেই থাকেন। অভিশাপ দেন।
শুধু তাই নয়, এই ব্যক্তি জওয়ানকে অনুরোধ করেন যাতে তাঁর স্ত্রী ভোট দিতে না দেওয়া হয়। কারণ ভোটার কার্ডে স্বামী হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে। বলেন, হয় তাঁর নাম সেই কার্ড থেকে সরানো হোক নইলে যেন এই মহিলা ভোট না দেন। যদিও তাঁর এই দাবিকে পাত্তা দেওয়া হয়নি। মিনিট কুড়ি পর তাঁরা নিশ্চিত করেন যাতে এই মহিলা নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তিনি ভোট দেওয়ার পর তাঁরাই তাঁকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করেন।
এই ঘটনার উপর স্ত্রীর পাশাপাশি জওয়ানদের উপরও ক্ষেপে যান সেই ব্যক্তি। তাঁদেরও অভিশাপ দেন, এবং রাগের মাথায় সেই জায়গা ছাড়েন। ভোটকেন্দ্রে এ হেন অশান্তির নজিরবিহীন। ঘটনাটা প্রকাশ্যে আসতেই হইচই শুরু হয়েছে নেটপাড়ায়।
















