বলিউডে আবারও তুমুল বিতর্ক। ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ ছবিকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি সংঘাতে জড়ালেন দ্য কেরালা স্টোরি ছবির পরিচালক সুদীপ্ত সেন এবং প্রযোজক বিপুল অমৃতলাল শাহ। এক সাক্ষাৎকারে সুদীপ্ত সেনের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে কার্যত বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিপুল শাহ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুদীপ্ত সেন দাবি করেছিলেন, এ ছবির সিক্যুয়েলের গবেষণা নাকি যথেষ্ট নয় এবং এটি নাকি অনেকটাই ‘হোয়াটসঅ্যাপ ফরওয়ার্ড’-এর উপর নির্ভর করে তৈরি! যদিও পরে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর বক্তব্যর ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
কিন্তু ততক্ষণে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেই মন্তব্যে স্পষ্টই ক্ষুব্ধ দ্য কেরালা স্টোরি ২ র প্রযোজক বিপুল শাহ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি তো বলব, আঙুর ফল টক। সত্যি কথা বলতে কী, এতদিন এ নিয়ে কিছু বলিনি। কিন্তু এবার বিষয়টা পরিষ্কার করতে চাই। সুদীপ্ত সেন ‘কেরালা স্টোরি ২’-এর জন্য একটা চিত্রনাট্য লিখেছিলেন, আর সেটা ছিল একেবারে আবর্জনা। আমি সেই ছবি-ই করতে চাইনি। তাই আমি পরিচালক হিসেবে কামাক্ষ্যা নারায়ণ সিং-কে বেছে নিই।”
বিপুল শাহ আরও বলেন, সুদীপ্ত সেন নাকি ছবির গবেষণার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন না। তাই তিনি কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রযোজক। তাঁর কথায়, “তিনি জানেনই না আমরা কী ধরনের গবেষণা করেছি। তিনি তো গবেষণার পুরো প্রক্রিয়ার অংশই ছিলেন না। সাধারণত আমি প্রতিক্রিয়া দিই না। কিন্তু কেউ যখন আমার ছবিকে আক্রমণ করে, তখনই আমাকে জবাব দিতে হয়। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে, আর আমি জানি তাঁর মন্তব্যগুলোর কোনও ভিত্তি নেই।”
অন্যদিকে, এর আগেদেওয়া সাক্ষাৎকারে সুদীপ্ত সেন জানিয়েছিলেন কেন তিনি ‘কেরালা স্টোরি’ ছবির সিক্যুয়ালটি পরিচালনা করছেন না। তাঁর দাবি, প্রথম ছবির জন্য তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে গবেষণা করেছিলেন। তাই ছবির প্রতিটি দৃশ্য ও সংলাপের পাশে তিনি দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পেরেছিলেন।
তাঁর মতে, যদি গল্প কেরালার বাইরে অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে শুধুমাত্র সংবাদ প্রতিবেদন বা সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যের উপর নির্ভর করে কাজ করা সম্ভব নয়। সংবেদনশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা অত্যন্ত জরুরি। পরে অবশ্য তিনি বলেন, তাঁর গবেষণা মূলত একটি অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলেই তিনি ছবিটি পরিচালনা করার প্রস্তাব নাকচ করেছিলেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই ছবিটিকে ঘিরে আইনি জটিলতাও তৈরি হয়। ছবির সেন্সর সার্টিফিকেট বাতিলের দাবি জানিয়ে মামলা হলে প্রথমে কেরল হাই কোর্ট ছবির মুক্তির উপর অস্থায়ী স্থগিতাদেশ জারি করে। বিচারপতি বেচু কুরিয়ান থোমাস-এর বেঞ্চ ১৫ দিনের জন্য মুক্তি পিছিয়ে দেয়। তবে পরে বিচারপতি এস. এ.ধর্মাধিকারী এবং পি. ভি. বালাকৃষ্ণণ-এর বেঞ্চ সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেয়, ফলে ছবিটি নির্ধারিত সময়েই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।
উল্লেখ্য, কামাখ্যা নারায়ণ সিং পরিচালিত ‘কেরালা স্টোরি ২’ তৈরি হয়েছে সানশাইন পিকচার্স-এর ব্যানারে। ছবিতে অভিনয় করেছেন উল্কা গুপ্ত, অদিতি ভাটিয়া এবং ঐশ্বর্য ওঝা।
২০২৩ সালের বিতর্কিত ব্লকবাস্টার ‘দ্য কেরালা স্টোরি’-এর সিক্যুয়েল এই ছবি। তবে মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। বক্স অফিসেও তেমন সাফল্য পায়নি ছবিটি। এখন পর্যন্ত দেশে ছবির আয় প্রায় ২০.১৫ কোটি টাকা, যা প্রথম ছবির বিশ্বব্যাপী ৩০২ কোটি টাকার বক্স অফিস কালেকশনের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে।
এখন দেখার বিষয়, বিতর্কের ঝড় কি ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’-কে নতুন করে দর্শকের নজরে আনতে পারে না কি বক্স অফিসে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে এই ছবি।
