সুজয়-কন্যা দিয়া অন্নপূর্ণা ঘোষের প্রথম ছবি ছিল ‘বব বিশ্বাস’। সুজয় ঘোষের ‘কহানি’র প্রায় এক দশক পরে, ওটিটির পর্দায় ‘বব বিশ্বাস’-এর দেখা পাওয়া গিয়েছিল। ‘বব বিশ্বাস’ ছবিটির কেন্দ্রে রয়েছে ববের জীবনবোধের সঙ্কট অর্থাৎ এগজিস্টেনশিয়াল ক্রাইসিস। তাঁর সঙ্গে কালীদার (পরান বন্দ্যোপাধ্যায়) দৃশ্যগুলি ছবির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক। চরিত্র হিসেবে ‘কালী’দা বহুমুখী। আধো হিন্দি-বাংলা মেশানো লব্জ যে কত সুন্দর করে বলা যায়, তা পরানের মুখে না শুনলে উপভোগ করা যায় না! এ ছবিতে চরিত্র হিসেবে অভিষেক ‘বব’ বচ্চন সমালোচকের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তবে স্পটলাইটের অনেকটাই শুষে নিয়েছিলেন কালীদা! ছবিতে অল্প সময়ের জন্য অভিষেক বচ্চন এবং পরান বন্দ্যোপাধ্যায় পরিসপরের মুখোমুখি হলেও তা দারুণ উপভোগ্য ছিল দর্শকের কাছে। বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি অভিষেক বচ্চনের জন্মদিন। ৫০ ছুঁলেন জুনিয়র বচ্চন। এদিন তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মানুষ হিসেবেও কেমন অভিষেক, সেকথাও আজকাল ডট ইন-এর কাছে খুলে বললেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।   

পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “প্রথমেই বলি, মানুষ হিসেবে অত্যন্ত ভাল অভিষেক। ভীষণ নম্র। ঠান্ডা মেজাজের ছেলে। সেটে কারও সঙ্গে চেঁচিয়ে কথা বলতে কখনও শুনিনি। বরং দেখেছি নরম করে কথা বলে, আস্তে আস্তে। প্রথম সে নিজে একজন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা, তার উপর অত বড় বাবার ছেলে- এক মুহূর্তের জন্যেও সেটা ইউনিটে কখনও কাউকে বুঝতে দেয়নি ও। আজকাল ছোট বড় কত অভিনেতা সেটে ঢুকে কত ডিমান্ড করেন, অভিষেক কিন্তু তার ধারপাশ দিয়ে যায়নি কখনও। আমি অন্তত সেসব দেখিনি। আর একটা কথা, অভিষেক কিন্তু বড্ড রসিক। বচ্চন-পুত্রের রসবোধের পরিচয় পেয়েছি। শুটিং ব্রেকে টেকনিশিয়ানদের পিছনে যখন তখন লাগত! হো হো করে হেসে উঠত। খুব ভাল লেগেছিল দেখে। অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব বলা যায়।”

খানিক থামলেন। এরপর ফের বলে উঠলেন, “ওর সঙ্গে প্রচুর গল্প-আড্ডা করেছি, এমন দাবি করলে মিথ্যে বলা হবে। তবে ইনফরমাল আড্ডা অবশ্যই অল্প হয়েছে। লোকজনের কথা আগ্রহ ভরে কিন্তু ও শোনে। আমার পরিবার সেটে এসেছিল, অভিষেক যে কী মায়িক ব্যবহার করল ওদের সঙ্গে তা না দেখলে বিশ্বাস হয় না। আপনার সঙ্গে কথা বলতে বলতে একটা মজার কথা মনে পড়ল। এই ফাঁকে বলে রাখি -আমার একটা ছবি আছে...কোন ছবি অথবা ধারাবাহিকের শুটিং ভুলে গিয়েছি। কিন্তু চুল দাড়ি লাগানো আমার সেই মুখের সঙ্গে আখরি রাস্তা ছবির বাবা অমিতাভ বচ্চনের লুকের অদ্ভুত মিল।  সেটা নজর এড়ায়নি অভিষেকেরও। সেই ছবি ওকে দেখাতেই চোখ বড় বড় করে বলে উঠেছিল, ‘পরানদা, ইউ লুক লাইক পা!’ জেনেছিলাম বাবাকে ছেলে ‘পা’ বলে ডাকে।”

">

কথা শেষে ‘বব’-এর উদ্দেশ্যে ‘কালী’দার সংযোজন, “জন্মদিনে জানাই, জীবন আরও সুন্দর হোক তোমার, অভিষেক। এটুকুই ওকে বলব, অভিষেক তোমার নিজের অর্জিত গুণ আর অর্জিত ভালবাসার কাছে আর সবকিছু তুচ্ছ! কিচ্ছু নেই, এমনকী তোমার অর্জিত অর্থ-ও নয়। সুখের কথা, তোমার কাছে অর্জিত গুণ ও ভালবাসা দুইই রয়েছে।  ভাল থেকো, আনন্দে থেকো।”