'সুপারম্যান' ছবির অনুরাগীদের জন্য দুঃসংবাদ। না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন অস্কার নমিনেটেড অভিনেত্রী ভ্যালেরি রিচি পেরিন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
'সুপারম্যান' ছবিতে তিনি লেক্স লুথারের সহযোগী এবং প্রেমিকা ইভ টেসচমাচারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। জানা গিয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই ভ্যালেরি রিচি পেরিন পার্কিনসন রোগে ভুগছিলেন। ২০১৫ সালে এই রোগে আক্রান্ত হন তিনি। সেই থেকে এতদিন যাবৎ এই রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। এদিন ৮২ বছর বয়সে বিভার্লি হিলসের বাড়িতেই প্রয়াত হন ভ্যালেরি রিচি পেরিন। জানা গিয়েছে, পার্কিসন রোগের কারণে ধীরে ধীরে কথা বলার এমনকী খাওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন ভ্যালেরি। নড়াচড়া করতেও সমস্যা হতো তাঁর।
এদিন ভ্যালেরির মৃত্যুর খবর তাঁর এক বন্ধু প্রকাশ্যে আনেন। জানান ভ্যালেরি অত্যন্ত প্রাণবন্ত, সাহসী পারফর্মার ছিলেন। তিনি তাঁর রোগ নিয়েও কাজ করেছেন সম্মান এবং ভালবাসার সঙ্গে। কখনও কোনও বিষয়ে অভিযোগ করেননি। তবে সময়ের সঙ্গে এই রোগ আরও জটিল হলে তিনি তাঁর কাজ করার ক্ষমতা হারাতে থাকেন। ভ্যালেরির বন্ধু আরও জানান তাঁকে ছাড়া এই পৃথিবী যেন কম সুন্দর লাগছে। অভিনেত্রী তাঁর জীবনের সবটুকু স্বাদ আস্বাদন করে দিয়েছেন এবং একজন প্রকৃত ইনস্পিরেশন ছিলেন বলে দাবি করেন। প্রসঙ্গত ভ্যালেরি পেরিনের এই বন্ধু বিগত কয়েক বছর ধরেই তাঁর দেখাশোনা করছিলেন। শেষ দিকে ভ্যালেরি পেরিনের চিকিৎসার খরচ এত বেড়ে যায় চাঁদা তুলতে হয়। জানা গিয়েছে সেই অর্থ দিয়েই তাঁর শেষকৃত্য করা হবে।
ভ্যালেরি রিচি পেরিন 'সুপারম্যান' ছাড়াও 'লেনি' ছবির জন্য নজর কেড়েছিলেন। সেই ছবিতে তিনি হানি ব্রুসের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এমনকী এই চরিত্রের জন্য অস্কারের জন্য মনোনীতও হন। কানে বিজয়ী হন। ১৯৭০ এর দশকের অন্যতম খ্যাতনামা অভিনেত্রী ছিলেন তিনি হলিউডের।
ভ্যালেরি রিচি পেরিনকে 'স্লটারহাউজ ৫', 'স্টিমবাথ', 'দ্য লাস্ট আমেরিকান হিরো', 'দ্য বর্ডার', 'সুপারম্যান ২', 'ওয়াটার', 'মিস্টার বিলিয়ন', ইত্যাদির মতো ছবিতে দেখা গিয়েছে। কান চলচ্চিত্র উৎসব ছাড়াও বাফটা, ইত্যাদি মতো জনপ্রিয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি তাঁর কর্মজীবনে। ১৯৭০ এর দশকের অন্যতম আকর্ষণীয়, হট অ্যান্ড বোল্ড অভিনেত্রী ছিলেন ভ্যালেরি। তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি সৌন্দর্য এবং আকর্ষণীয় চেহারা হলিউডে তাঁকে পাকা স্থান করে দেয়।
১৯৪৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর টেক্সাসে জন্মগ্রহণ করেন ভ্যালেরি রিচি পেরিন। তাঁর বাবা আমেরিকার সৈন্যদলে ছিলেন। তাঁর মা স্কটল্যান্ডের একজন নৃত্যশিল্পী ছিলেন। ভ্যালেরির ছোটবেলাটা বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে কেটেছে। মূলত, জাপান, ফ্রান্স এসব দেশে। ১৯৬৯ সালে তিনি তাঁর ফিয়ন্সেকে হারান। একটি দুর্ঘটনায় প্রয়াত হন বিল হারমান।
