বিনোদন দুনিয়ায় ২৫ বছর পার করে ফেললেন বলিউড অভিনেতা তুষার কাপুর। আর এই রুপোলি সফরের বিশেষ মাইলফলকে দাঁড়িয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন তিনি। তুষারের সাফ কথা, ২০১৪ সালে কেন্দ্রে মোদি সরকার আসার পর থেকেই প্রকৃত অর্থে ভারতের সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজের 'ঘুম ভেঙেছে'। জিতেন্দ্র পুত্র মনে করেন, দেশবাসী এখন অনেক বেশি রাজনৈতিক সচেতন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলিপাড়ার এই অভিনেতাকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক হাওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার নানা বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সেখানেই কোনও রাখঢাক না করে নিজের স্পষ্ট মতামত জানান ‘গোলমাল’ খ্যাত অভিনেতা। নিজের প্রজন্মের কথা টেনে তুষার স্বীকার করে নেন যে, একটা সময় ছিল যখন বিনোদন জগতের বা সাধারণ তরুণদের রাজনীতি নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না। কিন্তু গত এক দশকে দেশের মানসিকতায় এক আমূল পরিবর্তন এসেছে।
একতা কাপুরের ভাইয়ের কথায়, "আগে রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। কিন্তু এখন আমি দেশের রাজনীতির প্রতি মুহূর্তের খবর রাখি। কোন রাজ্যে কোন দলের সরকার চলছে, দেশজুড়ে কী কী ঘটনা ঘটছে-সব খবর নখদর্পণে থাকে। এমনকী টেলিভিশনের রাজনৈতিক বিতর্ক বা টক-শোও এখন আমি নিয়মিত দেখি।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তুষার কাপুর জানান, এই নতুন রাজনৈতিক জাগরণের পেছনে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের একটি মস্ত বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা এখন এমন এক ভারতে বাস করছি যা এখন পুরোপুরি জেগে উঠেছে। আর এই সবকিছুর শুরু কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকেই। আপনি মোদীজিকে পছন্দ করতে পারেন, আবার নাও করতে পারেন, সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু এটা মানতেই হবে যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই এ দেশের সাধারণ মানুষ রাজনীতিকে গভীরভাবে বুঝতে ও তা নিয়ে চর্চা করতে শুরু করেছেন।"
নিজের বক্তব্যের প্রমাণ হিসেবে দেশের রেকর্ড ভোটদানের হারের কথা উল্লেখ করেন অভিনেতা। তিনি মনে করেন, মানুষ এখন নিজেদের ভোটাধিকারের ক্ষমতা ও মূল্য বুঝতে পেরেছেন বলেই বিপুল সংখ্যায় বুথমুখী হচ্ছেন।
নিজের ব্যক্তিগত জীবনের উদাহরণ দিয়ে তুষার জানান, এই পরিবর্তনের হাওয়া তাঁর নিজের পরিবারকেও ছুঁয়ে গিয়েছে। তাঁর মা শোভা কাপুর আগে কখনওই রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। আজ তাঁর মা-ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন এবং বাড়ির ড্রয়িংরুমেও এখন রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
তুষারের এই রাজনৈতিক মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই এখন বি-টাউনের অন্দরে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিনেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, একটি সুস্থ ও সফল গণতন্ত্রের জন্য নাগরিকদের এই সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি এবং ভারতের এই নতুন রূপ দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দেয়।















