সংবাদ সংস্থা মুম্বই: সাতের দশকের মধ্যভাগ থেকে আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জিনাত এবং পরভীন দু’জনেই পর্দায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় নায়িকা ছিলেন। তাঁদের পোশাক-আশাকেও ছিল আলাদা চমক। অন্যরকমের বন্য সাহস। খবর, এবার সেই পরভীনের জুতোয় পা গলাতে চলেছেন তৃপ্তি দিমরি। সোজা কথায়, পরভীনের বায়োপিকে নামভূমিকায় দেখা যাবে তৃপ্তিকে। তবে বড়পর্দার জন্য নয়, ওয়েব সিরিজ হতে চলেছে এটি। সূত্রের খবর, নেটফ্লিক্সের জন্য এই সিরিজটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন সোনালী বোস। ইতিমধ্যেই নাকি সিরিজের পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শুরু হয়েছে জোরকদমে। অন্যদিকে, তৃপ্তিও নাকি ডেট দিয়ে দিয়েছেন এই বায়োপিকের জন্য।
পরভীনের প্রথম ছবি ‘চরিত্র’ সফল হয়নি। ১৯৭৪ সালে ‘মজবুর’ এবং ১৯৭৫ সালে ‘দিওয়ার’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবিগুলি মূলধারার ছবিতে তাঁকে প্রতিষ্ঠা দেয়। প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসাবে বিদেশি পত্রিকার প্রচ্ছদে জায়গা করে নিয়েছিলেন পরভীন। তখন তিনি মাত্র ২৭ বছরের তরুণী। পরভিনের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলি হল, ‘কালা পাত্থর’ (১৯৭৯), ‘দো আউর দো পাঁচ’ (১৯৮০), ‘শান’ ( ১৯৮০), ‘ ক্রান্তি’ (১৯৮১), ‘নমক হালাল’ (১৯৮২) ইত্যাদি। তাঁর শেষ ছবি ‘ইরাদা’ (১৯৯১) । উল্লেখ্য, অভিনয়ে আসার আগে মডেলিং করতেন পরভীন ববি।
অভিনয় ছাড়াও কবীর বেদীর সঙ্গে তাঁর উদ্দাম প্রেমের গল্প এখনও ঘুরপাক খায় বলিউডের আনাচকানাচে। উথালপাথাল প্রেম শোরগোল ফেলল গোটা বলিউডে। এরপর অভিনয়ের সূত্রে কবীরের দূরে চলে যাওয়া এবং সম্পর্ক ভাঙা, নিজের মানসিক অবসাদ, সব মিলিয়েই ক্রমশ মানসিক অসুস্থতা দেখা দেয় পরভীনের। পরে মহেশ ভাটের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। প্রয়াত অভিনেত্রীর বায়োপিকে তাঁর কেরিয়ার থেকে বিতর্ক, লাস্যময়তা থেকে ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান-পতন সবই উঠে আসবে।
২০০৫ সালের ২০ জানুয়ারি মাসে মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে প্রয়াত হন অভিনেত্রী। অবসাদে ডুবে, তার জেরে অসুস্থতায় ২০ বছর হল মারা গিয়েছেন পরভীন। ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয়েছিল তাঁর দেহ।
