২৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার ৩১তম জন্মদিনের কেক কাটলেন জনপ্রিয় বলি অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি। ‘অ্যানিম্যাল’ ছবিটি তাঁর কেরিয়ারে নতুন করে জোয়ার আনে। রাতারাতি তিনি হয়ে ওঠেন দেশের ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’। তবে ‘অ্যানিম্যাল’ ছবিটি মুক্তির আগেই তুমুল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। হিংস্রতা, রক্তাক্ত দৃশ্য এবং ঘনিষ্ঠ নগ্ন দৃশ্যের বাড়াবাড়ির কারণে সেন্সর বোর্ড ছবিটিকে ‘এ’ সার্টিফিকেট দেয়। তবে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক তকমাই নয়, ছাড়পত্র দেওয়ার আগে ছবিটি থেকে অন্তত আটটি দৃশ্য বাদ দেওয়ার নির্দেশও দেয় বোর্ড। বাদ পড়া অংশগুলির মধ্যে ছিল রণবীর-তৃপ্তির এক অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্লোজ-আপ শটও।
ছবির ওই মুছে ফেলা দৃশ্যগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল ‘বিজয়’ ও ‘জোয়া’র (অভিনয়ে রণবীর ও তৃপ্তি) একাধিক ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ক্লোজ-আপ শট। ছবিটি মুক্তির পর এই জুটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয় তীব্র আলোড়ন। কারণ, তাঁদের অনস্ক্রিন জুটি ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত, আর তাঁদের অভিনীত নগ্ন, দৃশ্যগুলোর সাহসী উপস্থাপনা দেখে দর্শকরা হাঁ হয়ে গিয়েছিল। ছবি মুক্তির আগে পর্যন্ত তৃপ্তির চরিত্রটি গোপন রাখা হয়েছিল দর্শকের কাছ থেকে। ফলে দর্শক যখন হঠাৎ তাঁদের মধ্যে তৈরি হওয়া টানটান রসায়ন ও উত্তেজনা দেখলেন, তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।
এক সাক্ষাৎকারে তৃপ্তি জানিয়েছিলেন, ছবির পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা চুক্তি সইয়ের সময়ই তাঁকে দৃশ্যটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। কীভাবে দৃশ্যটি শ্যুট করা হবে, তার ভিজ্যুয়াল ধারণাও ভাগ করে নেন পরিচালক। অভিনেত্রী বলেন, দৃশ্যটির নান্দনিক উপস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়েই তাঁকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। তবে সবার উপরে তৃপ্তি স্বচ্ছন্দ কি না এই দৃশ্যে, সেটাই ছিল মুখ্য।
এক সাক্ষাৎকারে তৃপ্তি বলেন, দৃশ্যটির রেফারেন্স দেখার পর তাঁর মনে হয়েছিল এটি দুই চরিত্রের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, আর সেই উপলব্ধিই তাঁকে স্বস্তি দেয়।
তিনি আরও জানান, এই ছবির নগ্ন, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য হোক বা আগে করা ‘বুলবুল’ সিরিজের ‘ধর্ষণ’ দৃশ্য— প্রতিবারই নির্মাতারা তাঁর আরাম ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করেছেন। ‘অ্যানিম্যাল’-এর সেই দৃশ্যের শ্যুটিংয়ের সময় সেটে উপস্থিত ছিলেন মাত্র পাঁচজন। অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক, চিত্রগ্রাহক এবং প্রয়োজনীয় একজন সদস্য। সব মনিটর বন্ধ রাখা হয়েছিল, যাতে দৃশ্যটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিবেশে শুট করা যায়। শুটিং চলাকালীন প্রায় প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর রণবীরও তাঁর খোঁজ নিয়েছিলেন, তিনি ঠিক আছেন কি না।
এই অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিং শুধুই ক্যামেরার সামনে অভিনয় নয়, এর পেছনে থাকে সূক্ষ্ম পরিকল্পনা, পারস্পরিক আস্থা এবং সংবেদনশীলতা। অভিনেতা, পরিচালক থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় টিম সবার মধ্যে পেশাদার বিশ্বাস ও স্বাচ্ছন্দ্য না থাকলে এমন দৃশ্য সফলভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়।
বর্তমানে বহু ছবিতেই স্টান্ট কোঅর্ডিনেটরের মতো আলাদা ‘ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর’ রাখা হয়। তাঁদের কাজ হল এই ধরনের দৃশ্য কোরিওগ্রাফ করা, অভিনেতাদের সীমারেখা নির্ধারণ করা এবং শুটিং চলাকালীন নির্ধারিত নিরাপত্তা ও নীতিমালা মেনে চলা নিশ্চিত করা। প্রযোজনা সংস্থা ও শিল্পীদের মধ্যে সেতুর হিসেবেও কাজ করেন তাঁরা।
&t=313s
সব মিলিয়ে, বিতর্ক, সেন্সর কাট আর অন্দরমহলের পেশাদার প্রস্তুতি, সবকিছু মিলিয়ে ‘অ্যানিম্যাল’ শুধুই একটি ছবি নয়, বরং সমকালীন বলিউডে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নির্মাণের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনাও উস্কে দিয়েছে।
