সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালিত ব্লকবাস্টার ছবি ‘অ্যানিম্যাল’ মুক্তির পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকটা সময়। কিন্তু এখনও এই ছবি এবং এর চরিত্রদের নিয়ে চর্চা থামেনি। বিশেষ করে ছবিটির পর রাতারাতি লাইমলাইটে চলে আসা অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরিকে নিয়ে অনুরাগীদের উন্মাদনা তুঙ্গে। ‘অ্যানিম্যাল’-এ রণবীর কাপুরের বিপরীতে তাঁর অভিনীত ‘জোয়া’ চরিত্রটি যেমন তাঁকে ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’ তকমা এনে দিয়েছে, ঠিক তেমনই ছবির কিছু সাহসী দৃশ্য এবং নারী চরিত্রায়নের ধরন নিয়ে সমাজমাধ্যমে তীব্র ট্রোলিং ও সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। এই সমস্ত বিতর্কের এবার স্পষ্ট জবাব দিলেন অভিনেত্রী।
তৃপ্তি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘অ্যানিম্যাল’-এ অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন, বরং এই ছবিটির জন্য গর্বিত। অভিনেত্রীর কথায়, “এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা আমি সম্পূর্ণ নিজের জন্য নিয়েছিলাম এবং আমি এই চরিত্রে কাজ করতে বেশ কমফর্টেবল ছিলাম। আমার কেরিয়ারের প্রতিটি ছবি, তা সে ‘বুলবুল’ হোক, ‘কলা’ বা ‘অ্যানিম্যাল’, সবকটি কাজ নিয়েই আমি গর্ব বোধ করি।”
ইন্টারনেটে লাগাতার চলতে থাকা ট্রোলিং ও কটাক্ষ যে মাঝে মাঝে তাঁকে আঘাত করে, সে কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন তৃপ্তি। তবে একইসঙ্গে বিনোদন দুনিয়ায় মহিলাদের প্রতি দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। তৃপ্তির মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে পুরুষ অভিনেতাদের তুলনায় মহিলা অভিনেত্রীদের খুব দ্রুত এবং অনেক বেশি কঠোরভাবে বিচার করা হয়, যা একেবারেই অনুচিত।
গল্পের খাতিরে ও একজন জাত শিল্পী হিসেবে নিজের চেনা গণ্ডি বা কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসা যে কতটা জরুরি, তা মনে করিয়ে দেন তৃপ্তি। তিনি বলেন, “আমি এর আগে সবসময় ‘খুব ভাল মেয়ে’র চরিত্রে অভিনয় করেছি, যারা সিনেমার শেষে গিয়ে দর্শকদের সহানুভূতি পায়। কিন্তু ‘অ্যানিম্যাল’-এর জোয়া ছিল একটি ধূসর চরিত্র। একজন অভিনেতা হিসেবে এই ধরণের জটিল ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করা আমার কাছে দারুণ একটি সুযোগ ছিল।”
‘বুলবুল’ বা ‘কলা’-র মতো ভিন্নধর্মী ছবিতে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়োলেও, ‘অ্যানিম্যাল’-এ বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্যই মূল ধারার বলিউডে তৃপ্তির পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছে। বর্তমানে তিনি বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী। খুব শীঘ্রই তাঁকে সুরেশ ত্রিবেণীর ডার্ক কমেডি থ্রিলার ‘মা বহেন’-এ মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যাবে, যা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির জন্য প্রস্তুত। সমালোচকদের হাজারো ট্রোলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৃপ্তি বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেরিয়ারের রাশ এবং নিজের সিদ্ধান্তের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ কতটা মজবুত।















