ধারাবাহিক, টলিউড কিংবা বলিউড। সব মাধ্যমেই নিজের ধীর অথচ দৃঢ় পদক্ষেপে অভিনয়ের জাত চিনিয়েছেন তিনি। শুধু দুর্দান্ত অভিনয়ই নয়, বয়স যত বাড়ছে, তাঁর তাক লাগানো ফিটনেস আর আভিজাত্য দেখেও চোখ কপালে ওঠে অনুরাগীদের। তিনি টোটা রায়চৌধুরী। আজ তাঁর জন্মদিন। আর এই বিশেষ দিনেই নেটপাড়ায় নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে সমাজমাধ্যম এবং বর্তমানের সস্তার পাবলিসিটি সংস্কৃতি নিয়ে অভিনেতার এক বিস্ফোরক ও স্পষ্টবাদী বয়ান।
সমসাময়িক অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মতো সারাদিন রিলস বানানো বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে মেলে ধরায় একেবারেই বিশ্বাসী নন টোটা। তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতেই ভালবাসেন।
রোজ রোজ সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে নিজের মুখ দেখতে নাকি অভিনেতার নিজেরই বোরিং লাগে! এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে টোটা রায়চৌধুরী বেশ কড়া সুরে বলেছিলেন, “একটা কথা বলুন তো, সোশ্যাল মিডিয়ার আসল উদ্দেশ্যটা কী? মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা, তাই তো? যখন আমার কাছে দর্শকদের সাথে শেয়ার করার মতো সত্যিই কোনও গুরুত্বপূর্ণ বা ভাল বিষয় থাকবে, আমি নিশ্চয়ই পোস্ট করব। কিন্তু অকারণে হুটহাট সেলফি তোলা, ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়া আর ছবি শেয়ার করে নিজেকে ‘কুল’ প্রমাণ করার চেষ্টা— এগুলো আমার ধাতে নেই। সত্যি বলতে কী, আমি এই ধরনেরর ব্যাপার একদম পছন্দ করি না।”
করণ জোহরের ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’-তে অভিনয় করে জাতীয় স্তরে প্রশংসা কুড়ানো এই অভিনেতা বর্তমানের ‘পাপরাজ্জি’ এবং ট্রোল সংস্কৃতি নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। টোটার মতে, "আজকাল হাতে একটা স্মার্টফোন থাকলেই সবাই নিজেকে সাংবাদিক ভাবতে শুরু করে। এটা কোনও কাজের কথা নয়। আপনি একটা সেলফি তুলতে চান, ঠিক আছে। কিন্তু কোনও তারকাকে স্রেফ একটা ছবির জন্য তার সীমার বাইরে গিয়ে ধাওয়া করা, যাতে সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লাইক পাওয়া যায়— এটা অত্যন্ত নোংরা মানসিকতা। মানুষের বোঝা উচিত যে তারকাদেরও একটা নিজস্ব স্পেস বা ব্যক্তিগত জীবন আছে। তাদেরও নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ রয়েছে।"

যেকোনও শো বা শুটিং সেটে একদম কাঁটায় কাঁটায় সময় মেনে পৌঁছানোর জন্য টলিউডে টোটার আলাদা সুনাম রয়েছে। পাংচুয়ালিটি বজায় রাখতে ফ্যানেদের সেলফির আবদার মেটানোর ক্ষেত্রেও নিজের একটা স্পষ্ট গাইডলাইন তৈরি করে নিয়েছেন তিনি।
টোটার কথায়, "সাধারণত অনুরাগীরা আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে চাইলে আমি কখনও ‘না’ বলি না। কিন্তু আমি যদি কোনও জরুরি কাজে কোথাও যাই এবং সেলফি তোলার চক্করে আমার সেখানে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে আমি খুব বিনীতভাবে তাঁদের ‘না’ বলে দিই। কারণ আমি ঠিক সময়ে নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছনোর নিয়ম কড়াভাবে মেনে চলি। সব জায়গায় সময়মতো পৌঁছানো আমার কাছে সবচেয়ে আগে।"
টলিউডের এই ‘ফিটনেস কিং’ তাঁর কেরিয়ারের মতোই নিজের জীবনযাত্রাকেও রেখেছেন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও প্রচারের আলো থেকে দূরে। জন্মদিনের শুভক্ষণে অভিনেতার এই খাঁটি ও বাস্তবমুখী চিন্তাভাবনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল— তিনি শুধু পর্দায় নন, বাস্তবাঞ্চলেও একজন আসল ‘ভদ্রলোক’!















