স্বত্ব বিক্রির বিষয়েও ‘ধুরন্ধর’
বলিউডের অন্যতম বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ঘিরে বড়সড় সিদ্ধান্ত। ধুরন্ধর নির্মাতারা এবার দুই কিস্তির ব্রডকাস্ট স্বত্ব একসঙ্গে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছেন। লক্ষ্য একটাই, দ্বিতীয় ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার আগেই টেলিভিশন ও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম থেকে রাজস্ব আরও মজবুত করা।রণবীর সিং, সঞ্জয় দত্ত, আর মাধবন, অক্ষয় খান্না ও অর্জুন রামপাল অভিনীত ধুরন্ধর প্রথম কিস্তি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মুক্তি পেয়েই বক্স অফিসে নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে। তীব্র গল্প, বড় মাপের নির্মাণ এবং শক্তিশালী ব্যবসার জোরে ছবিটি দ্রুতই বছরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য হিন্দি ছবির তালিকায় জায়গা করে নেয়।
ট্রেড ম্যাগাজিন কমপ্লিট সিনেমা-তে প্রকাশিত একটি পাবলিক নোটিস অনুযায়ী, পরিচালক আদিত্য ধর ও জিও স্টুডিয়োজ এখন এমন একটি লাইসেন্স চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, যেখানে ধুরন্ধর ফ্র্যাঞ্চাইজির দুই ছবির জন্যই একসঙ্গে এক্সক্লুসিভ লিনিয়ার ট্রান্সমিশন ও রিট্রান্সমিশন স্বত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই স্বত্ব কার্যকর হবে স্যাটেলাইট চ্যানেল, ডিটিএইচ পরিষেবা, আইপিটিভি, কেবল নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য সম্প্রচার মাধ্যমের ক্ষেত্রে। জানা গিয়েছে, আদিত্য ধর ও জিও স্টুডিয়োজ ইতিমধ্যেই নাকি বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম কিস্তিটি ৩১ মার্চ থেকে টেলিভিশনে সম্প্রচার শুরু করতে পারে।”
তবে দ্বিতীয় কিস্তির ক্ষেত্রে রয়েছে নির্দিষ্ট কৌশল। সূত্রের কথায়, “ ‘ধুরন্ধর ২’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ১৯ মার্চ। কিন্তু ছবিটি টিভিতে আসবে মুক্তির প্রায় ১১৭ দিন পরে, অর্থাৎ প্রায় চার মাসের মাথায়।”এই সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট, ধুরন্ধর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে শুধু বড়পর্দায় নয়, টেলিভিশন বাজারেও দীর্ঘমেয়াদি ও সুসংগঠিতভাবে কাজে লাগাতে চাইছেন নির্মাতারা।
আসছে ‘কোহরা ২’
প্রথম সিজনের সাফল্যের পর ফের ফিরছে ‘কোহরা’-র নয়া সিজন। আবেগের মাত্রা বাড়ছে, তদন্তের জটিলতাও আরও তীব্র। ‘কোহরা ২’, অভিনয়ে বরুণ সবতি ও মোনা সিং, নেটফ্লিক্সে প্রিমিয়ার করতে চলেছে ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। দর্শকদের ফের টেনে নিয়ে যাবে পাঞ্জাবের অপরাধজগতের সেই বিষণ্ণ, নৈতিকভাবে ধূসর বাস্তবতায়, যেখানে কোনও কিছুই সাদা-কালো নয়।
নতুন সিজনে গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একেবারে নতুন একটি খুনের মামলা। তবে বদলালেও, ‘কোহরা’-র স্বাক্ষর স্টাইল অটুট-রূঢ় বাস্তবতা, নিঃশব্দ টানটান উত্তেজনা আর চরিত্রের মনস্তত্ত্বে গভীর ডুব। বরুণ সবতি আবারও ফিরছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর অমরপাল যশজিৎ সিং ওরফে ‘গারুন্ডি’ চরিত্রে। তবে এবার পরিস্থিতি বদলেছে। অতীতের মানসিক ক্ষত বয়ে নিয়ে গারুন্ডিকে বদলি করা হয়েছে এক নতুন থানায়। অপরিচিত পরিবেশে নিজেকে নতুন করে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই, সঙ্গে ভিতরে জমে থাকা না-বলা ব্যথা, সব মিলিয়ে চরিত্রটি এবার আরও স্তরযুক্ত, আরও ভাঙাচোরা।
এই সিজনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন মোনা সিং। তিনি অভিনয় একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার এবং গারুন্ডির সরাসরি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চরিত্রে। ক্ষমতা, কর্তব্য আর মানবিক দ্বন্দ্ব, এই তিনের সংঘাতে তাঁর চরিত্র সিরিজে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন নির্মাতারা।
‘লকড়বগ্গা ২’ থেকে সরলেন মিলিন্দ!
সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের বদলে যাওয়া বাস্তবতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে, বড় কাস্টিং আপডেট নিয়ে হাজির ‘লকড়বগ্গা ২: দ্য মাঙ্কি বিজনেস’। বহু প্রতীক্ষিত এই সিক্যুয়েলে ‘সেনসেই’ চরিত্রে মিলিন্দ সোমানের জায়গায় যুক্ত হলেন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত অভিনেতা আদিল হুসেন। ছবিটি চলতি বছরের শেষের দিকে মুক্তি পাওয়ার কথা।
বিশ্বজুড়ে দর্শকরা বহু আগেই অভ্যস্ত একই আইকনিক চরিত্র ভিন্ন ভিন্ন অভিনেতার ব্যাখ্যায় নতুন রূপ পায়। ‘জেমস বন্ড’, ‘সুপারম্যান’ কিংবা ‘স্পাইডার-ম্যান’...সব ক্ষেত্রেই চরিত্র বদলেছে, অভিনেতা বদলেছে, কিন্তু ইউনিভার্স এগিয়ে গিয়েছে। সেই পথেই এবার পা রাখছে ভারতীয় সিনেমা। আর এই পরিবর্তনের একেবারে সামনের সারিতে রয়েছে লাকড়বগ্গা ইউনিভার্স।
নিজেকে বিশ্বের প্রথম ‘অ্যানিমাল লাভার ভিজিলান্ট ইউনিভার্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা 'লকড়বগ্গা' ইতিমধ্যেই তার সিক্যুয়েলের শুটিং শেষ করেছে ২০২৫ সালের জুনে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ছবির স্কেল যেমন বড় হয়েছে, তেমনই পর্দার আড়ালেও দায়িত্ব বেড়েছে মুখ্য অভিনেতা অংশুমান ঝাঁ-র, যিনি এবার নির্মাণ প্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।

'লাইফ অফ পাই'-এর মতো আন্তর্জাতিক ছবিতে অভিনয়ের জন্য পরিচিত আদিল হুসেন এবার এমন এক চরিত্রে পা রাখছেন, যেটি সিক্যুয়েলে আরও বিস্তৃত ও গভীরভাবে নির্মিত হয়েছে। লকড়বগ্গা ২: ‘দ্য মাঙ্কি বিজনেস’ আগের তুলনায় আরও তীক্ষ্ণ, আরও অন্ধকার আর আরও অ্যাকশন-নির্ভর হতে চলেছে বলেই ইঙ্গিত। এই প্রেক্ষাপটে ‘সেনসেই’ চরিত্রটি হয়ে উঠবে গল্পের অন্যতম চালিকাশক্তি, নায়কের যাত্রাপথে যার ভূমিকা থাকবে নির্ণায়ক।
ভারতীয় সিনেমায় ইউনিভার্স-চিন্তার যে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, ‘লকড়বগ্গা ২’ সেখানে শুধু একটি সিক্যুয়েল নয় বরং একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশ।
