বেশ কয়েক বছর আগেই প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে অভিনেতা, বিধায়ক হিরণের, খবর ছিল এমনই।বিচ্ছেদের পর খড়্গপুরে বেশিরভাগ সময় কাটান অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ্ময় (হিরণ) চট্টোপাধ্যায়। অভিনয় জগৎ থেকে এখন অনেকটাই দূরে তিনি। বরং রাজনীতির ময়দানে সক্রিয়ভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তাঁকে। 


তবে অনেকদিন ধরেই হিরণের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরুর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। এবার এই গুঞ্জনে সিলমোহর দিলেন তিনি নিজেই। দ্বিতীয় বিয়ে সারলেন হিরণ। বেনারসে গিয়ে বিয়ে সেরেছেন তিনি। পাত্রীর নাম ঋত্বিকা গিরি। পেশায় মডেল তিনি। নিজেই সমাজমাধ্যমে ঋত্বিকার সঙ্গে বিয়ের ছবি ভাগ করেছেন হিরণ। যদিও নিজেই সেই ছবি পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরে মুছে ফেলেন। কিন্তু ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয় হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি।স্বামীর বিয়ের ছবি দেখে হতবাক প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। তিনি নাকি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। শুধু তাই-ই নয়, অনিন্দিতা জানান হিরণের সঙ্গে তাঁর নাকি বিচ্ছেদ হয়নি। তাই হিসেবে মতো, হিন্দু ধর্মে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ না হলে দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব নয়। কিন্তু সেটাই করেছেন হিরণ। তবে এটা কি কোনও ছবির প্রচার? নাকি আসন্ন ভোটের জন্য নতুন প্রকারের ক্যাম্পেন? এখন এই প্রশ্ন ঘুরছে সমাজমাধ্যমে। যদিও হিরণের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য আসেনি।

এবার আজকাল ডট ইন-এর প্রতিনিধির কাছে বিস্ফোরক সব দাবি করলেন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, হিরণের সব কিছুই লুকিয়ে। আমার সঙ্গে ওর বিয়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিন লুকিয়ে রেখেছিল। ওর যুক্তি ছিল, ব্যাপারটা প্রকাশ পেলে নাকি ফিল্মি কেরিয়ারের ক্ষতি হবে। কিছুদিন আগে পর্যন্তও অনেকে জানতেন না যে হিরণের বিয়ে করা স্ত্রী আছে একজন। আর হিরণের মেয়র বয়স কিন্তু ১৯ বছর! কেমন? জানিয়ে রাখি শুধুই আইনত নয়, সামাজিকভাবেও রীতিমতো ঘটে করে বিয়ে হয়েছিল আমার এবং হিরণের। হিরণের বয়সের কথা তুলেও আমাকে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে খোঁচা। আমি নাকি হিরণের থেকে বয়সে বড় ইত্যাদি ইত্যাদি। জানিয়ে রাখি, হিরণ আমার থেকে ৬ বছরের বড়। এবার তো ভাবছি আমার আধার কার্ডটা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দিই....” হাসতে হাসতে বলে ওঠেন তিনি।  

 

খানিক থেমে হিরণের বয়স প্রসঙ্গে ফের বললেন অনিন্দিতা, “ঘাটালে তো দেবের বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়েছিল হিরণ। ভোটে দাঁড়াতে হলে তো নিজের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হয়। তা সেটা খোঁজ করলেই তো সব পরিষ্কার হয়ে যাবে, জানা যাবে হিরণের আসল বয়স। তাই না?”
কথা শেষে তাঁর আরও সংযোজন, “হিরণ ভেবেছিল রিল লাইফ রিয়েল লাইফের মতোই। গুলিয়ে ফেলেছিল। এগুলো ফটোশুট নয়, মিথ্যে নয়। এআই দিয়ে তৈরি করা ছবিও নয়। কারণ এই মেয়েটির সঙ্গে বিদেশভ্রমণও করেছে হিরণ। সেসব তথ্যও আমার কাছে রয়েছে। আরও হাজার হাজার প্রমাণ রয়েছে।”
হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে তাই প্রশ্ন এখন একটাই -এটা নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও গভীর কোনও রহস্য? উত্তর মিলবে কবে, সেটাই এখন দেখার।