‘গুপ্তধনের সন্ধানে’, ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’, ‘কর্ণসুবর্ণের গুপ্তধন’-এর পর আসছে গুপ্তধন ফ্র্যাঞ্চাইজির চতুর্থ ছবি। নাম, ‘সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন’। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে সেই ছবির ঝলক৷ এই গুপ্তধন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযানের সৌজন্যে দর্শকের কাছের মানুষ হয়ে উঠেছে সোনাদা, আবির এবং ঝিনুক। ফ্র্যাঞ্চাইজির বাকি ছবিগুলির মতো 'সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন'-এও মূল চরিত্রে যথারীতি অভিনয় করছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন চক্রবর্তী এবং ইশা সাহা। রহস্য, হাস্যরস, সাসপেন্সের মিশেলে বোনা হয়েছে এই ছবির গল্প। এবারের অভিযানের পটভূমি সুন্দরবন৷ নির্মাতাদের দাবি, এই ছবির ক্যানভাস আগের তুলনায় অনেক বড়। সুন্দরবনের মধ্যে শুটিং করার অভিজ্ঞতা গল্পকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। তবে এই ছবির ইতিহাসের রহস্য ছাপিয়ে বর্তমানে চর্চায় উঠে এসেছে টলিপাড়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া টলিউডের অন্দরে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে? এই নিয়ে এবার সোজাসাপটা জবাব দিলেন আবীর চট্টোপাধ্যায়, ইশা সাহা এবং অর্জুন চক্রবর্তী।
ইতিমধ্যেই ছবির টিমের মুখোমুখি হয়েছিল আজকাল ডট ইন। সেই সাক্ষাৎকারে প্রসঙ্গ ওঠে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল নিয়ে। সেখান থেকে আলোচনা বাঁক নেয় এর ফলাফল টলিপাড়ার উপর কীভাবে পড়বে তা নিয়েও। একজন শিল্পী হিসেবে পরিবর্তনের হাওয়াকে কীভাবে অনুভব করছেন তাঁরা? আবির সোজাসাপটা বলে ওঠেন, “দেখুন, এখনই এই বিষয়ে হড়বড় করে মন্তব্য করাটা ঠিক হবে না। ইটজ টু আর্লি টু কমেন্ট। আর এত তাড়াতাড়ি কোনও রিয়্যাকশন আসার কথাও নয়। যদি আসত সেটা অস্থায়ী হত। তাই যদি দীর্ঘমেয়াদি কোনও বদলের কথা বলি তাহলে সেটা হওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। এখানে বাকি সকলের হয়েই বলছি, আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনে বিশ্বাসী। তাহলে সেটা পোক্ত হবে। তবে যদি চটপট কোনও পরিবর্তন আসে সেটা সমস্যাও তৈরি করতে পারে অথবা দেখা গেল মসৃণভাবেও চলতে পারে। মোট কথা, ইন্ডাস্ট্রির ভাল হোক। সেটাই চাই আমরা সকলে। তবে তার জন্য একটা সময় তো লাগবেই।”
শিল্পী হিসেবে টলিপাড়ার সদস্য আবির-অর্জুন-ইশা-ধ্রুব। তবে সমাজমাধ্যমে এঁদের মধ্যে কেউই রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন না। ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা নিয়েও খুব একটা কিছু বলতে শোনা যায় না তাঁদের। জবাবে ইশা বললেন, “অভিনেতা হিসেবে আমাদের প্রাথমিক কাজটা হল অভিনয় করা। বাকি জিনিসপত্র আমরা না করলেও অনেকে আছেন, যাঁরা করে দেবেন। ওটা আমাদের কাজ নয়। তাছাড়া রাজনৈতিক মনোভাব -এই বিষয়টি আমার অত্যন্ত ব্যক্তিগত। আর ব্যক্তিগত জিনিস ব্যক্তিগত থাকাই ভাল। তবে লোক না জানালেও আমাদের স্পষ্ট অবস্থান আছে রাজনৈতিকভাবে। আমাদের প্রত্যেককেরই আছে। তবে সেই মতামত আমি আমার ব্যক্তিগত পরিসরে জনাব, সমাজমাধ্যমে নয়। আর সত্যি কথা বলতে কী আমাদের মতামতে কারও কিছু যায় আসে না। দেশ আমরা চালাই না। তবে আশা রাখি, সবকিছু ঠিক হয়ে যাব।”
অর্জুনের মতে, “ আমি ইন্ডাস্ট্রির অংশ, তাই এখানে সমস্যা হলে তা সবাইকেই এফেক্ট করে। তবে সেটা নিয়ে সমাজমাধ্যমে কী লিখব, কতটা লিখব সেটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। আর ইশা যেটা বলল আমি কী বলি না বলি তাতে কিছু যায় আসে না কারও। তবে কাদের কাছে, কতটা তীব্রভাবে সেইসব মতামত জ্ঞাপন করব, সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যাপার।”
প্রায় একই সুরে আবিরও বলে উঠলেন, “ওদের সঙ্গে প্রায় সম্পূর্ণ সহমত। তবে শুধু একটা বিষয় যোগ করব আমি। সেটা হল, ইন্ডাস্ট্রির আর্টিস্ট ফোরামে গত চার-পাঁচ বছর ধরে আমি একটি দায়িত্ব সামলাই। সেখানে চেষ্টা করি যথাসাধ্য। আর একটা কথা হচ্ছে, তাঁদের কাছেই আমি নিজের মতামতটা বয়কট করি, যেসব মানুষের মতামতটাও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সঙ্গে তর্ক করতে পারি, আলোচনায়ও করতে পারি। ফলে, প্রচুর মানুষের সঙ্গে নিজের মতামত ভাগ করতে যাবই বা কেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় তো সম্ভব নয় সেটা। তাঁরা তাঁদের মতামত নিয়ে থাকুক। তবে তার মানে এই নয় যে আমাদের মতামত নেই। রাজনৈতিক মতামত আমাদের আছে, অবস্থান আছে এবং সেটা খুব পোক্তভাবেই আছে। যে কোনও শিল্পীরই থাকা উচিত।”
সোনাদা টিমের এই বার্তা থেকে পরিষ্কার—পর্দার রহস্য সমাধানে তাঁরা যতটা পারদর্শী, পর্দার ওপারের জটিল রাজনীতি নিয়ে ততটাই সংযত এবং সচেতন। আপাতত রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে ‘সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন’-এর মাধ্যমে দর্শকদের এক টানটান রোমাঞ্চ উপহার দিতেই মরিয়া ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই টিম।
















