দু’বছর আগের ১৯ নভেম্বরের রাতটা ভুলতে পারেনি ভারতীয় ক্রিকেট দল। চোখের জলে নিজেদের দেশের স্টেডিয়াম থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। সেই একদিনের বিশ্বকাপ না পাওয়ার আক্ষেপ এবার মেটাল টিম ইন্ডিয়া। সেই আহমেদাবাদেই তিন বছর পর শাপমোচন হল ভারতের। রবিবার অহমদাবাদে ফাইনালে তারা ৯৭ রানে হারিয়ে দিল নিউজিল্যান্ডকে।সূর্যকুমার যাদবের হাত ধরে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল টিম ইন্ডিয়া। এছাড়া বিশ্বের প্রথম দল হিসাবেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ধরে রাখল ভারত।
আর তারপরেই আর পাঁচজন সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের মতো আবেগের বাঁধ ভেঙে দিয়েছেন তারকারাও। এমনিতেই টলিপাড়া জুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের ছড়াছড়ি। কেউ সুযোগ পেলে আজও মাঠে অথবা গলিতে ক্রিকেট ব্যাট হাতে নেমে পড়েন কেউ বা ভারতের ক্রিকেট ম্যাচ থাকলে হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও চোখ রাখেন টিভিতে। একা অথবা সুযোগ পেলে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে জমিয়ে। অঙ্কুশ-ই যেমন। বান্ধবী তথা অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা এবং বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বাড়িতে বসেই এদিন ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী রইলেন। আর ভারত জেতামাত্রই আকাশ ফাটানো চিৎকার করে উঠলেন। এবং করেই গেলেন। শেষমেশ খানিক চিৎকার কমিয়ে হাত তুলে সবার সঙ্গে উল্লাসে মাতলেন। অঙ্কুশের সেই মুহূর্তের ভিডিও নিমেষে ভাইরাল সমাজমাধ্যমে।
সাহেব ভট্টাচার্যকে দেখা গেল গল্ফ গ্রিনে নিজের আবাসনের বাড়ির বাইরে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেদার পটকা ফাটাচ্ছেন। আর মাঝেমধ্যেই চিৎকার করে উঠছেন আনন্দে। ছড়িয়ে দিচ্ছেন টুকরো টাকরা হাসি।
জিতু কামাল সমাজমাধ্যমে বেশ অ্যাক্টিভ। নিজের বিভিন্ন কাজ থেকে, ব্যক্তিগত ছবি, ইত্যাদি পোস্ট করে থাকেন। এবং ক্রিকেট নিয়ে তো বটেই। অভিনেতার ক্রিকেটপ্রীতি সর্বজনববিদিত। নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে যেভাবে ভারত হারিয়েছে, সেই বিষয়ে একটি মজাদার পোস্ট করেছেন অভিনেতা। সেই পোস্টের মধ্যেই রসিকতার মোড়কে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট দলের উদ্দেশ্যে পরিবেশন করা হয়েছে কটাক্ষ এবং খানিক হালকা আঁচের শ্লেষ। অভিনেতা লিখলেন, " টি টোয়েন্টি ফাইনালটা কখন শুরু হবে কারওর জানা আছে? আমি বড়বাজার একাদশের খেলা দেখছি সন্ধ্যে থেকে। ভারতীয় দলের খেলোয়াড়দের মতো দেখতে কিছু প্লেয়ার বড়বাজারকে কী ক্যালান ক্যালালো... ভাল প্রস্থেটিক মেকআপ করেছেন সোমনাথ কুণ্ডু।
অন্যদিকে রয়েছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়ও। অবশ্য তিনি কখনও একা খেলা দেখেন না। না স্টেডিয়াম না তো ঘরে। এদিন যেমন সৃজিতের দোলে যোগ দিয়েছিলেন ইন্দ্রাশিস রায়, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋদ্ধিমা ঘোষ, গৌরব চক্রবর্তী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব। খেলাশেষে একটি 'গ্রূপফি' তুলে সৃজিত লিখলেন, “মিশন সফল। এবার পরের স্টেশন ২০২৭-এর বিশ্বকাপ।”
তালিকায় রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা অর্পণ ঘোষালও। অর্পণ নিজে এক সময় চুটিয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। এখনও সময় সুযোগ পেলে ব্যাট হাতে নেমে পড়েন ‘রাপ্পা’। আজকাল ডট ইন-কে অভিনেতা জানালেন, তিনি এই ম্যাচ দেখার সময় বেশ চাপমুক্ত-ই ছিলেন। তাঁর কথায়, “কেন জানি না আজ মনে হচ্ছিল ভারতের হাতেই ট্রফি উঠবে। ভারত যেভাবে লড়াই করে ফাইনালে উঠেছে, সেই মোমেন্টাম তো ছিলই। আর নিউজিল্যান্ডকে তো দাঁড়াতেই দিল না। অবশ্য প্রথম দিক থেকেই নিউজিল্যান্ড যেভাবে তাদের বোলার চেঞ্জ করাচ্ছিল, তখনই বোঝা গিয়েছিল ওরা কতটা চাপে। সেই সুযোগটা ছাড়েনি ভারতীয় দল। দারুণ লেগেছে এই ম্যাচ। আর যেভাবে ভারতীয় দল শুরু থেকে ধাক্কা খেয়ে তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ জয় করল, সেই স্পিরিটটা শিক্ষণীয় সবার কাছে!”
