যাঁরা এপার বাংলার বিনোদন দুনিয়ার সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে বিরক্ত তাঁদের জন্য খবর। বাংলাদেশেও এই অরাজকতার যথেষ্ট রমরমা। যার জেরে ওপার বাংলায় মুক্তির আগে সমস্যার মুখে ব্রাত্য বসুর বহু প্রতীক্ষিত ছবি "হুব্বা"। নামভূমিকায় মোশাররফ করিম। সবার প্রিয় নায়ক একেবারে অন্য ভূমিকায়। তাই তাঁর ছবি, তাঁর অভিনয় দেখার জন্য মুখিয়ে দুই বাংলা। সেখানেই বাধা। বাংলাদেশের সিন্ডিকেট রাজ অভিনেতার নিজের দেশে ছবিমুক্তিতে বাধা দিচ্ছে। এমনই অভিযোগ ছবির অন্যতম প্রযোজক জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজের। আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল তাঁর সঙ্গে। তিনি বাংলাদেশ থেকে বলেছেন, "একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া এই ছবিমুক্তি কেউ আটকাতে পারবে না।"" দাবি, ওপার বাংলায় মোশাররফ করিমের এই ছবি ব্লকবাস্টার হবে। তিনি একটি করে পোস্টার প্রকাশ্যে এনেছেন। সে দেশে উন্মাদনা বেড়েছে।

বুধবার সেই মর্মে প্রযোজনা সংস্থার সামাজিক পাতায় তিনি একটি লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন। সেখানে বার্তা শুরু হয়েছে ‘আবার ষড়যন্ত্র’ বাক্যবন্ধ দিয়ে। তারপরে লেখা, ‘একটি তথাকথিত সিন্ডিকেট আবারও ষড়যন্ত্র করছে। যাতে “হুব্বা” সিনেমাটি বাংলাদেশে মুক্তি পেতে না পারে। তারা তাদের সর্বচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করছে। কিন্তু তারা সফল হবে না। কারণ, এটা কোনও হিন্দি সিনেমা না বা কলকাতার অন্য নায়ক-এর সিনেমা না। এটা আমাদের মোশাররফ করিমের সিনেমা। সেই সিন্ডিকেট কিছুই করতে পারবে না। কারণ সাথে আছে মোশাররফ করিমের লাখো ভক্ত। আছে চলচ্চিত্র, নাট্যাঙ্গন, মিডিয়া ও মিডিয়া সাংবাদিক ভাই-বোনেরা।’ 



কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশের এক প্রথম সারির প্রযোজক-পরিচালক নাকি এই ঘটনার নেপথ্যে। এর আগে জিতের ছবি ‘মানুষ’-এ অভিনয় করেছিলেন বিদ্যা সিনহা মিম। ছবির যৌথ প্রযোজক জাজ মাল্টিমিডিয়া। বাংলাদেশে ছবিটি মুক্তির কথা ছিল। তখনও সিন্ডিকেট রাজের দৌরাত্ম্যে বাংলাদেশের সেন্সর ছাড়পত্র দেয়নি। সেই সময়ও পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশের এই প্রযোজনা সংস্থা। জিতে গিয়েছিলেন সেই প্রযোজক-পরিচালক। পরে অবশ্য ছবিটি মুক্তি পায় সে দেশে। এবারেও কি সেরকমই কিছু হতে চলেছে? প্রযোজনা সংস্থার সামাজিক পাতা অনুযায়ী, ‘হুব্বা’র ভাষায় বলতে গেলে, “একটি মাত্র পো… , আর সেটা মারার জন্য একটি সিন্ডিকেট বসে আছে। আমাদের সম্মিলিত জোয়ারে সব সিন্ডিকেট ভেসে যাবে বঙ্গোপসাগরে। ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশের রূপালি পর্দায় আসবেই ‘হুব্বা’।’

এই সুর আব্দুল আজিজের কথাতেও। তাঁর দাবি, ""আমি জানি কে করছে। কিন্তু নাম নিতে চাই না। আসলে আমাদের দেশে কিছু নিয়ম আছে। প্রতি সপ্তাহে দুটোর বেশি ছবি মুক্তি পায় না। তাই ১৯ জানুয়ারি ছবিমুক্তি না ঘটলে বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়বে "হুব্বা"। শত্রুপক্ষ সেটাই চাইছে। কিন্তু সেটা আর হওয়ার নয়। ইতিমধ্যেই আমার পোস্ট আমাদের দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছে। জনগণ আমার পাশে।"" শুধু দুই বাংলায় নয়, আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, ইটালি, জার্মান, অস্ট্রেলিয়ায় একযোগে মুক্তি পেতে চলেছে ব্রাত্য বসুর এই ছবি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হবে ছবিটি? প্রযোজকের দাবি, সেটা কলকাতার প্রযোজনা সংস্থার দায়িত্ব। তাঁর দায়িত্ব বিশ্বে ছবিটি ছড়িয়ে দেওয়া।