মার্চ মাসের প্রথম দিনই অরুণাচল প্রদেশে শুরু হতে চলেছে শিলাদিত্য মৌলিক পরিচালিত নতুন বাংলা ছবি ‘ছেলেধরা’র শুটিং। ছবির মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন স্বস্তিকা মুখার্জি। ইন্দো-আমেরিকান যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবির শুটিং হবে অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর এবং জিরো ভ্যালির মতো অঞ্চলে।

 

পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিকের আগের ছবি 'সূর্য' টানা ১১ সপ্তাহ প্রেক্ষাগৃহে চলেছিল। আর এই ছবিতে তিনি ফিরছেন এক ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে। 'ছেলেধরা' একটি ফ্যামিলি থ্রিলার, যেখানে পারিবারিক আবেগ, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিক দ্বন্দ্ব থ্রিলারের কাঠামোর মধ্যেই তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নৈতিকভাবে জটিল এক নারী চরিত্র—যা বাংলা ছবিতে সচরাচর কম দেখা যায়।

 

ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন একা মাকে ঘিরে। আবেগের বশে মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে তাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যখন মেয়েটিকে অপহরণ করা হয়। এই টানটান পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই গল্প এগোয়। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মোড়ে, বৃষ্টি এমন এক সত্যির মুখোমুখি হয় যা সে কল্পনাও করেনি— জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক যাত্রায় এগিয়ে চলে বৃষ্টি।

 

ছবিটি সম্পর্কে পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিক বলেন,“এই ছবিটি মূলত সেই মানুষদের গল্প—যাঁরা নিখুঁত নন, কিন্তু ভালবাসতে পারেন। ছেলেধরা এক ধরনের রোড জার্নির মতো এগোয়, তবে তার কেন্দ্রে রয়েছে অভিভাবকত্ব, দায়িত্ববোধ এবং নিজেদের ভুলের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস।”

ছবি সৌজন্যে: রাজীব চক্রবর্তী 

অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জী বলেন,“আমার চরিত্র বৃষ্টি এমন চরিত্র নয়, যাকে সহজেই ভাল লাগবে। সে আবেগপ্রবণ, আহত এবং ত্রুটিপূর্ণ। কিন্তু একজন মা হিসেবে তার ভালবাসা খুবই প্রকট। এই চরিত্রটা আমাকে নিজের মনের ভিতরে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।”

 

প্রযোজক প্রতীক মজুমদারের কথায়, “শিলাদিত্য আর আমার পথচলা শুরু আমাদের বিজ্ঞাপনের একেবারে শুরুর দিনগুলো থেকে। ২০১৪ সালে এনএফডিসি ফিল্ম বাজারে আমাদের প্রথম অংশগ্রহণ মিসেস স্কুটার, ওটাই ছিল তার প্রথম ফিচার—সেই অভিজ্ঞতাই আমাদের মধ্যে এক শক্তিশালী সৃজনশীল বোঝাপড়া তৈরি করে। আমি যখন ছেলেধরা পড়ি, তখনই এক তীব্র তাগিদ অনুভব করি এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার—কারণ চিত্রনাট্যে ছিল গভীর আবেগ এবং বাণিজ্যিক শক্তি। আর শুরু থেকেই স্বস্তিকা মুখার্জি যুক্ত থাকায় আমরা বুঝেছিলাম, আমাদের হাতে একটা সফল ছবি রয়েছে।”

 

সীতা২২ ফিল্মস-এর প্রতিষ্ঠাতা অনিন্দিতা (টুটু) মুখার্জী বলেন, “ছেলেধরার গল্প আমাকে টেনেছে কারণ এই ছবির আবেগের কেন্দ্রে রয়েছে নারী ও শিশু—যেখানে একসঙ্গে তাদের ভঙ্গুরতা আর দৃঢ়তা তুলে ধরা হয়েছে। এই ছবিতে সহ-প্রযোজনা করা আমার নতুন প্রযোজনা সংস্থা যে ধরনের সামাজিকভাবে সচেতন, বহুস্তরীয় আবেগে ভরপুর গল্পকে সমর্থন করতে চায়, তারই প্রতিফলন—যাতে নির্দোষ ও নীরব মানুষদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা যায়।”

 

ছবিটি প্রযোজনা করছেন প্রতীক মজুমদার ও অনিন্দিতা (টুটু) মুখার্জী। প্রযোজনা সংস্থা হিসেবে যুক্ত রয়েছে হ্যান্ডিম্যান এবং সীতা২২ ফিল্মস। ছবির চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন ইতালির সিনেমাটোগ্রাফার ভিনসেনজো কনডোরেলি। ক্রিয়েটিভ প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন জিতিন হিঙ্গোরানি, লাইন প্রডিউসার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন শুভেন কুমার দাস। ছবির প্রোডাকশন ডিজাইনের দায়িত্বে রয়েছেন সোমান্বিতা ভট্টাচার্য এবং কস্টিউম ডিজাইন করছেন অজোপা মুখার্জি।

 

মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত শুটিং চলবে বলে জানা গিয়েছে। শীঘ্রই ছবির অন্যান্য অভিনেতা ও কলাকুশলীদের নাম খুব তাড়াতাড়িই ঘোষণা করা হবে।