স্ট্রিট ফটোগ্রাফি বা পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি বিশ্বের সব প্রান্তেই একটি স্বীকৃত শিল্পমাধ্যম। এটি মানুষের জীবনের গল্প, আবেগ ও মুহূর্তকে তুলে ধরে। সমস্যাটি মূলত ফটোগ্রাফিতে নয়, বরং উদ্দেশ্যের স্বচ্ছতায়। যখন ফটোগ্রাফি ‘সম্মতি’ বা ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা’র ভিত্তিতে হয়, তখন সেটি শিল্প। কিন্তু যখন ক্যামেরাকে ব্যবহার করা হয় কাউকে অস্বস্তিতে ফেলার বা উত্যক্ত করার লাইসেন্স হিসেবে, তখনই তা একটি সামাজিক অপরাধে পরিণত হয়।
কলকাতার রাজপথ এখন যেন এক আস্ত স্টুডিও। গত কয়েক বছরে কলকাতা এবং অন্যান্য মহানগরে ‘স্ট্রেঞ্জার পোর্ট্রেট’ বা রাস্তায় অচেনা মানুষের ছবি তোলার প্রবণতা বেড়েছে। পেশাদার ফটোগ্রাফারদের পাশাপাশি শখের বশবর্তী হয়ে অনেকেই এখন ক্যামেরায় বন্দী করছেন অপরিচিত মুখ। কিন্তু সমস্যা তৈরি হচ্ছে তখন, যখন ‘সম্মতি’ বা ‘পার্সোনাল স্পেস’-এর তোয়াক্কা না করে অবাধে ছবি তোলা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ফটোগ্রাফি হয়ে দাঁড়াচ্ছে নারীদের উত্যক্ত করার এক নতুন হাতিয়ার। প্রশ্ন উঠছে, এ কি ‘স্ট্রেঞ্জার পোর্ট্রেট’ ফটোগ্রাফি, নাকি শিল্পের দোহাই দিয়ে নারীদের গোপনীয়তায় বা স্বাধীনতায় আড়ি পাতা? সম্প্রতি এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে যখন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের মতো অভিনেত্রী এই প্রবণতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং তার পরিবর্তে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
এই বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখনই অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে এবং রাস্তায় নারীদের পোশাক বা চালচলন নিয়ে সমাজের যে অবদমিত দৃষ্টিভঙ্গি, তার বিরুদ্ধে বরাবরই সরব স্বস্তিকা। ‘স্ট্রেঞ্জার পোর্ট্রেট’ নিয়ে স্বস্তিকার বক্তব্য – “ক্ষমতায় যারাই আসুক, বাংলার রাস্তায় ‘স্ট্রেঞ্জার পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি’-র আড়ালে যে অভদ্রতা চলছে, তা বন্ধের দাবি জানাই। শিল্পের দোহাই দিয়ে মহিলাদের হেনস্থা করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।” স্বস্তিকা আরও লেখেন, “কীভাবে যে এই অসভ্যতামি প্রশংসিত হচ্ছে, সেটা ভেবে পাচ্ছি না।”

অভিনেত্রীর বক্তব্যকে কেউ জোর গলায় সমর্থন করেছেন কেউ বা বিরোধ। কেউ লিখেছেন, "স্ট্রিট ফটোগ্রাফি বা 'স্ট্রেঞ্জার পোর্ট্রেট' নিজে কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি একটি শিল্প। অপরাধ হলো যখন এই শিল্পের আড়ালে অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়া হয় বা কাউকে হেনস্থা করা হয়। ইউরোপ বা বাইরের দেশে এই মাধ্যমটি যেভাবে প্রশংসিত, আমাদের এখানে তা অনেক সময় অভদ্রতায় পর্যবসিত হচ্ছে। সমস্যা ক্যামেরায় নয়, সমস্যা মানসিকতায়। সম্মতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং নৈতিকতা—এই দুটিই পারে ফটোগ্রাফিকে হেনস্থা থেকে আলাদা করতে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সমস্যার সমাধান নয়, সচেতনতাই সমাধান।” আবার কেউ স্বস্তিকাকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের দাবি, কলকাতার স্ট্রিট ফোটোগ্রাফারদের অপমান করেছেন অভিনেত্রী।
















