টলিউডের আকাশে শোকের মেঘ আরও ঘনীভূত। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কেবল এক অপূরণীয় ক্ষতিই নয়, বরং রেখে গিয়েছে একরাশ অমীমাংসিত প্রশ্ন। চিত্রনাট্যে যা ছিল না, সেই ‘অঘটন’ কেন ঘটল? এই রহস্যের মাঝেই এখন অনিশ্চয়তার মুখে রাহুলের শেষ কাজ— মেগা ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের আরও একটি মেগা ‘চিরসখা’-র ভবিষ্যৎ নিয়েও। 


টলিপাড়ার অন্দরের কানাঘুষো, রাহুলের চলে যাওয়ায় এই ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে। সত্যিই কী তাই? কারণ মঙ্গলবার শুটিং শুরু হয়নি চিরসখা-র৷ খাঁ খাঁ করছে মুভিটন স্টুডিও। সত্যিটা জানতে এই ধারাবাহিকের প্রধান অভিনেতা সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আজকাল ডট ইন।  

অভিনেতার কথায়, “পাশাপাশি ফ্লোরে শুটিং হয় ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ এবং ‘চিরসখা’। কারণ একই প্রযোজনা সংস্থা-রই দু’টি ধারাবাহিক। যেদিন রাহুল আউটডোরে বেরোচ্ছে, সেদিনও কথা-আড্ডা হল। তারপর শুনি...কী বলব জানি না। দেখুন, সত্যিটা কী আমি জানি না। তবে সত্যিটা সামনে আসুক আমিও চাই। এখন তো চারপাশের সবাই ফেলুদা-ব্যোমকেশ হয়ে গিয়েছে। কত বিবৃতি! তবে হ্যাঁ, এটা সত্যিই যে ‘চিরসখা’-র শুটিং বন্ধ আছে। আমরা কল টাইম এখনও পাইনি। আসলে এই আবহে শুটিং হবেই বা কীভাবে? তবে আপনাকে এটুকু বলতে পারি,আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আবার শুরু হতে পারে এই ধারাবাহিকের শুটিং।"

 

খানিক থামলেন অভিনেতা। তারপর ফের বলে উঠলেন, “ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র ভবিষ্যৎ কী আমি জানি না। কিন্তু এই ধারাবাহিকে তো রাহুল ছিল না। তাই আমার বিশ্বাস, ‘চিরসখা’-র কাজ বন্ধ হবে না। রাহুলের এভাবে চলে যাওয়া আমরা কেউই মানতে পারছি না। ওর ছেলে সহজের মুখটা চোখে ভেসে উঠছে...কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু দেখুন, কাজ তো করতে হবে। আমরা তো একপ্রকার দিনমজুর। রোজ কাজ না করলে আমাদের চলবে কীভাবে? আর একদিনের শুটিং বন্ধ থাকলে ক্ষতিটা অনেকের। সার্বিকভাবে। আর একটা কথা বলুন বলিউড, দক্ষিণী ছবি ইন্ডাস্ট্রিতে নিশ্চয়ই শুটিং সেটে প্রচুর নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে অভিনেতা-শিল্পীদের জন্য। তা সেখানে কি কোনওদিন দুর্ঘটনা ঘটেনি? এটা সম্ভব? আরে, দুর্ঘটনা তো এক মুহূর্তের ব্যাপার। তাছাড়া, কেউ কি চাইবে তাঁর নিজের প্রোডাকশনের ক্ষতি হোক?”    


কথাশেষে সুদীপ পরিষ্কার করে এও জানান, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বহু প্রযোজনা সংস্থার নানান প্রজেক্টে অভিনয় করেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার জেরেই তিনি জানালেন, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই প্রযোজনা সংস্থা সত্যিই আলাদা। আর তাছাড়া টালিগঞ্জে ক’টা প্রযোজক আছে? – প্রশ্ন তাঁর। “তাই কাজ বন্ধ হলে ক্ষতি কিন্তু আখেরে টলিপাড়ার অনেকের” সাফ যুক্তি সুদীপের। 

 

তাহলে কবে থেকে ছোটপর্দায় নতুন শুটিং শেষে ফের শুরু হবে ‘চিরসখা’-র যাত্রা? উত্তরের অপেক্ষায় লক্ষ লক্ষ দর্শক।

 

প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। তালসারিতে ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে কীভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি, সেই নিয়ে উঠেছে তদন্তের দাবি।টনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তালসারি মেরিন পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, শুটিংয়ের জন্য নেওয়া হয়নি কোনও পুলিশি অনুমতি, এমনকী থানাকেও জানানো হয়নি! সোমবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে রাহুলের। বেশি পরিমাণে বালি ঢুকে যাওয়ার অভিনেতার ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় জলের তলায় ছিলেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়।‌ রাহুলের মৃত্যু নিয়ে প্রযোজনা সংস্থার তরফে শুরু থেকেই গাফিলতি এবং বক্তব্যে অসঙ্গতি ছিল বলে অভিযোগ। সমুদ্রে নৌকার উপর থেকে ড্রোন শটের সমস্ত দায়ভার রাহুলের উপর দেওয়া হয়েছে। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে নূন্যতম সুরক্ষার অভাব ছিল বলেও উঠেছে বড়সড় অভিযোগ।