রাহুল অরুনোদয় ব্যানার্জির মৃত্যুর সাত দিন পর টলিউডে বন্ধ হতে চলেছে শুটিং। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হতে চলেছে সমস্ত শুটিং।
আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে শান্তিলাল মুখার্জি জানান, "রাহুলের পরিবারের পাশে আমরা সকলে আছি। আজ থেকে আর্টিস্ট ফোরামের চার হাজার সদস্য, আর ফেডারেশনের সাত হাজার টেকনিশিয়ান এবং ফ্রেটার্নিটির সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পরিচালক প্রযোজক কলাকুশলীদের সুরক্ষার জন্য আমাদের আজ থেকে লড়াই শুরু হল৷ আমাদের সুরক্ষার জন্য লড়াই৷ আমাদের ভয় করছে৷ শুটিংয়ে বেরোলে বাড়ি ফিরব কিনা সেই নিশ্চয়তা নেই। রাহুল আমাদের শিখিয়ে গিয়েছে সুরক্ষা ছাড়া বাড়ি থেকে বেরিও না। মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতি, যতক্ষণ না সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, যাঁদের হাতে আমাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে তাঁরা যতক্ষণ না জানাচ্ছেন আমাদের সুরক্ষার জন্য তাঁরা কী কী পদক্ষেপ করছেন ততক্ষণ আমাদের কর্মবিরতি চলবে৷"
গতকাল আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর করা হয়েছে৷ রাহুলের পরিবারের পক্ষ থেকে তালসারি থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে৷
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টেকনিশিয়ান সুটডিওতে সকলে জমায়েত করে ধর্মঘট শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন শান্তিলাল।
প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি জানান, "মিটিংয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম যে আগের রবিবার এই সময় রাহুল আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন৷ ও যেটা করে গেল, আমাদের পুরো ইন্ড্রাস্টিকে একত্র করে দিয়ে গেল। আমাদের শিল্পী পরিচালক, প্রযোজক, টেকনিশয়ান, ক্যামেরাম্যান যাঁরা কাজ করেন তাঁদের সকলের সুরক্ষা দরকার৷ সকলে খুব ভীত৷ সকলের জন্য এক নিয়ম দরকার৷"

প্রযোজকের তরফে অরবিন্দ জানান, "শিল্পী কলাকুশলীদের সুরক্ষা দিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ৷ এই বিষয় নো কম্প্রোমাইজ। শুটিং কীভাবে হবে, কোন কোন নিয়ম মানতেই হবে সেই বিষয় একটা নির্দেশিকা তৈরি করা হবে৷ এটা সকলে মেনে চলব৷ আশা করছি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে৷ "
প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি বলেন, "বুম্বাদা হিসাবে অনুরোধ করছি, ইন্ড্রাস্ট্রি নিয়ে অনেক কথা ওঠে, এই ভাগ ওই ভাগ৷ ছেলেটা চলে গিয়ে আমাদের সবাইকে এক করেছে৷ আমরা চাই এমন একটা সিস্টেম তৈরি করতে, আমাদের পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা, কলাকুশলী মিলে সুরক্ষিত থাকব৷ "
স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, "সকলেই তাঁর বেস্ট দেওয়ার চেষ্টা করেন৷ এই ইন্ড্রাস্টি বাঁচাতে আমরা সকলে চাই৷ যে এগারো হাজার সদস্যের কথা বলা হচ্ছে, তাঁদের পরিবার পিছু ৪ জন করে ৪৪০০০ তো নয়, চা জল দেয় আরও নানা কাজে কত লোক যুক্ত, এতগুলো মানুষ যেখানে একসঙ্গে কাজ করছেন সেখানে যদি সেফটি না থাকে তাহলে রাহুলের মতো গুণী শিল্পীদের আমরা হারিয়ে ফেলব৷ আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ, যে এর জন্য একটা এসওপি করা দরকার৷ কারণ আমরা শিল্পীকে বলব, শিল্পী পরিচালকে বলবে, পরিচালক প্রযোজককে বলবে, এর দায়ভার কে নেবে?
এই যে রাহুল চলে গেল, কেউ তো এগিয়ে আসছেন না, কেউ তো সত্যকে উদঘাটন করছেন না৷ নিজেদের সুরক্ষার জন্য নিজেদের তাগিদে মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে৷ আমরা জানি কর্মবিরতি মানে রুটিরুজি বন্ধ। কিন্তু তবুও বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ করতে হচ্ছে। প্রযোজকদেরও ডাকা হয়েছিল।তাঁরাও বললেন যে সুরক্ষার বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ, একটা এসওপি হওয়া দরকার', মিটিং শেষে জানালেন স্বরূপ বিশ্বাস.
কৌশিক গাঙ্গুলি সকলকে মঙ্গলবার আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে বলেন, "দুর্ঘটনা বিপদ এগুলো আকস্মিক৷ আগে থেকে বোঝা যায় না। কিন্তু এমন কিছু নিয়মাবলী রাখতে হবে, যাতে শিল্পীর মর্যাদা এবং সুরক্ষা অক্ষুণ্ণ থাকে৷ সংবাদমাধ্যমদের কাছে অনুরোধ করেন, ফিল্ম ফ্রেটার্নিটির সঙ্গে আপনাদেরও কাজ চলে৷ আপনারা আয়নার মতো কাজ করেন। তাই আমরা চাইব আপনারাও সংবেদনশীল হয়ে পাশে থাকুন৷ এই সময়টা খুব সেন্সিটিভ৷ রাহুলের পরিবার যেন জানতে পারে কীভাবে মারা গিয়েছেন রাহুল।অভিনেতা কলাকুশলী বলে আলাদা কিছু নেই৷ আমরা সকলে একটা পরিবার৷ "
ভাইস প্রেসিডেন্ট ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, " এটা আমাদের মানবিকতার লড়াই। শিল্পীরা আবেগপ্রবণ কিন্তু আবেগের পাশাপাশি সুরক্ষার বিষয়ে ভাবতে হবে৷ সেইজন্য আমরা জীবনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। রাহুল যেভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেল সেটা কখনই কাম্য নয়৷ আমরা শেষ অবধি লড়ব৷ জানতে চাইব কেন এমন হল? রাহুল আমাদের সকলকে এক করে দিয়ে গেছে, প্রশ্ন তুলে দিয়েছে যে আমরা কি সত্যিই সিকিওর? না আমরা সিকিওর নই।"
গতকাল প্রিয়াঙ্কা সরকার, প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সহ আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর করেছেন৷ বিকেলে টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে রাহুলের মৃত্যুর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন টলিউডের তারকা কলাকুশলী থেকে সাধারণ মানুষ৷ গতকাল রাতেই তালসারিতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। সঙ্গে ছিলেন প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, যীশু সহ অনেকে।
















