আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। এ বার বিধানসভা ভোটের প্রার্থী তালিকায় একদিকে তরুণ আর আরেকদিকে অভিজ্ঞদের মিশেলে বাজিমাত করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেল, মমতা ব্যানার্জি একদিকে যেমন দলের তরুণ প্রার্থীদের ওপর ভরসা রেখেছেন, তেমনই হাত ছাড়েননি পোড়খাওয়া রাজনীতিকদেরও।প্রসঙ্গত, তবে সমগ্র তালিকায় কিন্তু রয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুখ। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় এবারও রয়েছে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর নাম। তবে চণ্ডিপুরের নয়, করিমপুর কেন্দ্রে টিকিট পেয়েছেন সোহম।
এ প্রসঙ্গে আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কথা বলতে গিয়ে সোহম প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ জানান তাঁর প্রতি আস্থা রাখার জন্য। এরপর বলেন, “হ্যাঁ, দল আবার এই দায়িত্ব দিয়েছে সেটা আমার কাছে বড় পাওনার পাশাপাশি অনুপ্রেরণারও বটে। কারণ সম্পূর্ণ নতুন জায়গায় এবার দায়িত্ব পেয়েছি। অনেক আগে নির্বাচনের সময় একবার করিমপুর গিয়েছিলাম সেখানকার তৎকালীন বিধায়কের হয়ে প্রচার করতে। তবে সেই প্রচার করতে গিয়েছিলাম মানেই জায়গাটি আমার চেনা, এমনটা মোটেও নয়। সুতরাং চিনতে হবে, জানতে হবে। তাই সেখানকার বুথ স্তর থেকে জেলাস্তর পর্যন্ত তৃণমূলের সব রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের সহযোগিতা ও শুভেচ্ছা প্রার্থনা করছি। এবং অবশ্যই সেখানকার মানুষের সহযোগিতার। তাঁদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই করব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা বাংলা জুড়ে তাঁর ৩০০টি প্রকল্প ছড়িয়ে দিয়েছে। আমরা তাঁর দলের কর্মী হয়ে সেই উন্নয়নের ডালিটা নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছতে হবে। এইটুকুই!”
এবার টলিপাড়া ও ক্রীড়াজগতের একাধিক তারকার প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বরং দেখা গিয়েছে, এবার তারকা মহলের যাঁরা টিকিট পেয়েছেন তাঁদের অধিকাংশ এর আগেও প্রার্থী হয়েছেন। মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলে এসেছেন। তাহলে কি তাঁদের উপর খানিকটা ভরসা হারাচ্ছেন মুখমন্ত্রী? ভরসা হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ? সোহমের জবাব, “দেখুন, সেটা আমি বলতে পারব না। এ বিষয়ে আমার বলা সাজে না। কারণ শিল্পীদের যে সম্মান আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন তা কিন্তু বাংলার বিগত সরকার দেননি। আর বিজেপিতে যেসব শিল্পীরা যোগ দিয়েছেন, তাঁদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। ভুল বোজাচ্ছে ওই দলটি-ই। 'আমার সোনার হরিণ চাই, সোনার হরিণ চাই' ভেবে ওই দলে যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা এখন দেখছে দলটি হরিণও না, ছাগলও না! তাঁরা এখন বুঝতে পারছেন কিন্তু করবেন? ফেঁসে গিয়েছেন। আর যাঁরা বুঝেছেন তাঁরা ফিরে এসেছেন আমাদের দলে।”
কথাশেষে তাঁর সংযোজন, “ডেডিকেশনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কমিটমেন্টও। শুধুমাত্র নিজের চেয়ারটা ধরে রাখার জন্য রাজনীতি করি না। এই নীতিতেও বিশ্বাস করি না। মানুষের মধ্যে থেকে কাজ করায় বিশ্বাসী। সেইভাবেই রাজনীতি করে এসেছি।”
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকার পরিসংখ্যান বলছে, এ বার ৩১ বছরের কম বয়সি ৪ জন প্রার্থীকে ভোটের লড়াইয়ের ময়দানে নামিয়েছে ঘাসফুল শিবির। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সি প্রার্থীর সংখ্যা ৩৮। তবে তালিকায় সবচেয়ে বেশি ভিড় মধ্যবয়সীদের। ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৮৮ জন এবং ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯।
এ বারের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক দেবাংশু ভট্টাচার্য। তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র তথা সোশ্যাল মিডিয়া সেলের এই কাণ্ডারিকে চুঁচুড়া বিধানসভা থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। এ ছাড়াও নজর কাড়ছেন পূর্বস্থলী উত্তরের বসুন্ধরা গোস্বামী, নোয়াপাড়ার তৃনাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং মানিকতলার শ্রেয়া পাণ্ডে। এঁরা প্রত্যেকেই ঘাসফুল শিবিরের ছাত্র ও যুব সংগঠনের পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর এই লড়াইয়ে আগামীর নেতৃত্ব তৈরিতেই জোর দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
&t=643s
