শুক্রবার দুপুরবেলা এক দুঃসংবাদ বয়ে এল টলিপাড়া থেকে। ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট অভিনেতা এবং বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত। গল্ফ ক্লাব রোডের নিজের বাসভবনেই এদিন দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে সাংস্কৃতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন শিল্পী। জানা গিয়েছে, স্নায়ুতন্ত্রের অটোইমিউন সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন তিনি। চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকবার বেসরকারি হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। তবে গত তিন মাস ধরে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

 

 

বিপ্লববাবুর স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত জানান, এদিন সকালেও নিজের হাতে তাঁকে প্রাতরাশ খাইয়েছিলেন। এরপর স্পঞ্জ করানোর সময় আচমকাই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই শেষপর্যন্ত শিল্পী চিরঘুমের দেশে পাড়ি দেন।

একাধারে তুখোড় অভিনেতা এবং অন্যদিকে তাঁর বাচিক শিল্পে মুগ্ধ ছিলেন অগণিত বাঙালি। বাংলা সিনেমা ও থিয়েটারের জগতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বিপ্লব দাশগুপ্তের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকপ্রকাশ করেছেন শিল্পীরা। ইতিমধ্যেই প্রয়াত শিল্পীর বাসভবনে গিয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অভিনেত্রী বিদীপ্তা 
চক্রবর্তী ।

আজকাল ডট ইন-এর থেকে বিপ্লব দাশগুপ্তর মৃত্যুর খবর পেলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী এবং অভিনয়-প্রশিক্ষক সোহাগ সেন। বিস্ময় কাটিয়ে শোকপ্রকাশ করলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী – “উনি অসুস্থ সেটা শুনেছিলাম, কিন্তু এভাবে আচমকা...শুনে খুব খারাপ লাগছে। দেখুন, শিল্পী হিসেবে বিপ্লব দাশগুপ্ত দারুণ ছিলেন, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। ওঁর সঙ্গে আমি কখনও কাজ করিনি  কিন্তু ওঁর একাধিক কাজ দেখেছি পর্দায়। বেশ ভাল লাগত। সুন্দর কন্ঠস্বর, নিটোল, কাটা-কাটা-স্পষ্ট উচ্চারণ ছিল ওঁর। শুনেছি, এক সময় ইংরেজি খবরও পাঠ করতেন। পরস্পরের খুব একটা ঘনিষ্ঠ ছিলাম না আমরা, তবে ওই যে বললাম শিল্পী হিসেবে ওঁর কাজ বেশ লাগত। 
আর একটা কথা, যতবার ওঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে অনুষ্ঠানে তখন কথা বলে টের পেয়েছি তাঁর ভদ্রতার। ভাল লাগত, এই কথা ভেবে যে কলকাতা শহরে এমন একজন আছেন যাঁর বাংলা ও ইংরেজি উচ্চারণ দু’টোই এত নিখুঁত।”