পর্দার প্রেম এবার বাস্তবে। প্রেমের মাসেই ছাদনাতলায় যাচ্ছেন 'গুড্ডি' এবং তাঁর 'স্যারজি'। বিয়ের মেনু থেকে ভেন্যু, উপহার থেকে মধুচন্দ্রিমার প্ল্যান, সবটাই আজকাল ডট ইনের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন খোদ হবু পাত্রী, শ্যামৌপ্তি মুদলি। 


গল্পের শুরুতেই 'রঙ্কিনী ভবন'-এর নায়িকাকে জিজ্ঞেস করা হয় বিয়ের প্ল্যানিং কতদূর। জবাবে শ্যামৌপ্তি মুচকি হেসে বলেন, "কাল থেকে সবে শুরু করলাম, এখনও অনেক কিছু বাকি।" অভিনেত্রী তাঁর গত জন্মদিনে জানিয়েছিলেন বেজায় খাদ্যরসিক তিনি। ফলে বিয়ের প্রশ্নের শুরু সেটা দিয়েই করা হল। বিয়েতে কী কী মেনু থাকবে সেটা জানিয়ে শ্যামৌপ্তি বলেন, "গোটা মেনু আমারও মনে নেই। তবে পুরোটাতেই বাঙালিয়ানার ছোঁয়া থাকবে। খাওয়া, দাওয়া সহ সবেতে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া থাকবে। যেভাবে বাঙালি বিয়ে হতো আগে, আমরা যেমন খাবার খেয়ে অভ্যস্ত ছিলাম আগে, পুরোপুরি সেভাবে।" মেনুতে যখন বাঙালিয়ানার ছোঁয়া তখন সাজেও কি তাই থাকবে? প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই অভিনেত্রী বলেন, "আমরা দু'জনেই মিনিমালিস্ট জিনিসপত্র পছন্দ করি। একদম বেশি সাজগোছ পছন্দ করি না। স্টাইলিং মানে আমাদের কাছে কমফোর্ট জোন। সেক্ষেত্রে আমরা খুবই মিনামিলিস্ট সাজার চেষ্টা করব। আমাকে যেন আমার মতো দেখতে লাগে আর রণজয়কে যেন ওর মতোই লাগে। বিভিন্ন কাজের সূত্রে আমরা এত বড় বউ সেজেছি....। সেখানে চরিত্রদের মতো দেখতে লেগেছে। ফলে বিয়ের দিন যেন আমাদের আমাদের মতোই লাগে সেটা চেষ্টা করব।" 


কথায় কথায় পর্দার 'গুড্ডি' জানান, দক্ষিণ কলকাতার একটি ব্যাঙ্কোয়েটে বসবে বিয়ের বাসর। কিন্তু আধুনিক যুগের ট্রেন্ড মেনে তাঁরা মোটেই প্রি-ওয়েডিং করবেন না। কিন্তু কেন? শ্যামৌপ্তির জবাব, "প্রি-ওয়েডিং কী করব বলো তো? বোকা বোকা ভাবে একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসব? তবে, ১৪ ফেব্রুয়ারি একটা চমক থাকবে। প্রি-ওয়েডিং নয়, আমরা নিজেদের জন্য একটা কাজ করেছি, সেটা ওইদিন রিলিজ করব। ভালবাসা নিয়ে করা একটা কাজ, এটুকুই আপাতত বলতে পারব।" 


অনস্ক্রিনে প্রেম থেকে বাস্তবে বিষয়টা কবে গড়াল? কিছুটা থেমে শ্যামৌপ্তি বলেন, "প্রেম যে কবে শুরু হল সেটা বলা কঠিন। আমরা একে অপরকে হয়তো সেভাবে ঠিক করে 'আই লাভ ইউ' বলিনি। আমাদের প্রথম প্রেমের শুরুটা হয়েছিল কবিতা লিখে লিখে। আমাদের প্রেম অনেক পরে হয়েছে। আগে আমাদের চেনা পরিচিতি, তারপর বন্ধুত্ব। অনেক পর প্রেম। তারপর সেটা প্রেম এবং ভালবাসার পরিণতির দিকে এগিয়েছি। মানুষের চেনা পরিচিতির পিরিয়ডে প্রেম বা ভালবাসার সম্পর্কে হানিমুন ফেজ চলে, সেখানে আমাদের আমাদের সম্পর্ক প্রথম দিকের ফেজটা আর চার-পাঁচটা সম্পর্কের থেকে আলাদা। অনেকটা কঠিন ছিল। একে অন্যের অনেক খারাপ সময়ের সাক্ষী থেকেছি। সেই থেকেই আমাদের মধ্যে একটা কমফোর্ট জোন তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে আমরা একটা সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছি যে আমরা একটা সম্পর্কে গিয়ে বিয়ে অবধি আসতে পেরেছি। খারাপ সময় কিন্তু মানুষকে চেনা যায়। বোঝা যায় তুমি তার সঙ্গে কতটা কমফোর্টেবল, বা সে তোমার জন্য কতটা থাকবে।" পছন্দের মানুষের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছেন, উপহারে কী দিচ্ছেন? নায়িকা মজা করে বলেন, "আমি নিজেই তো উপহার। ওকে বিয়ে করছি যে সেটাই সবথেকে বড় উপহার।" তারপর তিনি বলেন, "আমি বলব, তোমরা লিখে দেবে। কিন্তু এটা তো সিক্রেট, তাই থাক...। ওকে যদি আমি রান্না করে খাওয়াই, বা একটা কাগজে চারটে কবিতার লাইন লিখে দিই, ও তাতেই খুশি হয়ে যায়। সো কল্ড দামি গিফট, ইত্যাদি একদম পছন্দ করে না। ভালবাসে না।" 


আর মধুচন্দ্রিমা? বিয়ের পরপরই যাবেন? গন্তব্য কোথায়? এই প্রশ্নের জবাবে নায়িকা বলেন, "এখনও কিছু প্ল্যান করিনি বিশ্বাস করো। আমরা দু'জনেই পাহাড় ভালবাসি। মানে একটু ট্রেক করব, একটু অফবিট কোনও জায়গায় যাব, হোমস্টেতে থাকব। কিন্তু সেটা পুরোটাই নির্ভর করবে দু'জনের কাজের উপর, কারণ শেষ পর্যন্ত কাজের জন্যই এত আয়োজন, এত কিছু করতে পারছি। আর হানিমুন মানে দু'জন দু'জনের সঙ্গ উপভোগ করতে চাই, ফলে সেটা এমন যেন না হয় যে ১০ দিনের মধ্যে ঘুরতে হবে। একটু সময় নিয়ে ঘুরব। এটা ধীরে সুস্থে প্ল্যান করব।"