‘ফির হেরা ফেরি’, ‘হাঙ্গামা’, ‘গোলমাল’-এর মতো জনপ্রিয় কমেডি ছবিতে একসময় দর্শকের মন জয় করেছিলেন অভিনেত্রী রিমি সেন। দীর্ঘদিন পর তিনি আবার শিরোনামে, তবে অভিনয়ের জন্য নয়। বলিউডকে বিদায় জানিয়ে তিনি এখন দুবাইয়ে থিতু। শুরু করেছেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে হাজির হয়ে নিজের বলিউড জীবন, অভিনয় থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত এবং প্রাক্তন সহ-অভিনেতা জন আব্রাহামের কেরিয়ার স্ট্র্যাটেজি নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন রিমি।

রিমি সেন জানালেন, তিনি বারবারই জোর দেন আত্মপরিচয়ের গুরুত্বে। তাঁর মতে, নিজের শক্তির পাশাপাশি নিজের সীমাবদ্ধতাগুলো চিনে নেওয়াই একজন মানুষকে এগিয়ে দেয়। রিমির কথায়, “মানুষ সাধারণত নিজের ভাল দিকটাই দেখে। কিন্তু কেউ যদি নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারে যে এটা আমার সমস্যা এবং সেটার উপর কাজ করে, তাহলে সে অনেক দূর এগিয়ে যায়।”

 

 

রিমি এই প্রসঙ্গে টানেন তাঁর ‘ধুম’ ছবির সহ-অভিনেতা জন আব্রাহামের উদাহরণ। কেরিয়ারের শুরুর দিকে জনকে নিয়েও সমালোচনা কম হয়নি।“জন তো প্রথমে একজন মডেল ছিলেন। অভিনয় জানতেন না। লোকজন নানা কথা বলত। কিন্তু ও কখনও মুখ খুলে জবাব দেয়নি,” বলতে শোনা গেল রিমি-কে।

 

রিমির মতে, জন খুব সচেতনভাবেই নিজের কেরিয়ার সাজিয়েছেন। “ও এমন চরিত্র বেছে নিয়েছে, যেখানে ওকে মানায়, যেখানে খুব বেশি অভিনয় করতে হয় না। বেশিরভাগ সময় অ্যাকশন ছবি করেছে। এমন কাজ করেছে যাতে ওকে ভাল দেখায়, যেন কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে। সত্যি বলতে ও খুব বুদ্ধিমান অভিনেতা,” বলেন রিমি। এবং জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতাও এসেছে, অন্তত এমনটাই মনে করেন রিমি।“ধীরে ধীরে মানুষ অভিনয় শিখেই ফেলে। জনপ্রিয়তা এলে, ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাস এলে, তখন অভিনয়ের জায়গাটাও আসে,” তাঁর ব্যাখ্যা।

২০০৩ সালে ‘জিসম’ দিয়ে অভিনয়ে পা রাখেন জন আব্রাহাম। রিমির দাবি, অভিজ্ঞতা বাড়ার পর জন এমন চরিত্র বেছে নিতে শুরু করেন যেখানে অভিনয়ের সুযোগ ছিল। “ও নিজের সীমাবদ্ধতা জানত। সেই কারণেই ওর সিদ্ধান্তগুলো স্ট্র্যাটেজিক্যালি ঠিক ছিল,” বলেন তিনি। পাশাপাশি জনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও প্রশংসা করেন রিমি। “আমি ওকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। ও খুব বুদ্ধিমান মানুষ। অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী হয়েছে, প্রোডাকশনে এসেছে, এমন ছবিও করেছে যেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা আছে,” যোগ করেন তিনি।


রিমি সেন আরও জানালেন পেশা হিসেবে অভিনয় ছেড়ে দুবাইয়ে নিজের নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েও। রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সূত্রে এখন তিনি সেখানেই থাকেন। দুবাইয়ের জীবনযাপন প্রসঙ্গে রিমির মন্তব্য,“দুবাই খুবই ওয়েলকামিং। এখানকার প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষই এক্সপ্যাট্রিয়েট, বাকিরা এমিরাতি।” শহরের মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এখানে মসজিদ আছে, মন্দিরও আছে। সবাইকে নিয়ে ভাবা হয়। সরকারের মূল লক্ষ্য -মানুষের জীবন কীভাবে আরও সহজ, স্বচ্ছন্দ করা যায়।”

ভারতের সঙ্গে তুলনা টেনে রিমির কড়া মন্তব্য,“আমাদের দেশে এটা খুব একটা দেখা যায় না। রাতারাতি নীতি বদলে যায়, মানুষের জীবন আরও জটিল হয়ে ওঠে। হাজার হাজার কর, অজস্র জটিলতা। এখন আর ব্যবসার পক্ষে অনুকূল পরিবেশ নেই।”

 

বলিউডের আলোঝলমলে দুনিয়া থেকে দূরে সরে গিয়ে রিমি সেনের এই অকপট বক্তব্য ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে আছে আত্মসমালোচনা, বাস্তবতা আর কেরিয়ার নিয়ে ঠান্ডা মাথার হিসেব।