শাহরুখ খানের উদারতা আর আতিথেয়তার গল্প ইন্ডাস্ট্রিতে কিংবদন্তি সমান। সহকর্মী থেকে শুরু করে সেটের সাধারণ কর্মী—সকলের প্রতি তাঁর সহমর্মিতার কথা বারবার উঠে আসে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা শেখর সুমন তেমনই এক পুরনো ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার স্মৃতিচারণ করলেন। তিনি জানালেন, একটি ছবির ভয়েস ওভারের জন্য টাকা নিতে অস্বীকার করায় শাহরুখ তাঁকে একটি বহুমূল্য ঘড়ি উপহার দিয়েছিলেন! 

ঘটনাটি ২০০৩ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘চলতে চলতে’-এর সময়কার। শেখর সুমন জানান, শাহরুখ নিজে তাঁকে ফোন করে ছবিটিতে  ভয়েস ওভার দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। শেখর বলেন, "মনে আছে, শাহরুখ যখন 'চলতে চলতে' বানাচ্ছিল, ওর ছবিতে ভয়েস ওভারের জন্য আমার কণ্ঠের প্রয়োজন ছিল। টিজার আসার পরপরই ও সরাসরি আমাকে ফোন করে বলে, ‘হাই, আমি শাহরুখ বলছি। আমার তোমাকে প্রয়োজন আমার ছবির জন্য।’ শোনামাত্রই আমি রাজি হয়ে যাই এবং গিয়ে ওঁর ছবিতে ভয়েস ওভারের কাজটা করে দিই।”

 

 

 

কাজ শেষ হওয়ার পর শাহরুখ রীতিমতো বড় অঙ্কের একটি চেক পাঠিয়েছিলেন শেখরকে। কিন্তু বন্ধুত্বের খাতিরে সেই টাকা নিতে সরাসরি মানা করে দেন শেখর। তারপর তার থেকেও বড় অঙ্কের টাকার একটি চেক পাঠিয়েছিলেন শাহরুখ। তা পেয়েও ফের নাকচ করেন শেখর। তাঁর ভাষায়, "আমি শাহরুখকে বলেছিলাম, এটা দুই বন্ধুর ব্যাপার, এখানে টাকার কোনো জায়গা নেই। তাই তোমার থেকে কোনও টাকা আমি নেব না। " কিন্তু শাহরুখও দমে যাওয়ার পাত্র নন। শেখর সুমন আরও বললেন, "শাহরুখ তো শাহরুখই! ও কথা শুনল না। এর কিছুদিন পরেই ও আমাকে একটি অত্যন্ত দামী ঘড়ি পাঠাল। সেই ঘড়িটি আজও আমার কাছে আছে। ওটা আমার কাছে একটা চমৎকার স্মারক।"

২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চলতে চলতে’ ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আজিজ মির্জা। শাহরুখ ও রানি মুখোপাধ্যায় অভিনীত এই ছবিটি সে সময় বিশ্বজুড়ে ৪৩ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করেছিল। শেখর সুমনের এই স্মৃতিচারণ ফের একবার প্রমাণ করল কেন শাহরুখ খান কেবল পর্দার নায়ক নন, বাস্তবেরও ‘কিং’।

প্রসঙ্গত, এমুহুর্তে বর্তমানে ‘কিং’ ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত। এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সুহানা খান, অভিষেক বচ্চন ও দীপিকা পাড়ুকোন। ছবিটির মুক্তি ২৪ ডিসেম্বর। অন্যদিকে, সঞ্জয় লীলা বনশালি-র ‘হীরামাণ্ডি’ সিরিজে দেখা গিয়েছিল শেখর সুমন-কে। দর্শক ও সমালোচক - দুই মহলেই দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল শেখরের সেই কাজ। বর্তমানে এই সিরিজটি নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং হচ্ছে।