প্রথম সিজনের তুমুল সাফল্যের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে আবার শুরু হল বহুল আলোচিত ক্রাইম-থ্রিলার সিরিজ ‘ফর্জি’-র দ্বিতীয় সিজনের কাজ। জনপ্রিয় চরিত্র ‘সানি’-র ভূমিকায় আবার ক্যামেরার সামনে ফিরলেন শাহিদ কাপুর। শুটিংয়ের প্রথম দিনের একটি ঝলক নিজেই শেয়ার করে ভক্তদের উচ্ছ্বাসে ভাসালেন অভিনেতা।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শাহিদ পোস্ট করেছেন কয়েকটি সাদাকালো ছবি। ছবিগুলোতে বড় কোনও প্রকাশ্য ইঙ্গিত না থাকলেও বোঝা যায়—ফের শুরু হয়েছে সেই উত্তেজনা ঠাসা দুনিয়ার সফর, যেখানে শিল্প, অপরাধ আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা একসঙ্গে জড়িয়ে থাকে। আষ্ঠেপৃষ্ঠে। ভক্তদের কাছে এই ক্ষণিকের ঝলকই যথেষ্ট ছিল। সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় নতুন সিজন ঘিরে জল্পনা এবং উত্তেজনা।

এই সিরিজটির স্রষ্টা জনপ্রিয় পরিচালক জুটি রাজ নিদিমোরু এবং কৃষ্ণা ডি কে., যাঁরা দর্শকের কাছে বেশি পরিচিত রাজ এবং ডিকে নামে। তাঁদের স্বাক্ষরধর্মী গল্প বলার ভঙ্গি, তীক্ষ্ণ সামাজিক পর্যবেক্ষণ এবং ডার্ক হিউমারের সংমিশ্রণেই প্রথম সিজনটি মুক্তির পর দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
গল্পের কেন্দ্রে থাকা সানি—এক প্রতিভাবান কিন্তু হতাশাগ্রস্ত শিল্পী। চরিত্রটিকে প্রাণ দিয়েছেন শাহিদ কাপুর। শিল্পের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে না পারার ক্ষোভ থেকেই সে বেছে নেয় অন্য পথ। নিজের অসাধারণ আঁকার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তৈরি করতে শুরু করে ‘পারফেক্ট’ জাল নোট। প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ অল্প সময়ের মধ্যেই রূপ নেয় ভয়ংকর অপরাধচক্রে। এরপর শুরু হয় আইনরক্ষক ও অপরাধজগতের মধ্যে এক টানটান ধাওয়া ও লুকোচুরি খেলা যেখানে একটি পক্ষের যে কোনও প্রতিটি সিদ্ধান্তই হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক।
প্রথম সিজনের অন্যতম বড় শক্তি ছিল তার শক্তিশালী অভিনেতাদের দল। টাস্কফোর্স অফিসার মাইকেলের চরিত্রে নজর কাড়েন বিজয় সেতুপতি। অপরাধ জগতের বিপজ্জনক ও পাকা খেলোয়াড় মনসুর দালালের ভূমিকায় ছিলেন কে কে মেনন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছিল রাশি খান্না-কে, যিনি আরবিআই অফিসার মেঘার ভূমিকায় ছিলেন। সানির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফিরোজের চরিত্রে অভিনয় করেন ভুবন অরোরা। তাঁদের প্রত্যেকের পারফরম্যান্স সিরিজটির উত্তেজনা ও গভীরতাকে আরও তীক্ষ্ণ করে তোলে।
মুক্তির পর অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও -এ স্ট্রিমিং হওয়া প্রথম সিজনটি দর্শকসংখ্যা এবং সমালোচকদের প্রশংসা দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। আট পর্বের সেই সিজনে অপরাধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের বাস্তবতাকে যে ভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, তা দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।এরই মধ্যে একাধিক সাক্ষাৎকারে রাশি খান্না ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে দ্বিতীয় সিজনের পরিকল্পনা এগোচ্ছে। এবার শাহিদের সেটে ফেরার খবর সেই জল্পনাকেই বাস্তবে পরিণত করল।
নতুন সিজনে গল্প কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে নির্মাতারা এখনও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে প্রথম সিজনের নাটকীয় সমাপ্তি যে আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছিল, তা অনেকেই মনে রেখেছেন। ফলে এবার সানির ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়? সে কি আবারও আইনের চোখ এড়িয়ে নিজের খেলায় এগিয়ে থাকতে পারবে না কি বিপদের জাল ক্রমশ আরও ঘন হবে? সেই প্রশ্নই এখন দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলছে।
