বলিউডে কিছু সম্ভাব্য জুটি আছে, যাদের নিয়ে আলোচনা হয় বছরের পর বছর, অথচ বাস্তবে পর্দায় আর তাদের দেখা যায় না। শাহরুখ খান ও বিশাল ভরদ্বাজ সেই তালিকার একেবারে উপরের দিকে। বহুবার পারস্পরিক আগ্রহ, গল্পের আদানপ্রদান, প্রশংসা — সবই হয়েছে। শুধু একসঙ্গে জুটি বেঁধে তাঁদের ছবি করা হয়নি।

এবার সেই অসম্পূর্ণ সম্ভাবনাই আবার আলোচনায়। কারণ, একদিকে শাহরুখের অ্যাকশন ঘরানার বড় বাজেটের ছবি কিং মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে বিশাল ভরদ্বাজ নিজেই শাহরুখের সঙ্গে ছবি করার সম্ভাবনা নিয়ে নিজেই জানাচ্ছেন, এই ব্যাপারটা ‘হতেই হবে’।


বলিউডে মূলধারার ছবি ঘরানার বিরল ধরনের পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ। তাঁর ছবিতে সাহিত্য, রাজনৈতিক বাস্তবতা, মনস্তত্ত্ব এবং সঙ্গীত, চারটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রযোজ্য হয়। শেক্সপিয়র অনুপ্রাণিত ট্রিলজি ‘মকবুল’, ‘ওমকারা’ ও ‘হায়দর’, শুধু ছবি হিসেবে নয়, অভিনয়কেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

অন্যদিকে শাহরুখ খান দীর্ঘকে রিয়ারে রোম্যান্টিক নায়ক থেকে অ্যান্টিহিরো, ট্র্যাজিক চরিত্র থেকে অ্যাকশন স্টার, সবই করেছেন। কিন্তু বিশাল ভরদ্বাজের মতো পরিচালক যেভাবে চরিত্রের অন্তর্গত অন্ধকার ও দ্বন্দ্বকে ফুটিয়ে তোলেন, সেই মাটিতে শাহরুখকে এখনও দেখা যায়নি।ঠিক এই কারণেই এই সম্ভাব্য জুটির ছবি শুধু একটি প্রজেক্ট নয়, এটি হতে পারে অভিনয় ও নির্মাণশৈলীর এক নতুন সংলাপ।

সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশাল জানান, বছরের বিভিন্ন সময়ে তিনি শাহ রুখকে নানা গল্প পাঠান এবং অভিনেতা সবসময় সাড়া দেন।পরিচালকের কথায়, শাহরুখ শুধু তারকা নন, এক বিশেষ ধরনের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সেই ব্যক্তিত্বই তাঁকে আলাদা করে তোলে। সম্ভবত দেশের মধ্যে সেরা। 

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল, সম্প্রতি বিশাল ভরদ্বাজের নতুন ছবি তৈরির সময়ও তিনি শাহরুখকে একটি গল্প পাঠিয়েছেন। এবং শাহরুখ নাকি বারবারই বলেছেন, তাঁদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। ও রোমিও র পরিচালকের এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, একসঙ্গে ছবি করার আলোচনাটা আর কল্পনায় নেই, বাস্তবের কাছাকাছি পৌঁছেছে।


এদিকে বিশালের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ও রোমিও’ আবারও তাঁকে ফিরিয়ে এনেছে তাঁর অন্যতম প্রিয় অভিনেতা শাহিদ কাপুর-এর সঙ্গে। এর আগে কামিনে, হায়দর এবং রেঙ্গুন, এই তিন ছবিতেই বিশাল-শাহিদের জুটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বিশালের ও রোমিও-তে শাহিদ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন তৃপ্তি দিমরি, দিশা পটানি, বিক্রান্ত ম্যাসি, ফরিদা জালাল, নানা পাটেকর ও তামান্না ভাটিয়া।অর্থাৎ, নিজের পরিচিত শিল্পী-পরিসরের সঙ্গে কাজ করলেও, বিশাল নতুন  অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ  খোঁজ ছাড়েননি, এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।


বলিউডে বড় তারকা ও স্বতন্ত্র পরিচালক, এই দুইয়ের ককটেল সহজ নয়। বাজারের চাহিদা, সময়, চিত্রনাট্য, তারিখ, সবকিছুর সমীকরণ মেলাতে হয়।তাই এত বছরেও এই জুটি বাস্তব হয়নি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে।শাহরুখ খান নিজেও কেরিয়ারের এমন এক পর্যায়ে যেখানে তিনি নিরাপদ চরিত্রের বাইরে গিয়ে নতুন পরীক্ষায় আগ্রহী। অন্যদিকে বিশাল ভরদ্বাজও বাণিজ্যিক কাঠামোর সঙ্গে শিল্পচিন্তার ভারসাম্য রক্ষা করতে আরও দক্ষ হয়েছেন।এই দুই প্রবণতা মিললে, এই জুটির ছবির সম্ভাবনা সত্যিই বাস্তব হতে পারে।

&t=2s

 

আর যদি ছবিটি হয়, তাহলে সেটি শুধু একটি ঘোষণা হবে না, বরং বলিউডের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত সৃজনশীল মেলবন্ধনগুলির একটি হয়ে উঠতে পারে।কারণ, এখানে শুধু তারকা ও পরিচালক নন, এখানে মিলতে পারে দুই ভিন্ন ধরনের সিনেমাটিক দর্শন।

এবং সেই সংঘর্ষ থেকেই হয়তো জন্ম নিতে পারে এক স্মরণীয় ছবি!