‘বিতর্ক’ আর ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এই ইনফ্লুয়েন্সারের অধিকাংশ পোস্ট থেকেই শুরু হয় যেমন বিতর্ক তেমনই একাধিক মতের দরুণ ভাগ হয়ে যায় নেটপাড়া। সায়ক চক্রবর্তীর প্রাক্তন বৌদি সুস্মিতা সম্প্রতি বিয়ে করেছেন৷ সেই বিয়েকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক৷ সায়ক সুস্মিতাকে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করেন যেন এটাই সুস্মিতার শেষ বিয়ে হয়৷ বাচ্চার জন্য বিয়ে- এই নিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রাক্তন বৌদির উদ্দেশ্যে সায়কের করা মন্তব্য ও দাবিতে দু'ভাগ হয়ে গিয়েছে নেটপাড়া। এরপর পাল্টা মুখ খোলেন সুস্মিতা। আত্মপক্ষ সমর্থনে করতে সমাজমাধ্যমে হাজির হন সায়কের দাদা সব্যসাচী চক্রবর্তীও। বলাই বাহুল্য, বিতর্কের পারদ নামার বদলে ক্রমশ চড়ছে আরও।
তবে এটাই প্রথম নয়। সম্প্রতি একাধিক বড়সড় বিতর্কে জড়িয়েছে সায়ক। নাকি বলা ভাল তৈরি করেছেন? এক ঝলকে ঝালিয়ে নেওয়া যাক সেসব বিতর্ক।
গত জানুয়ারিতে ফেসবুক লাইভে এসে স্বামী, শ্বশুর বাড়ির নামে অভিযোগ করে, শো থেকে ফেরার পথে ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী। যদিও বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। পিজি হাসপাতাল তথা এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন গায়িকা। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই নতুনভাবে কাজে ফিরেছেন তিনি। ক'দিন আগেই শো করেছেন দেবলীনা। আত্মহননের চেষ্টার পর সবার প্রথম সায়ককেই মেসেজ করেছিলেন গায়িকা। মূলত সায়কের তৎপরতার জেরেই নতুন জীবন পেয়েছেন দেবলীনা। কিন্তু তারপর থেকে সমাজমাধ্যমে দুজনের সম্পর্ক নিয়ে কাটাছেঁড়ার শেষ নেই। তীব্র ট্রোলের মুখে পড়েন সায়ক। পাল্টা জবাবও দিয়েছিলেন অবশ্য।
এরপর অভিনেতা তথা এই ইনফ্লুয়েন্সার ফেসবুকের পাতায় একটি লাইভ করে জানান কলকাতার একটি জনপ্রিয় পানশালায় তিনি এবং তাঁর কিছু বন্ধুরা গেলে তাঁদের গোমাংস খেতে দেওয়া হয়, যখন তাঁরা মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন। এই ঘটনার পর হইহই রইরই পড়ে যায়। গ্রেফতার হন বেয়ারা। পরে অবশ্য জামিন পেয়েছিলেন তিনি। সেই কাণ্ডে সায়কের উপর প্রায় খড়গহস্ত হয়ে উঠেছিল নেটপাড়া। ধর্মবিদ্বেষ উস্কানিমূলক অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়। এরপর সমাজমাধ্যমে নতমস্তকে ক্ষমা চেয়ে লম্বা পোস্ট করেছিলেন সায়ক।
এখানেই শেষ নয়। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সায়কের দাদা সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় অভিনেত্রীর। সেই সময় দম্পতির বিচ্ছেদ থেকে সায়কের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা, সবেতেই বারবার চর্চায় উঠে এসেছেন তিনি। অভিনেত্রীর মিষ্টির সঙ্গে সায়কের দাদাকে একটি 'বিশেষ সম্পর্ক'-এ জড়িয়ে পড়ার কেউ-ইঙ্গিত করা শুরু করেছিল নেটপাড়ার একাংশ। তারপরেই মেজাজ হারান সায়ক। ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য পরিষ্কার। মিষ্টির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে যে নোংরা জল্পনা চলছে, সেটা তিনি একেবারেই বরদাস্ত করছেন না।তিনি বলেছেন, মিষ্টিকে তিনি অভিনয়ের শুরু থেকেই চেনেন, আর সম্পর্কটা একেবারেই পারিবারিক -বন্ধুর মতো, আর তাঁর দাদা সব্যসাচী চৌধুরী তাঁকে বোন হিসেবেই দেখেন। সায়ক কিন্তু এখানেই থামেননি। ট্রোলারদের একেবারে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন— যারা এই ধরনের সম্পর্ক নিয়ে বিকৃত চিন্তা করছে, তারা আসলে নিজের মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। এমনকি কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে বলেছেন, এই “ফ্যান্টাসি” নিজেদের বোনের সঙ্গে গিয়ে ভাবতে! তাঁর বার্তার মূল কথা, সম্পর্কের মর্যাদা বোঝে যারা, তারা কখনও এই ধরনের কুৎসিত জল্পনা করে না।
এবং আপাত সর্বশেষ প্রাক্তন বৌদি সুস্মিতাকে নিয়ে সায়কের কটাক্ষ এবং গুরুতর সব অভিযোগ। পাল্টা একহাত নিয়েছেন সুস্মিতাও। সায়কের সম্পর্কে এনেছেন বিস্ফোরক সব অভিযোগ। সায়ক সুস্মিতাকে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করেন যেন এটাই সুস্মিতার শেষ বিয়ে হয়৷ বাচ্চার জন্য বিয়ে- এই নিয়ে সমাজমাধ্যমে একের পর এক কমেন্টে সুস্মিতার দিকে আঙুল তোলা হতে থাকে৷ এরপরেই সুস্মিতা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে লাইভ করেন৷ যদিও লাইভ করে সব সত্যি জানানোর আগে সায়কের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়৷ সেই কথোপকথন সুস্মিতা সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন৷
"আমি তোদের কোনও বিষয় কমেন্ট করি না। বহুবার বহু সাংবাদিক জানতে চাইলেও মুখ খুলিনি৷ কিন্তু তোরা যা শুরু করেছিস তার শেষ হওয়া দরকার৷ শেষ ভালভাবে করতে চাইছিস তাহলে ১১.১৫ এর মধ্যে চলে আয়।"গত বুধবার নিজের ফেসবুক পেজে ২০১৮ সালে সুস্মিতার সাধের একটি পুরনো ছবি শেয়ার করেন সায়ক। শুভেচ্ছা জানানোর সঙ্গে তিনি লেখেন, "ভেবে ভাল লাগছে এই বরটাও আমারই খুঁজে দেওয়া । যদিও বর হবে জানতাম না । তবে এবার থামিস প্লিজ । এটাই যেন লাস্ট বিয়ে হয় । শুধু তাই নয়, সুস্মিতার মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার বিষয়টি খোঁচা দিয়ে সায়কের আরও সংযোজন, "এবার মা হলে আর নরমাল ডেলিভারির জন্য ওয়েট করিসনা। শুভেচ্ছা।" স্বভাবতই সায়কের এই পোস্টে সরগরম নেটপাড়া। ১২ টায় সাংবাদিকদের ডেকেছেন বলেও জানিয়েছেন সুস্মিতা৷ সায়ক সাংবাদিকদের আসতে বারণ করতে বলে সুস্মিতাকে৷ কিন্তু সুস্মিতা জানায়, সায়ক লাইভ লোকেশন শেয়ার না করলে সুস্মিতাও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা স্থগিত রাখবেন না৷ তিনি বলেন, "শেষ সাত বছর আমি তোদের কথাই শুনে এসেছি। সাত বছর ধরে তো ব্ল্যাকমেল করছিস৷ এবার আমি নিজে সেটা জানাব।"
সায়ক সুস্মিতাকে থামাতে চাইলে সুস্মিতা জানান, তাদের মধ্যে শুরু থেকেই কথা হয়েছিল কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনও কথা বলবে না৷ বাচ্চা প্রসঙ্গে সুস্মিতা জানান, তিনি মা হতে অক্ষম এই অপবাদ শোনার পরেও তিনি মুখ খোলেননি যে সায়কদের পরিবার বাচ্চা চায়নি৷ সায়ক যখন বারবার সুস্মিতাকে থামানোর চেষ্টা করে এবং সায়কের দাদা সব্যসাচী এই বিষয় আর কোনও মন্তব্য করবে না যদি না সুস্মিতা আর কিছু বলে - এমন জানালেও সুস্মিতা দাবি করেন, সমস্যার সমাধান করতে হলে সায়ককে আসতে হবে৷ নয়তো লাইভ করে সুস্মিতা সব সত্যি জানাবেন বলে দাবি করেন।
সায়ক অনুনয়ের সুরে জানান যে তিনি সব ঠিক করে দেবেন। রাগ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন সুস্মিতার বিরুদ্ধে। এমনকি বিয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ভিডিয়ো বানাবেন সেকথাও জানান৷ এরপরে সুস্মিতা লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন৷ বলেন, “আমি বাঁচতে চেয়েছি, এটা কি অপরাধ? ...সায়ক বলেছিল এই যে ফ্যামিলি ড্রামাটা আমরা দেখাই এটা আমাদের বিজনেস৷ এখান থেকে বেরিয়ে যাস না। আমার মা কালো, দেবলীনা নন্দীর গল্পের সঙ্গে সুস্মিতার গল্পের মিল আছে বলেও জানান সুস্মিতা৷”
শেষে আরও যোগ করেন, “...আমি থানায় যাব না। কারণ থানায় এর সলিউশন নেই৷ একটা সুন্দর লেখার পিছনে যে কত বড় শয়তান লুকিয়ে থাকতে পারে, তার কোনও ধারণা নেই।” সুস্মিতা লাইভে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন, "চারটে বিয়ে করা অপরাধ নাকি ১০ টা মানুষের সঙ্গে লিভ ইন করা অপরাধ? বউয়ের সামনে অন্য নারীতে আসক্ত হওয়া অপরাধ না কি বাচ্চা চাওয়া অপরাধ?” লাইভের মধ্যেই ফোনে সায়ক চক্রবর্তী কতবার ফোন করেছেন সেটাও দেখান।
