তাঁকে বলা হত বলিউডের ‘ভেনাস’। তিনি, মধুবালা। তাঁর রূপ আর বিষাদময় জীবন নিয়ে দশকের পর দশক চর্চা চলেছে বলিপাড়ায়। এবার সেই কালজয়ী অভিনেত্রীর জীবনকাহিনি বড় পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চলেছেন পরিচালক জাসমিত কে রিন। আর সবথেকে বড় চমক হল, মধুবালার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ‘ধুরন্ধর’ ছবির মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয়তা পাওয়া অভিনেত্রী সারা অর্জুনকে। এবং ছবিটি প্রযোজনা করছেন খোদ সঞ্জয় লীলা বনশালি।
খবর, সম্প্রতি বক্স অফিসে ঝড় তোলা ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্যের পর এটিই হতে চলেছে সারা অর্জুনের কেরিয়ারের সবথেকে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। ১৯৫০-এর দশকের সেই মোহময়ী সৌন্দর্য এবং আভিজাত্য পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে সারাকে কঠিন প্রস্তুতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। জানা গেছে, তাঁর শারীরিক পরিবর্তন থেকে শুরু করে কথা বলার ধরণ এবং লুক টেস্ট—প্রতিটি বিষয়ে খুঁটিনাটি নজর রাখছেন নির্মাতারা।
উল্লেখ্য, মধুবালার চরিত্র রঙিন পর্দায় কে ফুটিয়ে তুলবেন, বলিউডের কোন নায়িকাকে তাঁর চরিত্রে সবচেয়ে বেশি মানাবে তা নিয়ে হাজারো জল্পনা এর আগে শোনা গিয়েছিল । ফিসফাস ছিল, ক্লাসিক ঘরানার এই নায়িকীর চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন কিয়ারা আদবানি। কিন্তু এই খবর সম্পূর্ণ ভুল বলে জানা যায়। এরপরই নাম আসে অনীত পাড্ডার। পরে সেই নামও নস্যাৎ করে দেওয়া হয় যশ রাজ ফিল্মসের তরফে।
‘ডার্লিংস’ খ্যাত পরিচালক জাসমিত কে রিন এই বায়োপিকটির হাল ধরেছেন। মধুবালার জীবনের ট্র্যাজেডি এবং স্টারডমকে কেন্দ্র করে একটি হাই-অক্টেন ড্রামা উপহার দিতে চলেছেন তিনি। বনশালির সিগনেচার স্টাইল অনুযায়ী, পঞ্চাশের দশকের সেই স্বর্ণযুগকে নিখুঁতভাবে পুনর্নির্মাণ করার পরিকল্পনা চলছে। ছবির প্রি-প্রডাকশনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং এই বছরের শেষ দিকেই শুটিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধুবালা: এক বিষাদমাখা কিংবদন্তি
দু’ দশকের কেরিয়ারে ৭০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন মধুবালা। কমেডি থেকে ঐতিহাসিক ড্রামা—সব ঘরানার ছবিতেই তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সেই যন্ত্রণাক্লিষ্ট অথচ রূপালি পর্দার উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের জীবনকেই শ্রদ্ধা জানাতে চলেছে এই চলচ্চিত্র। কেরিয়ারের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই প্রজেক্ট সারার জন্য মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।















