বলিউড সুপারস্টার সঞ্জয় দত্ত মানেই বিতর্ক আর খবরের শিরোনাম। তবে এবার তিনি নিজে সরাসরি না থাকলেও, খবরে উঠে এল তাঁর মালিকানাধীন মুম্বইয়ের একটি নামী রেস্ট্রো-বার। সম্প্রতি এই রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা একটি 'ককটেল' নিয়ে নেটপাড়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, গ্রাহকদের গ্লাসে জীবন্ত মাছ দিয়ে ককটেল পরিবেশন করা হচ্ছে, যা চরম অমানবিক এবং নিষ্ঠুরতার শামিল।
মুম্বইয়ের সেই অভিজাত রেস্ট্রো-বারে আসা এক গ্রাহক সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাগ করেন। সেখানে দেখা যায়, ককটেলের গ্লাসের ভেতর ছোট ছোট জীবন্ত গোল্ডফিশ সাঁতার কাটছে। পানীয়র স্বাদ বাড়াতে বা নিছক শো-অফ করার জন্য এভাবে অবলা প্রাণীদের ব্যবহার করার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি নেটিজেনরা। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং পশুপ্রেমী সংগঠনগুলিও সরব হয়।
বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন মুখ খুললেন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। হোটেলের মালিকের দাবি, এটি কোনও নিষ্ঠুরতা নয়, বরং একটি 'ক্রিয়েটিভ ট্রিবিউট' বা সৃজনশীল শ্রদ্ধাঞ্জলি। তিনি জানান, রাশিচক্রের 'মীন' বা 'পিসেস' রাশির সম্মানে এবং একটি থিম অনুযায়ী এই পানীয়টি তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি শৈল্পিক উপস্থাপনা ছিল এবং এর পিছনে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।
মালিকপক্ষের এই 'সৃজনশীলতার' যুক্তি মোটেও ধোপে টেকেনি সাধারণ মানুষের কাছে। অধিকাংশেরই বক্তব্য, শিল্পের নামে কোনও প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া বা তাদের জীবন নিয়ে খেলা করা অপরাধ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই সঞ্জয় দত্তকে ট্যাগ করে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর রেস্তোরাঁয় এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে? সমালোচকদের দাবি, সস্তা প্রচার পাওয়ার জন্যই এমন রুচিহীন কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি নজর কেড়েছে পশু অধিকার রক্ষা কর্মীদেরও। তাঁরা ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে এই রেস্তোরাঁটির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলননি সঞ্জয় দত্ত। এর মধ্যেই রেস্তোরাঁ কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিবৃতি এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, 'আমরা স্বীকার করছি যে, আমাদের উদ্দেশ্য যা-ই থাকুক না কেন, মানুষ বিষয়টিকে সব সময় সেভাবে নাও দেখতে পারে। আমরা যে প্রতিক্রিয়াগুলো পেয়েছি তা অত্যন্ত যৌক্তিক; এটি আমাদের নতুন করে ভাবার এবং ভুল সংশোধনের সুযোগ করে দিয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে আমরা এই পানীয়টি পরিবেশন করা অবিলম্বে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হল ভবিষ্যতে গ্রাহকদের এমন কিছু উপহার দেওয়া যা হবে দায়িত্বশীল, সংবেদনশীল এবং সবার জন্য স্বস্তিদায়ক।'















