১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া করণ জোহরের আইকনিক ছবি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক। রাহুল, অঞ্জলি আর টিনার সেই ত্রিকোণ প্রেম, অনবদ্য গান আর স্টাইল স্টেটমেন্ট আজও সিনেপ্রেমীদের মনে তাজা। তবে সম্প্রতি এই ছবির টাইটেল ট্র্যাকের শুটিং নিয়ে এক মজার অথচ হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন ছবির কোরিওগ্রাফার ও পরিচালক ফারহা খান। অভিনেত্রী তনিশা মুখার্জি-র সঙ্গে এক সাম্প্রতিক আড্ডায় ফারহা জানান, স্কটল্যান্ডের হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচতে খোদ কাজল  থেকে শুরু করে সেটের সবাই নাকি ডাস্টবিনের প্লাস্টিক বা আবর্জনার ব্যাগ পরে শুটিং করেছিলেন!


তনিশা  মুখার্জির সঙ্গে স্মৃতিচারণ করার সময় ফারহা মনে করিয়ে দেন যে, ছবির প্রধান অভিনেত্রী কাজলের বোন হিসেবে তনিশাও সেবার স্কটল্যান্ডে শুটিং সেটে হাজির ছিলেন। ফারহা বলেন, “তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে, তুমি কাজলের সঙ্গে ওই আউটডোরে গিয়েছিলে। সেখানে তখন আক্ষরিক অর্থেই মাইনাস ডিগ্রি, হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা! আমরা সবাই ঠাণ্ডায় প্রায় মরেই যাচ্ছিলাম। আর ঠিক সেই সময় বাঁচার জন্য আমরা সবাই শরীরে ‘গার্বেজ ব্যাগ’ বা আবর্জনার প্লাস্টিক ব্যাগ জড়িয়ে নিয়েছিলাম। কোনও এক অদ্ভুত কারণে সেটে কেউ একজন পরমার্শ দিয়েছিল যে, শরীরে এই প্লাস্টিকগুলো শক্ত করে বেঁধে নিলে নাকি আর ঠাণ্ডা লাগবে না!”

 

 

পর্দায় ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর টাইটেল ট্র্যাকে শিফন শাড়ি পরে কাজল আর মিনি স্কার্ট পরে রানি মুখার্জিকে যতটা গ্ল্যামারাস লেগেছিল, তার নেপথ্যে পর্দার পেছনে যে টিমকে ডাস্টবিনের প্লাস্টিক পরে কাঁপতে হয়েছিল— তা বোধহয় এতদিনে প্রথমবার জানতে পারলেন ভক্তরা।

শুটিংয়ের নস্টালজিয়ার পাশাপাশি ফারহা খানের ব্যক্তিগত জীবনেও এখন এক বড় উৎসবের আমেজ। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে ফারহা জানিয়েছেন, ওঁর তিন সন্তান — ডিভা, অ্যানিয়া এবং সিজার হাই স্কুল পাশ করেছেন অর্থাৎ গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন।

নিজের ইনস্টাগ্রামে কনভোকেশন বা সমাবর্তন অনুষ্ঠানের বেশ কিছু দুর্দান্ত ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন ফারহা। যেখানে ওঁর তিন সন্তানকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নীতা আম্বানি এবং ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু-র সঙ্গে পোজ দিতে দেখা গেছে। ২০০৪ সালে ‘ম্যায় হুঁ না’ ছবির এডিটর ও পরিচালক শিরীষ কুন্দরের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফারহা। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে ওঁর এই তিন সন্তানের জন্ম হয়। ২০১০ সালে ফারহার ‘তিস মার খান’ ছবির এন্ডিং ক্রেডিটেও এই তিন খুদেকে একবার স্ক্রিনে দেখা গিয়েছিল। এত বছর পর তাদের বড় হয়ে ওঠার এই গ্র্যাজুয়েশন পোস্টটি এখন নেটপাড়ায় বেশ ভাইরাল।