রামানন্দ সাগরের কালজয়ী ধারাবাহিক ‘রামায়ণ’ -এ রামের চরিত্রে অভিনয় করে আপামর ভারতবাসীর মনে প্রায় ঈশ্বরের আসন পেয়েছিলেন অভিনেতা অরুণ গোভিল। এত বছর পর আবারও রুপোলি পর্দায় রামায়ণের মহাকাব্যিক গল্প নিয়ে আসছেন ‘দঙ্গল’ ছবিখ্যাত পরিচালক নীতীশ তিওয়ারি। তবে এবার আর রাম নয়, নীতীশের এই ম্যাগনাম ওপাস-এ শ্রীরামের পিতা অর্থাৎ ‘রাজা দশরথ’-এর ভূমিকায় দেখা যাবে অরুণ গোভিলকে।

 

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হাই-প্রোফাইল চরিত্রটি নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। তিনি জানালেন, প্রথমে নাকি এই চরিত্রে অভিনয় করতে একেবারেই রাজি ছিলেন না তিনি!


চরিত্রটি বেছে নেওয়ার পেছনের আসল গল্প খোলসা করে অরুণ গোভিল বলেন -“হ্যাঁ, নতুন 'রামায়ণে' আমি রামের পিতা রাজা দশরথের চরিত্রে অভিনয় করছি। তবে সত্যি বলতে, শুরুতে আমি এই চরিত্রটি করতে মোটেও রাজি ছিলাম না। কিন্তু ছবির পরিচালক নীতীশ তিওয়ারি নাছোড়বান্দা ছিলেন। ওনারা আসলে আমাদের পুরোনো ‘রামায়ণ’-এর আবেগ এবং নস্টালজিয়ার সাথে এই নতুন ছবির একটা আত্মিক সংযোগ বা কানেকশন তৈরি করতে চেয়েছিলেন। সোজা কথায়, আমাদের সেই রামায়ণের সাথে একটা যোগসূত্র তৈরি করতে চেয়েছিল নীতীশ। শেষমেশ ভেবে দেখলাম যদি আমার মনে হতো এটা করা ভুল, তবে আমি রাজি হতাম না।”

অতীতে রামের চরিত্র করার পর অন্য কোনও পৌরাণিক চরিত্রে অভিনয় করার এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও মনে করিয়ে দেন অরুণ। তিনি জানান, অতীতে যখন অভিনেতা জিতেন্দ্র ‘লব কুশ’ ছবিতে রামের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, তখন নির্মাতারা জোর করে অরুণকে ‘লক্ষ্মণ’-এর চরিত্রে কাস্ট করেছিলেন। স্মৃতিচারণ করে অভিনেতা বলেন, “আমি তখন প্রযোজককে বুঝিয়েছিলাম যে ‘রাম’ করার পর আমার লক্ষ্মণ হওয়াটা দর্শক ঠিকভাবে নেবে না, এটা করা উচিত নয়। কিন্তু ওরা শোনেনি। আমি বাধ্য হয়ে বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে, চলো করা যাক।’ কিন্তু তারপর কী হয়েছিল মনে আছে? ছবিটা সিনেমা হলে একদিনও চলেনি! আজ কেউ ওই ছবিটার নাম পর্যন্ত জানে না।” তবে রাজা দশরথের চরিত্রের ক্ষেত্রে তেমনটা হবে না বলেই ওঁর বিশ্বাস।

নীতীশ তিওয়ারির এই ‘রামায়ণ’ স্রেফ একটি সিনেমা নয়, এটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জুয়া হতে চলেছে। ছবির ভিজ্যুয়াল এফেক্টস (ভিএফএক্স), দুর্দান্ত অ্যাকশন সিকোয়েন্স এবং সেট ডিজাইনের জন্য জলের মতো টাকা খরচ করা হচ্ছে। এই বছরের শুরুর দিকে ছবির অন্যতম প্রযোজক নমিত মালহোত্রা  এক বিস্ফোরক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন যে, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির দুটি পার্ট মিলিয়ে মোট প্রোডাকশন খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা, যা এককথায় নজিরবিহীন।

ছবির কাস্টিং নিয়ে ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় তুমুল হাইপ তৈরি হয়েছে। ছবির প্যান-ইন্ডিয়া আবেদন বাড়াতে ভারতের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির সেরা তারকাদের এক সুতোয় বেঁধেছেন পরিচালক:

রাম: রণবীর কাপুর ।

সীতা: দক্ষিণী অভিনেত্রী সাই পল্লবী।

রাবণ: ‘কেজিএফ’ ছবি খ্যাত দক্ষিণী তারকা যশ।

মন্দোদরী: কাজল আগরওয়াল।

লক্ষ্মণ: টেলিভিশন ও ওটিটি দুনিয়ার জনপ্রিয় মুখ রবি দুবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডের সাথে দক্ষিণী ছবি ইন্ডাস্ট্রির কোলাবোরেশন বক্স অফিসে ১০০% সফল প্রমাণিত হয়েছে। তার ওপর রামের ভূমিকায় রণবীর কাপুরের লুক এবং রাজা দশরথের আসনে স্বয়ং অরুণ গোভিলের উপস্থিতি— সব মিলিয়ে ৪,০০০ কোটির এই মহাকাব্যিক প্রজেক্ট দেখার জন্য এখন চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছেন দর্শকরা।