অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন সম্প্রতি তাঁর বেটার হাফ সৌম্য মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। আর সেখান থেকে ফেরার সময়ই ইরান-ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে দীর্ঘ সময় আটকে পড়েন প্যারিসে। সেই বিপদ কাটিয়ে কিছু দিন হল তাঁরা দেশে ফিরেছেন। তবে কেবল এই ঘটনা নয়, এই ট্রিপে গিয়ে আরও এক বিরল ঘটনার সাক্ষী রইলেন তাঁরা। আর সেই অভিজ্ঞতাই এদিন সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী।
কী ঘটেছে? সন্দীপ্তা সেন এবং সৌম্য মুখোপাধ্যায় নরওয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। আর উত্তর মেরুর কাছাকাছি অবস্থিত এই জায়গাটি যেমন একদিকে মধ্যরাতের সূর্যের জন্য বিখ্যাত, তেমনই নর্দার্ন লাইটসের জন্যও। সন্দীপ্তা জানান যখন তাঁরা এই ট্রিপ প্ল্যান করেছিলেন, চেয়েছিলেন অন্তত এক দিন যেন এই অপরূপ দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে পারেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর ঘটে যায় এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
অভিনেত্রী এদিন নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, 'অনেকেরই স্বপ্ন থাকে নর্দার্ন লাইটস দেখার। আমাদেরও ছিল। ট্রিপটা যখন প্ল্যান করছিলাম, ভাবছিলাম অন্তত একটা দিন যেন দেখতে পাই। কিন্তু প্রকৃতি আমাদের চমকে দিল।'
কী ঘটেছে? একদিন নয়। পাঁচ দিন তাঁরা মেরু জ্যোতির সাক্ষী থেকেছেন। অভিজ্ঞতা জানিয়ে সন্দীপ্তা লেখেন, 'একদিন নয়, পুরো পাঁচটা রাত দেখলাম। তার মধ্যে ৪ দিন টানা। আমি আর সৌম্য বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না এটা সত্যি নাকি স্বপ্ন। তখনই বুঝলাম প্রকৃতি আমাদের ঠিক ততটাই ভালবাসে, যতটা আমরা প্রকৃতিকে ভালবাসি।'
এই পোস্টের সঙ্গে অভিনেত্রী একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেছেন। সব ক'টি ছবিতেই আকাশ জুড়ে সবুজ আলোর ছটা। আর তার নিচে কখনও একা, কখনও জুটিতে পোজ দিয়েছেন তাঁরা। বরফে ঢাকা চারিদিক, তার মধ্যে তাঁরা এই অপরূপ দৃশ্যের সাক্ষী ছিলেন। কেবল ছবি নয়, বেশ কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করেছেন এদিন অভিনেত্রী।
স্বামী সৌম্য মুখার্জির সঙ্গে নরওয়ে সফরে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু হয় তাঁদের। গত রবিবার প্যারিসে এসে পৌঁছান তাঁরা। আর সেখানেই ঘটে বিপত্তি। প্যারিস থেকে কলকাতা ফেরার সমস্ত বিমান পরিষেবা এই মুহূর্তে বন্ধ। তাই প্যারিসেই আটকে পড়েছেন সৌম্য-সন্দীপ্তা। মধ্য এশিয়ার উত্তাল পরিস্থিতির জেরে ঘটেছিল এমনটা। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এই খবর নিজেই দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে এবার নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা। শনিবার সমাজমাধ্যমে সন্দীপ্তা ফেরার খবর জানিয়ে লেখেন, 'যুদ্ধের কারণে ৩ মার্চ থেকে আমরা প্যারিসে আটকে ছিলাম। আমাদের প্যারিস-আবুধাবি-কলকাতা ফ্লাইটটি বারবার বাতিল হয়ে যাচ্ছিল। কয়েক দিনের অনিশ্চয়তা আর অনেক পরিবর্তনের পর, অবশেষে পোল্যান্ড এবং দিল্লি হয়ে অন্য একটি রুটে আমরা ফিরতে পেরেছি। ফিরে আসতে পেরে কৃতজ্ঞ। বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাকি সবাই যেন দ্রুত নিরাপদে তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারেন, সেই প্রার্থনা করি।'
