ভোটের বাজারে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সেই চর্চিত সংলাপ কার না মনে আছে? “সমুদ্রের সঙ্গে আকাশ মিশে যেতে পারে, গঙ্গার স্রোত গতিপথ বদলে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়তে পারে, এমনকী অনুপম খেরের টাকেও চুল গজিয়ে উঠতে পারে, কিন্তু বাংলায় তৃণমূল আর ফিরবে না!” নির্বাচনের সময় রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তোলা এই চরম টিপ্পনিটি যে খোদ বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খের -এরও দারুণ মনে ধরেছিল, আজ তা হাতেনাতে প্রমাণিত হল।
২৬ বছর পর বাংলা ছবি প্রযোজনা করতে কলকাতায় পা রেখেই একের পর এক রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক দিচ্ছেন অনুপম। গত ২৬শে জুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নবান্নে দেখা করার পর, আজ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসলেন এই অভিনেতা-প্রযোজক। আর সেখানেই নিজের ‘টাক’ এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদল নিয়ে শমীকের সঙ্গে ওঁর রসিকতা এখন নেটপাড়ার সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়!
বৈঠকের এক ফাঁকে নিজেই হেসেই আকুল হয়ে শমীক ভট্টাচার্যের সেই পুরনো ‘টাক-বিতর্ক’ টেনে আনেন অনুপম খের। সমাজমাধ্যমে আগেও এই নিয়ে শমীককে বাহবা দিয়েছিলেন শাহরুখের একাধিক ছবির এই সহ-অভিনেতা। আজ মুখোমুখি হয়ে অনুপম বলেন, ওঁর নিজের টাক নিয়ে এমন বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতা শুনে তিনি ভারী আমোদ পেয়েছিলেন।
অনুপমের এই স্পিরিটকে কুর্নিশ জানিয়ে স্মিত হেসে শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা বলেন, “রাজনৈতিক নেতাদের মুখে শুধুই খটখটে, নীরস রাজনীতির কথা শুনতে শুনতে মানুষের একঘেয়ে লাগে। আর যখন আমি এই মন্তব্যটা করেছিলাম, তখন রাজ্যে ভোট আসন্ন। তাই একটা দারুণ ‘পাঞ্চ’ দিয়েছিলাম যা দ্রুত আমজনতার মনে ছুঁয়ে যায়। তাছাড়া অনুপম খের নামটা তো পশ্চিমবঙ্গেও অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয়। এ রাজ্যের বহু মানুষ আপনার অন্ধ ভক্ত, তাই আপনার নামটাই মাথায় এসেছিল... আর দেখলেন তো, আমার কথাই সত্যি হল, তৃণমূল এ রাজ্যে আর সরকার গঠন করতে পারল না!”
শোনামাত্রই ঈষৎ মাথা নেড়ে, শমীক ভট্টাচার্যের দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে অনুপম খের চরম ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বসেন, “ভাল-ই হয়েছে যে তা (তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন) হয়নি। প্রার্থনা করুন, আমার টাকে যেন আর কোনওদিনও চুল না গজায়!”
টাক এবং তৃণমূলের এই তুলনা টেনে অনুপম যে নতুন রাজ্য সরকারকে ঠিক কতটা বড় স্বস্তি ও খোঁচা দিলেন, তা বোঝার জন্য কোনও পুরস্কারের প্রয়োজন নেই। সাক্ষাৎ শেষে নতুন বিজেপি রাজ্য সরকার এবং রাজ্য সভাপতিকে মনভরে শুভকামনা জানান অভিনেতা।
স্রেফ রাজনীতির আড্ডা বা রসিকতাই নয়, এদিনের বৈঠকে স্থান পেয়েছে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিও। দীর্ঘ ২৬ বছর পর টলিউডে ফিরদৌসুল হাসানের সঙ্গে ‘শুরু থেকে শুরু’ ছবির মাধ্যমে কামব্যাক করা অনুপম খের বাংলার সাংস্কৃতিক মানোন্নয়ন নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। আগামী দিনে বাংলার থিয়েটার, লোকশিল্প ও নাট্যজগৎকে যাতে আরও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে কীভাবে নতুন শিল্পীদের প্ল্যাটফর্ম দেওয়া যায়, তা নিয়ে একগুচ্ছ ইতিবাচক রূপরেখা তৈরি হয়েছে এই বৈঠকে।














