কঙ্গনা রানাওয়াতের হাত ধরে শুরু হওয়া একতা কাপুরের সুপারহিট ও বিতর্কিত রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ’ এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে ওড়ানো শুরু করেছে। গত শনিবার থেকেই স্ট্রিম হওয়া এই শো-এর দ্বিতীয় সিজনের সঞ্চালনার দায়িত্বে রয়েছেন কোরিওগ্রাফার-পরিচালক ফারহা খান এবং অভিনেতা রিতেশ দেশমুখ। কিন্তু শো শুরু হতে না হতেই মাত্র কয়েকদিনের মাথায় এমন এক ভয়ঙ্কর বিতর্ক সামনে এসেছে, যা শুনে পুরো দেশের দর্শকদের রক্ত টগবগ করে ফুটছে!

ক্যামেরার সামনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে গণধর্ষণ সম্পর্কে নিজের একটি ভীষণ সংবেদনশীল ও নোংরা মন্তব্যকে স্রেফ ‘রসবোধ’ এবং ‘রসিকতা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা রাম কাপুর! যার জেরে সেটের ভেতরেই ওঁর ওপর চিৎকার করে ফেটে পড়লেন ডিজিটাল ক্রিয়েটর শ্রেয়া কালরা।

শো সঞ্চালক ফারহা খান রাম কাপুরের পুরনো একটি মারাত্মক বিতর্কিত মন্তব্য টেনে আনেন, যেখানে অভিনেতা ওঁর ছবির পরপর প্রচার অনুষ্ঠানের যোগ দেওয়ার ক্লান্তি বোঝাতে গিয়ে ওঁর অবস্থাকে ‘গ্যাং-রেপ’ বা গণধর্ষণের হওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন! এই নোংরা মন্তব্যের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে ফারহা রামকে বলেন, “আপনার এই কথা শুনে আপনার ভক্তরা চরম আঘাত পেয়েছিলেন। অনেকে তো এও বলেছেন যে, ওজন কমানোর সঙ্গে সঙ্গে আপনি বোধহয় আপনার মানসিক ভারসাম্য বা বুদ্ধিটাও হারিয়ে ফেলেছেন!” পাশে দাঁড়িয়ে সহ-সঞ্চালক রিতেশ দেশমুখও মনে করিয়ে দেন, “আপনি যখন এই ধরণের শব্দ ব্যবহার করেন, ওটার সমাজ এবং আপনার ভক্তদের ওপর অত্যন্ত কুৎসিত প্রভাব পড়ে।”

সমালোচনার মুখে পড়ে রাম কাপুর অনুশোচনা প্রকাশের নাটক করলেও ওঁর আসল রূপ বেরিয়ে আসে পরের বক্তব্যেই। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তাঁর সাফাই, “এটা আসলে আমার সেন্স অফ হিউমার অর্থাৎ রসবোধ, আমি চিরকালই এইরকম। আর  এটা তো কোনওদিনও বদলানো যাবে না। হ্যাঁ, সেদিন আমার বাচ্চার বয়সী ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বসে আমি অনেক কিছু শিখেছিলাম। কিন্তু ওটার জন্য আমি জীবনে সিরিয়াস বা গম্ভীর হয়ে যাব না। মানুষের উচিত শিক্ষা নেওয়া এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়া। এর জন্য নিজের হাসি, আনন্দ, ঠাট্টা হারিয়ে ফেলার কোনও মানে হয় না।”

রাম কাপুরের এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসংবেদনশীল বয়ান শুনে লক আপ-এর অন্য প্রতিযোগী তথা ইনফ্লুয়েন্সার শ্রেয়া কালরা নিজের রাগ ধরে রাখতে পারেননি। ক্যামেরার সামনেই ৫২ বছরের অভিনেতাকে নজিরবিহীনভাবে তোপ দেগে শ্রেয়া বলেন, “আপনার বয়স এখন ৫২ বছর, আপনি আমার বাবার বয়সী! এই বয়সে এসেও আপনি বলছেন আপনি এখনও শিখছেন আর এগিয়ে যাচ্ছেন? গণধর্ষণ-কে একটা রসিকতা হিসেবে ব্যবহার করছেন? এটা কোনও ঠাট্টা? একটা মেয়ের সঙ্গে যখন এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে, ওঁর মনের ওপর দিয়ে কী যায়, সেসবের বিন্দুমাত্র ধারণা আছে আপনার? দায় স্বীকার করার বদলে আপনি বলছেন শিখে এগিয়ে যাবেন! এত বড় একটা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে এই কথা বলতে আপনার লজ্জা করে না?”

 

 

শ্রেয়ার এই রণংদেহী রূপের সামনেও রাম কাপুর অদ্ভুতভাবে নির্বিকার ও শান্ত ছিলেন। অত্যন্ত অহঙ্কারের সঙ্গে রাম জবাব দেন, “আশা করি,  মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত একজন জেদি বাচ্চার মতোই থাকব আমি এবং সারাজীবন শিখব। তোমার নিজের চিন্তাভাবনা রয়েছে, আমার নিজের।” ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন স্তম্ভিত ফারহা খানকে বলতে শোনা যায়, “হে ঈশ্বর!”

রাম কাপুরের এই জঘন্য মানসিকতা দেখে শো-এর বাকি প্রতিযোগী— সুনীতা আহুজা, ধীরাজ ধুপার, শিবাঙ্গি জোশি-রাও যারপরনাই অস্বস্তিতে পড়ে যান। সেইমুহূর্তে সেটের কেউ একটাও কথা বলেননি বা হাসেননি। ফারহা খান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও নেটিজেনরা রাম কাপুরের ওপর চরম ক্ষিপ্ত।

টুইটারে একজন লিখেছেন, “বাকি প্রতিযোগীদের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ওরা কতটা স্তম্ভিত। ফারহা এই জঘন্য লোকটার প্রশংসা করে ড্যামেজ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করলেও লাভ নেই।” অন্য একজন শ্রেয়াকে সমর্থন করে লিখেছেন, “শ্রেয়া একদম ঠিক কথা বলেছে। ও সবসময় সত্যি কথা বলে, জানি না কেন লোকে ওঁকে ট্রোল করে। ও এই শো-এর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী হতে চলেছে।”