আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে বলিউড অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডি বিনোদন জগতে গায়ের রঙ নিয়ে প্রচলিত সংকীর্ণ মানসিকতা এবং নিজের লড়াইয়ের কথা ভাগ করে নিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে তাঁকে ফর্সা দেখানোর জন্য শরীরের বিভিন্ন অংশে মেকআপ করতে বাধ্য করা হত।

সমীরা বলেন, "একজন অভিনেত্রী এবং নারী হিসেবে আমাকে সবসময় অনুভব করানো হতো যে আমাকে আরও ফর্সা হতে হবে। অদ্ভুত কারণে সবাই আমাকে খুব ফর্সা মেকআপ করে দিত। এমনকী শরীরের যেসব অংশ উন্মুক্ত থাকত, সেখানেও মেকআপের প্রলেপ দিতে হত। এটা আমাকে ভীষণভাবে মানসিক যন্ত্রণা দিত।" 

তিনি আরও বলেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর মেধা বা অভিনয়ের বদলে তাঁর শারীরিক গঠন এবং উচ্চতা নিয়েই বেশি আলোচনা হতো। লম্বা এবং ছিপছিপে না হওয়ার কারণে তাঁকে বারবার কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে।

অভিনয় জীবনের শুরুতে নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে প্রতিনিয়ত বহু বাঁকা কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে। সেই সময় তাকে বারংবার বোঝানো হয়েছিল যে তিনি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লম্বা এবং মোটা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাঁর অভিনয় দক্ষতা বা প্রতিভার চেয়েও বেশি চর্চা হয়েছে তাঁর শরীর গড়ন নিয়ে। বর্তমানে তিনি পুরনো দিনে ফিরে তাকালে অবাক হয়ে ভাবেন, কেন এই ধরনের মানসিকতাকে তিনি সেদিন প্রশ্রয় দিয়েছিলেন? তবে সেই সময় বিনোদন জগতের এটাই ছিল অলিখিত নিয়ম।

কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় শুধুমাত্র সন্তানদের মানুষ করার জন্য অভিনয় জগত থেকে বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে এই দীর্ঘ বিরতির কারণে অনেকটা কাজ হাতছাড়া হওয়ায় মাঝেমধ্যে নিজের মনে আক্ষেপ জাগে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাঝেমধ্যে মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করেন ঠিকই, কিন্তু যা হওয়ার ছিল তা তো হয়েই গিয়েছে।

সময়ের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আগের প্রজন্মের অভিভাবকরা যে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেননি বা সমস্যা হিসেবে দেখেননি, আজ সেই ধারণা বদলেছে। বর্তমান সময়ে মানুষ অনেক বেশি সচেতন। লিঙ্গ বৈষম্য, বুলিং বা ট্রোলিংয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে আজকের প্রজন্মের মধ্যে শৈশব থেকেই সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়। তারা অনেক বেশি স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে বড় হচ্ছে।

সমীরা মনে করেন, নারীর ক্ষমতায়ন কেবল সোশ্যাল মিডিয়া বা বাইরের জগতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, এর শুরু হতে হবে নিজের ঘর থেকে। তাঁর মতে, "আপনার মা, বোন বা পরিবারের অন্য সদস্যদের বুঝতে শিখুন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ান। বাড়ির ভিতর থেকেই যদি আমরা একে অপরকে সম্মান ও শক্তি দিতে পারি, তবেই সমাজ বদলাবে।"