চার বছর আগে মার্ভেলের সুপারহিরো দুনিয়ায় সাময়িক প্রত্যাবর্তনের পর এবার স্পষ্ট অবস্থান নিলেন টোবি ম্যাগুয়ের অভিনীত স্পাইডার ম্যান ছবিখ্যাত পরিচালক স্যাম রাইমি। বহুদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো জল্পনা ‘স্পাইডার-ম্যান ৪’-এর বিষয়ে কার্যত ইতি টানলেন খোদ পরিচালক নিজেই!

২০০০-এর দশকের শুরুতে টোবি ম্যাগুয়ার অভিনীত ‘স্পাইডার-ম্যান’ ট্রিলজি পরিচালনা করে সুপারহিরো ঘরানায় এক আলাদা ছাপ রেখেছিলেন রাইমি। সারা বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল তাঁর পরিচালিত ওই তিন ছবি।  সেই সময়েই স্পাইডার ম্যান সিরিজের চতুর্থ ছবির পরিকল্পনাও ছিল তাঁর, যেখানে খলনায়ক হিসেবে থাকতেন ভালচার ও মিস্টিরিও। কিন্তু একের পর এক সৃজনশীল জটিলতা ও সময়সূচি সংক্রান্ত সমস্যায় শেষ পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি ছেড়ে সরে দাঁড়ান তিনি। পরে সোনি সংস্থা এ ছবির রিবুট করে অ্যান্ড্রু গারফিল্ডকে স্পাইডার ম্যান বানিয়ে।

এরপর হাডসন, মিসিসিপি নদীর জল গড়িয়েছে বহুদূর।পরিচালক রাইমি ও ম্যাগুয়ার দু’জনেই আবার মার্ভেল স্টুডিয়োর সঙ্গে কাজ করেন। রাইমি পরিচালনা করেন ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অফ ম্যাডনেস’, আর ম্যাগুয়ার চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন করেন ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এ। সেই থেকেই নতুন করে দানা বাঁধে আশা -তাহলে কি এত বছর পরে ‘স্পাইডার-ম্যান ৪’ কি ফের আলো দেখবে?

কিন্তু বাস্তবটা অন্য। হরর-থ্রিলার ছবি ‘সেন্ড হেল্প’–এর প্রচারে এসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্যাম রাইমি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তাঁর পরিচালনায় ‘স্পাইডার-ম্যান ৪’ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। রাইমি বলেন, তিনি আজও ‘স্পাইডার-ম্যান’ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ভালবাসেন এবং মার্ভেলের প্রযোজকদের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’-এ কাজ করার অভিজ্ঞতার পর মার্ভেল স্টুডিয়োর প্রশংসাও করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে জানান, টোবি ম্যাগুয়ারের পিটার পার্কার ও কির্স্টেন ডানস্টের মেরি জেন ওয়াটসনের সেই জগৎ এখন আর তাঁর হাতে নেই।

রাইমির কথায়, “গল্পটা এখন অন্য পথে এগিয়েছে। অ্যান্ড্রু গারফিল্ড ও টম হল্যান্ডের সংস্করণ আসার পর আমার তৈরি করা ইউনিভার্স কার্যত পর্দার আড়ালেই থেকে গেছে।” তাঁর মতে, যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি নতুন শিল্পীর হাতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দর্শকরা টম হল্যান্ডের গল্পে সম্পূর্ণভাবে ডুবে গিয়েছেন, তখন পুরনো সংস্করণকে ফের টেনে আনা ঠিক হবে না। বরং তিনি গর্বের সঙ্গেই বলেন, “এক সময় আমি দায়িত্ব পেয়েছিলাম, এখন সেই দায়িত্ব অন্যের হাতে তুলে দেওয়াই তো উচিত। আমি সেই মশাল আনন্দের সঙ্গেই হস্তান্তর করেছি।” স্ট্যান লির সৃষ্টি স্পাইডার-ম্যান চরিত্র ও তার দীর্ঘ কমিক ইতিহাসের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন রাইমি।

উল্লেখ্য, ‘নো ওয়ে হোম’-এ ম্যাগুয়ার ও গারফিল্ডের প্রত্যাবর্তন ছিল ২০২১ সালের অন্যতম বড় চমক। যদিও মুক্তির আগে নানা ফাঁস হওয়া তথ্য ও গুঞ্জনে সেই চমক অনেকটাই অনুমেয় হয়ে উঠেছিল। ম্যাগুয়ার দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও, গারফিল্ডকে একাধিক সাক্ষাৎকারে সরাসরি মিথ্যে বলতে দেখা গিয়েছিল তাঁর ফেরার প্রশ্নে।

">

ছবিটি স্পষ্ট করে দেয়, মাল্টিভার্সে ম্যাগুয়ার ও গারফিল্ডের স্পাইডার-ম্যানের জগত এখনও সক্রিয়। তাই ‘স্পাইডার-ম্যান ৪’-এর আশা পুরোপুরি নিভে যায়নি। এমনকি ‘দ্য ব্যাটম্যান: পার্ট টু’-এর চিত্রনাট্যকার ম্যাটসন টমলিন প্রকাশ্যে সেই ছবির চিত্রনাট্য লেখার আগ্রহ দেখিয়েছেন। কির্স্টেন ডানস্ট ও ‘স্যান্ডম্যান’ খ্যাত থমাস হেইডেন চার্চও ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ম্যাগুয়ার নিজেও জানিয়েছেন, তিনি আবারও স্পাইডার-ম্যানের স্যুট পরতে আগ্রহী! ‘অ্যাভেঞ্জার্স: সিক্রেট ওয়ার্স’ ছবিতেও তাঁর উপস্থিতি নিয়ে জল্পনাও চলছে।

তবু সত্যি এটাই যে স্যাম রাইমি নিজে আর সেই ছবির হাল ধরতে চান না। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে পরিষ্কার, টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানই আপাতত অগ্রাধিকার, আর তাঁর নিজের অধ্যায় তিনি সম্মানের সঙ্গেই শেষ করেছেন। যদিও মার্ভেলের মাল্টিভার্স এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। আর সেখানেই হয়তো ভবিষ্যতে আবার কোনও নতুন পথে, নতুন গল্পে, পুরনো স্পাইডার ম্যানের দেখা মিলতেও পারে।