অভিনেতা-প্রযোজক এবং নিজেকে ‘সমালোচক’ বলে পরিচয় দেওয়া কামাল আর খান ওরফে কেআরকের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনার পর কেআরকে দাবি করেছেন, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করছে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। তাঁর বক্তব্য, বলিউডের ছবি, প্রযোজনা সংস্থা ও অভিনেতাদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে করা ধারাবাহিক সমালোচনার কারণেই ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী মহলের রোষের মুখে পড়েছেন তিনি, আর এখন সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে।
কেআরকের আইনজীবীর দাবি, এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি দু’টি আলাদা ফ্ল্যাট লক্ষ্য করে গুলি চালায়। দু’টি আবাসনের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৪০০ মিটার, অথচ ব্যবহৃত অস্ত্রের কার্যক্ষমতা মাত্র ২০ মিটার পর্যন্ত। এই প্রসঙ্গে কেআরকে একটি বিবৃতিতে বলেন, “আমি ওই ব্যক্তিকে চিনি না, কোনও পরিচয়ও নেই। গুলি চালানোর কোনও ইচ্ছা আমার ছিল না। ফেসবুকে মন্তব্য করার কারণেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষ আমাকে টার্গেট করছে। আমার কাছে বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। আমি একজন ব্যবসায়ী এবং বহু বছর ধরে মুম্বইয়ে বসবাস করছি। পালিয়ে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।”
এদিকে বান্দ্রা আদালত কেআরকেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। আদালতে তাঁকে পেশ করার সময় পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে দু’টি গুলি ছোড়ার প্রমাণ মিলেছে এবং একটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গুলি চালানোর পিছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি মুম্বইয়ের আন্ধেরির ওশিওয়ারা এলাকায় ঘটে যাওয়া গুলিচালনার ঘটনার প্রেক্ষিতেই মুম্বই পুলিশ কেআরকেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা যায়, নালন্দা সোসাইটির একটি আবাসনের দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় গুলির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, যদিও এই ঘটনায় কেউ আহত হননি। প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে কোনও সূত্র মেলেনি। পরে ফরেনসিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, কাছাকাছি অবস্থিত কেআরকের বাংলো থেকেই গুলি ছোড়া হতে পারে।
ওশিওয়ারা থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় কেআরকে স্বীকার করেন, তাঁর নামেই রেজিস্টার করা বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে তিনি গুলি ছুড়েছিলেন। তাঁর দাবি, বন্দুক পরিষ্কার ও পরীক্ষা করার সময় কাছাকাছি একটি ম্যানগ্রোভ এলাকাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। তবে প্রবল হাওয়ার কারণে গুলির দিক পরিবর্তিত হয়ে সেই আবাসনে আঘাত হানে। পুলিশ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে।
