১৯৯৮ সালে 'হাম সাথ সাথ হ্যায়' ছবির শুটিং চলাকালীন রাজস্থানের যোধপুর জেলার কঙ্কানি গ্রামে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করার অভিযোগ ওঠে সালমান খানের বিরুদ্ধে। এই দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং বিতর্ককে কেন্দ্র করে রূপোলি পর্দায় তৈরি হতে চলেছে সিনেমা। আর তাতেই মারাত্মক চটেছেন অভিনেতা। 'কালা হিরণ' নামের সেই ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি নোটিস পাঠাল সলমন খানের লিগ্যাল টিম। শুধু তাই-ই নয়, ওই ছবির প্রযোজককে নাকি মৃত্যুর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে সলমনের ফ্যানপেজের পক্ষ থেকে।
এই বিষয়ে প্রযোজক অমিত জানি বলেন, "সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব, সবাই আমাকে জিজ্ঞেস করছে যে সলমন খানের পাঠানো নোটিসের কী জবাব দেব। এর আমি কী জবাব দেব? গত ৩৬ ঘণ্টা ধরে ধারাভি থেকে জোগেশ্বরী পর্যন্ত তাঁর সমস্ত ভক্তরা ১,০০০টি মেসেজ পাঠিয়েছে; যেখানে প্রাণে মেরে ফেলার এবং মুম্বই এলে মাথা কেটে নেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "এমনকী তাদের টুলকিটের মাধ্যমে একটা মেসেজ, সেটা আসল না নকল জানি না—'ডি কোম্পানি'র নামে পাঠানো হয়েছে। বলা হয়েছে ডি কোম্পানি নাকি ছেড়ে কথা বলবে না। তা আমি কার জবাব দেব? সলমন খানের নাম ভাঙিয়ে যে হাজার হাজার গালিগালাজ দেওয়া হচ্ছে, সেই হুমকিগুলোর জবাব দেব নাকি এই নোটিসের জবাব দেব?"
এদিকে সলমন খানের আইনজীবী যুক্তি দেখিয়েছেন যে, কৃষ্ণসার হরিণের মামলাটি বর্তমানে রাজস্থান হাইকোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। তাই এই ছবিটিকে তিনি মানহানিকর এবং ব্যক্তিত্বের অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। নোটিসে সলমন খানের আইনজীবী আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রস্তাবিত এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা মানে ন্যায়বিচারে হস্তক্ষেপ করা এবং এটি সরাসরি আমাদের মক্কেলের ন্যায্য বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে।
ওই নোটিসে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, সলমন খান এই ছবিতে তাঁর নাম, ব্যক্তিত্ব কিংবা তাঁর সঙ্গে জড়িত কোনও কথিত ঘটনার ব্যবহারের অনুমতি বা সম্মতি—কোনওটাই নাকি দেননি। এবার এই আইনি জটিলতা শেষমেশ কোনদিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।















