বলিউডে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করছেন সলমন খান। বক্স অফিসে তাঁর ছবি মানেই শত কোটির ব্যবসা। কিন্তু এই বিপুল স্টারডম আর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার মাঝে দাঁড়িয়েও ‘ভাইজান’ বাস্তব মাটি কতটা পা রেখে চলেন, তা আরও একবার প্রমাণ হল। অভিনেতা পুলকিত সম্রাটের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সলমনের এমনই এক বাস্তবমুখী জীবনদর্শনের কথা, যা সমাজমাধ্যমে মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

২০১২ সালে ‘বিট্টু বস’ ছবি দিয়ে বলিউডে ডেবিউ করেছিলেন পুলকিত সম্রাট। সম্প্রতি 'ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুলকিত জানিয়েছেন, প্রথম ছবি মুক্তির আগে তিনি চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন। ছবি কেমন চলবে, দর্শক তাঁর অভিনয় পছন্দ করবে কিনা- এসব ভেবে রাতে ঘুম আসছিল না তাঁর। ঠিক সেই সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন খোদ সলমন খান।

পুলকিতের দুশ্চিন্তা দেখে সলমন তাঁকে এক চরম বাস্তব সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন। পুলকিতের কথায়, "আমি ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। সলমন ভাই তখন আমার দিকে তাকিয়ে সোজা সাপ্টা ভাষায় বলেন, ‘পুলকিত, আমি সলমন খান। আমার নিজেরই আগামী শুক্রবারের (ছবি মুক্তির দিন) কোনও গ্যারান্টি নেই। তাহলে তুমি নিজেকে কী ভাবো? এই চাপ নিয়ে তুমি কী অর্জন করতে পারবে?’"

সলমনের এই একটি বাক্যেই যেন ম্যাজিকের মতো কাজ হয়েছিল। পুলকিত বুঝতে পারেন, সলমন খানের মতো মেগাস্টার যেখানে বক্স অফিসের সাফল্য নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন না, সেখানে একজন নবাগত হয়ে তাঁর এত চাপ নেওয়ার কোনও মানেই হয় না।

সাক্ষাৎকারে শুধু সলমন খানের পরামর্শই নয়, পর্দার পেছনের ‘ওয়ার্ক এথিক’ বা কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা নিয়েও কথা বলেন পুলকিত। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকের ধারণা, সলমন হয়তো কিছুটা ক্যাজুয়ালভাবে কাজ করেন, কিন্তু পুলকিত এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল বলে উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, সলমন দিনে ২৪ ঘণ্টাই সিনেমা নিয়ে ভাবেন। ঘুমানোর সময়ও তাঁর মাথায় ছবির চিন্তাই ঘোরে। কোনও কোনও দিন মাত্র ৩ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেলেও, ঘুম থেকে উঠেই তিনি প্রজেক্টের কাস্টিং বা বড় অ্যাকশন দৃশ্য কীভাবে নিখুঁত করা যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দেন।

পুলকিত জানান, সলমন খানের থেকে তিনি শুধু অভিনয়ের বা কেরিয়ারের পাঠ নেননি, মানুষ হিসেবেও অনেক কিছু শিখেছেন। বিশেষ করে পরিবারের প্রতি ভাইজানের বিনম্রতা তাঁকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। পুলকিতের কথায়, "এত বড় গ্লোবাল স্টার হতে পারেন, কিন্তু বাড়ির ভেতরে তিনি এখনও সেলিম স্যারের (সেলিম খান) বাধ্য ছেলে। বাবার অনুমতি ছাড়া তিনি একটা আঙুলও নাড়ান না। পরিবারের প্রতি এই নিঃশর্ত ভালবাসা এবং শ্রদ্ধা সত্যিই অনুকরণীয়।"

বর্তমানে বলিউডের বক্স অফিসের সমীকরণ যেখানে প্রতি সপ্তাহে পাল্টাচ্ছে, সেখানে সলমনের এই ‘নেক্সট ফ্রাইডে’ তত্ত্ব যেন কোনও অভিনেতার জন্যই এক চিরন্তন সত্য।