কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিৎ করতে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প 'সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা'। ১০ বছরের কম বয়সী কন্যা সন্তানের নামে অভিভাবকরা এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। একটি পরিবারে সর্বোচ্চ দু'টি অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। তবে, জমজ বা তিন সন্তানের ক্ষেত্রে নিয়মে ব্যতিক্রম রয়েছে।
2
8
এই প্রকল্পে একটি অ্যাকাউন্টে বছরে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা, এবং সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা করা যায়। সরকারি সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় বার্ষিক ৮.২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হয়।
3
8
'সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা' অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে অ্যাকাউন্টে মাত্র ১৫ বছর টাকা জমা করতে হয়। বাকি ৬ বছর কোনও টাকা না দিলেও সুদের ওপর সুদ বাড়তেই থাকে। এই প্রকল্পে জমা টাকার ওপর ভারতীয় আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী আয়ক সম্পূর্ণ ছাড় পাওয়া যায়।
4
8
কিন্তু এই প্রকল্পে বেশি রিটার্ন পেতে একটি কৌশল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। না হলে বেশি টাকা জমা করেও মিলতে পারে কম রিটার্ন। এই প্রকল্পে মাসে সঠিক সময়ে টাকা জমা করতে হয়।
5
8
'সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা'-র নিয়ম অনুযায়ী, আর্থিক বছরের শেষে (৩১ মার্চ) অ্যাকাউন্টে সুদ জমা হলেও, এর হিসাব কিন্তু করা হয় প্রতি মাসের ভিত্তিতে। আর এখানেই লুকিয়ে আসল রহস্য।
6
8
এই বিষয়টিই মোট জমা তহবিলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়ে থাকে। কোনও একটি নির্দিষ্ট মাসের সুদ হিসাব করার সময়, সেই মাসের ৫ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিনের মধ্যে অ্যাকাউন্টে যে সর্বনিম্ন ব্যালেন্স থাকবে, তার ওপরই সুদ ধার্য হয়। অর্থাৎ, যদি কোনও মাসের ৫ তারিখের পর টাকা জমা দেন, তবে সেই টাকার ওপর ওই নির্দিষ্ট মাসে কোনও সুদ পাবেন না।
7
8
উদাহরণ হিসাবে, কেউ যদি ৫ তারিখের আগে প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা করে 'সুকন্যা' অ্যাকাউন্টে জমা দেন তাহলে ওই মাসের পুরো সুদের সুবিধা পাবেন। ৫ তারিখের পরে জমা দিলে, বর্তমান ৮.২ শতাংশ সুদের হার অনুযায়ী, বিনিয়োগকারী ওই মাসে প্রায় ৮৫ টাকা সুদ হারাবেন।
8
8
সামান্য কয়েকদিন দিন দেরি করার জন্য ৮৫ টাকা কম সুদ আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হলেও ২১ বছরের মেয়াদী প্রকল্পে মোট তহবিলের ক্ষেত্রে তা বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। অতএব প্রতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যেই 'সুকন্যাটর টাকা জমা দেওয়া ভাল।