২৯ মার্চ জীবনের রঙ্গমঞ্চ পাকাপাকি ভাবে ত্যাগ করেছেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা টলিউড। শোকপ্রকাশ করেছেন গায়িকা সাহানা বাজপেয়ীও। সেই ঘটনার মাত্র কয়েক দিন পরেই তিনি এমন একটি পোস্ট করলেন যা দেখে মন ভারাক্রান্ত তাঁর অনুরাগীদের। 

কী ঘটেছে? সাহানা বাজপেয়ী এদিন এসরাজ বাজানোর একটি ছবি ছবি পোস্ট করেছেন সমাজমাধ্যমে। সঙ্গে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, 'একদিন আমিও টুপ্ করে চলে যাবো মা-বাবার কাছে। আমার বন্ধুরা আসবে, আমাকে ফুল দেবে কারণ তারা জানে ফুল-পাতা-গাছগাছালি ভালোবেসেছিলাম সারাজীবন। আর ভালোবেসেছিলাম এস্রাজ।' 

তিনি এদিন আরও লেখেন, 'সারেগামার বাইরে বাজাতে পারিনি কোনোদিন। আমার সঙ্গে একটা পুরোনো ভাঙা তারছেঁড়া এস্রাজও দিও কেউ। তার বেঁধে নিয়ে, নেপালদাকে দিয়ে ঠিক করিয়ে নেবো। মন দিয়ে শিখে নেবো ওপারে (যদিও ওপার বলে কিছু নেই)।' (পোস্টদাতার বানান অপরিবর্তিত রাখা হল)

তাঁর এই পোস্টে অনেকেই তাঁকে এই ধরনের কথা লিখতে বারণ করেছেন। এক ব্যক্তি লেখেন, 'আজেবাজে কথাগুলো কি না বললেই নয়?' আরও একজন লেখেন, 'এসব বলবেন না। আপনি, আপনার কণ্ঠ অনেকের বেঁচে থাকার রসদ।' সাহানা বাজপেয়ীর এক অনুরাগী লেখেন, 'শিল্প, শিল্পী মরে না। কিন্তু ম্যাম দয়া করে এই ধরনের চলে যাওয়ার কথা বলবেন না। কষ্ট হয়।' 

প্রসঙ্গত, অভিনেতার প্রয়াণের পর সাহানা বাজপেয়ী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, রাহুলের জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘সহজ কথা’-য় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন অভিনেতা। কিন্তু সাহানা নম্রভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, 'আমার আসলে কিছুই বলার নেই!' জবাবে রাহুল সেই চেনা মিষ্টি হেসে বলেছিলেন, 'বলো বলবে না!' জয়রাজ ভট্টাচার্যের নাটক দেখতে গিয়েই তাঁদের শেষ দেখা। সেখানেও ছিল নিজেদের মতো করে এক চিলতে আড্ডা আর ভিড় এড়িয়ে যাওয়ার গোপন পরিকল্পনা। সাহানা আক্ষেপ করে আরও লিখেছেন, রাহুলের খুব ইচ্ছে ছিল প্রিয়াঙ্কা আর সহজকে নিয়ে সাহানাদের বাড়িতে যাওয়ার। কিন্তু সেই ইচ্ছে অপূর্ণই রয়ে গেল। সাহানার কথায়, এই মেকি দুনিয়ায় রাহুল ছিলেন একেবারেই আলাদা — এক ‘ব্যতিক্রমী’ সত্তা। পোস্টের শেষে সাহানা লিখেছেন, 'এই তুমুল অসময়ে তোমাকে আমাদের দরকার ছিল খুব - কারণ জেলিফিশদের রাজত্বে তুমি ছিলে ব্যতিক্রম। দেখা হবে কোথাও কখনও আবার। আড্ডা হবে। জোরদার— সত্যিকারের আড্ডা।'