রাত পোহালেই ২০২৬ -এর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। তার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে উত্তরবঙ্গে জমিয়ে প্রচার করে এলেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। এই চাঁদিফাটা গরমের মধ্যে চলছে নির্বাচনী প্রচার। কীভাবে নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখছেন তিনি জানালেন আজকাল ডট ইনকে।
একদিকে বৈশাখের দাবদাহ, অন্যদিকে নির্বাচনের আবহে উত্তপ্ত বাংলার আবহাওয়া। এমন অবস্থায় সুস্থ থাকতে রূপাঞ্জনার মূল মন্ত্র 'হাইড্রেটেড' থাকা। অভিনেত্রীর কথায়, "২৩ তারিখে যেহেতু উত্তরবঙ্গে ভোট, সেখান থেকে প্রচার সেরে গতকাল ফিরলাম। উত্তরবঙ্গে কলকাতার থেকে গরমটা তুলনামূলক ভাবে একটু কম। সকালে ফ্লাইটে যাই, তারপর যা হয় আর কী...। দূরের যে জায়গাগুলো, সেখানে যাওয়ার জন্য অনেকটাই ট্রাভেল করতে হয়। হাইড্রেশন এই সময় খুবই দরকার। তাই চা-কফি কম খাচ্ছি যতটা পারা যায়। জল বেশি খাচ্ছি।" তিনি আরও বলেন, "হোটেল বা ইত্যাদিতে থাকলে তো বাড়ির মতো খাবার পাওয়া যায় না, এটা একটা সমস্যা। তবে একবেলা ভাতটা খাচ্ছি। সকালে ভাত খেয়ে বেরিয়ে যাচ্ছি। ভাত, ডাল আর একটু তরকারি কিছু হলেই আমার হয়ে যায়।"
আর পোশাক? সেইদিকেও কি নজর দিয়েছেন? রূপাঞ্জনা বলেন, "সুতির জামা পরছি। সাধারণ জামা দৈনন্দিন জীবনের জন্য যেগুলো ওগুলোই। গরম থেকে বাঁচাবে এমন হালকা জামা। তবে অত ভাবনা চিন্তা করে কিছু করছি না। হয়ে যাচ্ছে। হাতের কাছে যা ছিল সেগুলোই পরেছি। আর তো কদিনের প্রচার।"
ভোটের আগে মানুষের থেকে কেমন সাড়া পেলেন প্রচারে বেরিয়ে? রূপাঞ্জনার কথায়, "SIR একটা বড় ছাপ ফেলেছে মানুষের কাছে। অনেক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটা উত্তরবঙ্গে গিয়েও দেখলাম এবার। কী সাংঘাতিক অবস্থা। মর্মান্তিক একদম। আমাদের রাজ্যকে যে ভাগভাগি করে মানুষের মধ্যে বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হবে সেটা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতো না। এটার জন্য আরও তৃণমূল স্তরে গিয়ে কাজ করতে হতো, তৎপর ছিলাম।" তবে তিনি নিশ্চিত "আবার ক্ষমতায় আসবেই মা মাটি মানুষ।" অভিনেত্রী জোর গলায় বলেন, "মমতা ব্যানার্জিই আসবে নিঃসন্দেহে। বিরোধী, স্বৈরাচারী শক্তি যতই চেষ্টা করুক না কেন, মমতা ব্যানার্জি থাকছেই।"
কেবল নির্বাচনী প্রচার বা মিটিং মিছিল নয়, রূপাঞ্জনা মিত্র কি আগামীতে প্রার্থীও হতে পারেন? এই বিষয়ে তাঁর সাফ জবাব, "সেটা পুরোপুরি সময়ে হাতে। যদি হোলটাইমার হিসেবে রাজনীতি করতে হয় তাহলে সেটাই করা উচিত। দুই নৌকোয় পা দিয়ে চলা যায় না। গ্রাউন্ড লেভেলে কাজ না করে আমি শুটিং করব আর মাঝে মাঝে পরিযায়ী শ্রমিকের মতো গিয়ে দেখা করব সেটা আমার রাজনীতির ধরন নয়। সুতরাং যখনই আমায় বলা হবে তুমি ঝাঁপিয়ে পড় পুরোপুরি ভাবে তখন করব। আমি এখন টেলিভিশন করছি না, ফলে বেশি সময় রাজনীতি দিতে পারছি।"
















