বাংলা সিনেমায় এর আগে এমন ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি। ৫৪টা কাটছাঁটের পর গত মাসেই সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছিল ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ ছবিটি। অবশ্য অ্যাডাল্ট সার্টিফিকেটের সঙ্গে! অর্থাৎ শুধুই প্রাপ্তবয়স্করা দেখতে পারবেন ঋষভ-সৌরভ-পায়েলের ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’। এ ছবির মুক্তি পাওয়ার কথা আগামী ১৪ই নভেম্বর ২০২৫-এ। আগেভাগেই এই ছবি নিয়ে পরিচালক জয়ব্রত দাশের বিধিসম্মতি সতর্কীকরণ ছিল, “সপরিবারে দেখবেন না এই ছবি!” এ ছবিতে রুদ্রনীল ঘোষ, অমিত সাহা, সৌরভ দাস, পায়েল সরকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকায় রয়েছেন ঋষভ বসু। আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে এই ছবি নিয়ে এবার আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি মন খুলে কথা বললেন তাঁর অভিনীত চরিত্র 'শচীন'-কে নিয়েও।

‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এ কেন ঋষভের চরিত্রটির নামকরণের পিছনেও একটি মজার গল্প রয়েছে। অভিনেতার কথায়, “৯৬-এর বিশ্বকাপে শচীনের খেলা দেখতে দেখতে এই শচীনের বাবা-মা তাঁদের সন্তানের এই নাম রেখে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন ব্যাট হাতে তাঁদের ছেলেও মাঠ কাঁপাবে। কিন্তু কপালের এমন ফের, মাঠের বদলে খাট কাঁপায় ছেলে!” হাসতে হাসতে বলে উঠলেন ঋষভ। তাঁর আরও সংযোজন, “এছাড়া শচীন খুব ভাল গাড়ি চালাতে পারে। অলি-গলিগুলো ভাল চেনে। সেইজন্যই দীনবন্ধু (রুদ্রনীল ঘোষ) তাদের দলে শচিন-কে নিয়ে আসে। এছাড়া আরও একটি ব্যাপার আছে, এই দলে সবাই বদমাশ, কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। শচীন কিন্তু এদের থেকে একদম আলাদা। শচীন এই চোর-ডাকাতদের দলে ভিড়েছে স্রেফ এই কারণে যে তার মনে হয় এসব কাজ করাটা খুব ‘কুল’! সিনেমা দেখে তার এই ধারণা হয়েছে। আর এর পাশাপাশি শচীন তাদের দলের সবাইকে বিশ্বাস করে। একটা খুব সহজ ব্যাপার আছে ওর মধ্যে।”
অভিনয়নেতার কথা থেকে আরও জানা যায়, বছর চারেক আগে এই ছবির শুটিং শুরু হয়েছিল। ছবির পরিচালক শহরের এক নামি ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে পাশ করে বেরিয়ে এই ছবির কাজে হাত দেয়। ছবির গল্প শুনেই আগ্রহী হয়েছিলেন ঋষভ। এরপর বাজেট কম থাকায় এ ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি সাউন্ড রেকর্ডিং থেকে সহকারী পরিচালক- সবার আসনেই বসতে হয়েছে তাঁকে। এমনকী, ছবির নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্ব-ও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রত্যেক অভিনেতাকে দৃশ্য বোঝানো, তাঁদের কল টাইম ঠিক করা, তাঁদের সঙ্গে ইউনিটের তাল ঠিক রাখা, সবটাই সামলেছি। আর এসব করে ভারি আনন্দ পেয়েছি। বুঝেছি, অভিনয় ছাড়াও আরও খানিকটা অন্য কিছু আমিও পারি। আমি জোর গলায় বলতে পারি, এই ছবির সঙ্গে যেভাবে জড়িয়ে থেকেছি সার্বিকভাবে, আজ পর্যন্ত নিজের অন্য কোনও ছবির সঙ্গে এভাবে জড়াইনি। বা বলা ভাল সে সুযোগ পাইনি! তাই ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ ছবি আমার কাছে সবসময়ই স্পেশ্যাল থাকবে।”

শেষ করি শুটিংয়ের দু'টো অভিজ্ঞতার কথা বলে। এই ছবির ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য যেদিন শুট হচ্ছে, সেইদিন সারাটা সময় নকল রক্ত মেখে বসেছিলাম আমরা। সারাদিন! গা চিটচিট করছে, অস্বস্তি হচ্ছে...অথচ কিচ্ছু করার নেই। আর দিনের শেষে যখন ফ্রেশ হচ্ছি বাথরুম দেখে মনে হচ্ছিল, রক্তে ভেসে যাচ্ছে!”
“দ্বিতীয় ঘটনাটা তো ভয়ঙ্কর। একদিন শুটিংয়ে বিকেল ৫টা নাগাদ হাজরা মোড়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। পুরনো, লজঝরে গাড়ি, তার উপর স্টিয়ারিং দেন দিকে ঘুরে যায়! ভাবতে পারেন। পাশে তখন কে? রুদ্রনীল ঘোষ। কীভাবে শটটা উৎড়েছিলাম আমি-ই জানি। দরদর করে ঘামছিলাম টেনশনে, এই বুঝি কিছু হয়ে গেল। জোর গলায় বলছি, এর থেকে বিপজ্জনক স্টান্ট কেরিয়ারে এখনও পর্যন্ত করিনি।” কথাশেষে পরপর দুটো বড় শ্বাস ছাড়লেন তিনি ।তারপরেই হাসি চড়িয়ে পড়ল তাঁর চোখেমুখে…
