সম্প্রতি,কলকাতার উত্তম মঞ্চে আয়োজিত হয়ে গেল 'ধারা মঞ্চ উৎসব'। পদ্মভূষণ পণ্ডিত নিখিল ঘোষ এবং পণ্ডিত পান্নালাল ঘোষের অমর সঙ্গীত-উত্তরাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই দুই শিল্পীর অবদান আজও ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে নতুন প্রজন্মের কাছে যে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে, তা যেন আরও একবার প্রমাণিত হল। 

উৎসবের সূচনা হয় এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। উৎসবের আয়োজক শিঞ্জিনী ঘোষের কণ্ঠে 'গুরু বন্দনা' উপস্থিত শ্রোতাদের মন যেন‌ শান্ত করে দেয়। এই আবাহন যেন গুরু-শিষ্য পরম্পরার আবহকেই সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছিল। এরপর পণ্ডিত নয়ন ঘোষ এবং পদ্মশ্রী প্রীতিকণা গোস্বামীর উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

আসরটির প্রথম সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন শিল্পী কোয়েল দাশগুপ্ত নাহা। রাগ 'ভীমপলশ্রী'র রূপ ও রসের আবেগঘন বিস্তার ফুটে ওঠে তাঁর কণ্ঠে। হারমোনিয়ামে হিরণ্ময় মিত্র এবং তবলায় চিরঞ্জিৎ দাশগুপ্তর সংগত তাঁর গায়কীকে এক অনন্য মাত্রা দান করে। এরপর মঞ্চে আসেন পরমানন্দ রায়। বাঁশির সুরে তিনি রাগ 'শঙ্করা'র যে আলাপ ও বিস্তার পরিবেশন করেন, তা ছিল যেমন মাধুর্যপূর্ণ তেমনই নান্দনিক। তাঁর সঙ্গে তবলায় ছিলেন তরুণ প্রতিভা ঈশান ঘোষ।

তৃতীয় অধিবেশনে দেবর্ষি ভট্টাচার্য রাগ 'শুদ্ধ সারং' পরিবেশন করেন। তাঁর গান মন‌ ছুঁয়ে যায় শ্রোতাদের। তাঁর সঙ হারমোনিয়ামে  ছিলেন অনির্বাণ চক্রবর্তী এবং তবলায় চিরঞ্জিৎ দাশগুপ্ত।

অনুষ্ঠানের এক বিশেষ মুহূর্তে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথি পণ্ডিত নয়ন ঘোষ এবং পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীকে তাঁদের দীর্ঘদিনের সঙ্গীত সাধনা ও গানের জগতে অমূল্য অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ হয় পণ্ডিত নয়ন ঘোষের জাদুকরী সেতারের মাধ্যমে। তিনি প্রথমে রাগ 'ঝিঁঝিট' পরিবেশন করেন। সবশেষে লোকসঙ্গীতের চিরন্তন সুর 'গুরু তোমার চরণ পাব বলে' পরিবেশন করে তিনি সমগ্র প্রেক্ষাগৃহকে এক অপার্থিব মায়ার বাঁধনে বেঁধে ফেলেন। একরাশ মুগ্ধতা আর শ্রদ্ধার আবেশ ছড়িয়ে শেষ হয় এই স্মরণীয় সঙ্গীত সন্ধ্যা।